রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

১১৫

আপনার সহকর্মীরা কি আপনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন?

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৯  

অফিসে মানসিক চাপের জন্য আমরা বসকে দায়ী করলেও এজন্য আসলে দায়ী সহকর্মীরা। গবেষণা বলছে সহকর্মীদের দেয়া মানসিক চাপ কর্মজীবীদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়। এক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে সহকর্মীদের ইতিবাচক সামাজিক সমর্থন বেশি জরুরি।

তেল আবিব ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে। 

গবেষকরা ২৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ৮২০ জন কর্মজীবীর ওপর এই গবেষণা চালিয়েছেন। ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষের ওপর ১৯৮৮ সাল থেকে এই গবেষণা চালানো হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

ওইসব কর্মজীবীরা সহকর্মী, বসের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক বজায় রেখে চলে এবং কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। পাশাপাশি এই সময়ে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

গবেষকরা এর সমাপনী টানেন এভাবে যে, মানুষের অত্যধিক মৃত্যু ঝুঁকির জন্য কর্মঘণ্টা কিংবা মন্দ বস নয়, দায়ী সহকর্মীরা। তারা বলেন, যাদের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সামাজিক সমর্থন বেশি তাদের মৃত্যু ঝুঁকি কম। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন নারী। গবেষণার পরিসংখ্যান বলছে, গবেষণার এই সময়টাতে ৫৩ জন নারীর মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল সহকর্মীদের দুর্বল সামাজিক সমর্থন।

অর্থাৎ এই গবেষণার সহজ বার্তা হলো- সহকর্মীদের সামাজিক সমর্থন হলো ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ এবং তা মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।

এ ধরনের আরও একটি গবেষণা পরিচালনা করে কর্মজীবীদের নিয়ে কাজ করা প্লাটফর্ম টাইনি পালস (TINYpulse)। তারা ৪০ হাজার কর্মজীবীকে নিয়ে গবেষণা করে একই ধরনের সমাধানে পৌঁছায়। তারা জানায়, একজন কর্মজীবীর হাসিখুশি থাকার ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ সরাসরি বসের চেয়ে সহকর্মীদের ওপর নির্ভর করে। অন্য আরেকটি গবেষণা দেখায়, তাদের গবেষণায় অংশগ্রহণকারী কর্মজীবীর ৬২ শতাংশের অভিযোগ বসের চেয়ে সহকর্মীরাই তাদের বেশি মানসিক চাপে রাখেন।

অর্থাৎ আপনিও যদি কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপে থাকেন, এটি সম্ভবত আপনার সহকর্মীদের কারণে যারা আপনার পেছনে বা যাদের সঙ্গে আপনার মতের অমিল তাদের সঙ্গে কথা বলে। আপনার বসের কারণে নয়।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –