শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৬   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

সর্বশেষ:
প্রতিবন্ধীদের নিয়ে ‘নেতিবাচক মানসিকতা’ পরিহার করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর। আজ কুড়িগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস। আজ স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ই-পাসপোর্ট চালু: বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘বাংলাদেশ’ নামকরণের ৫০ বছর পূর্ণ হল।
৪৮

এবারে লবণ নিয়ে গুজব সৃষ্টির অপচেষ্টাঃ সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০১৯  

খুব সম্প্রতি একটি কুচক্রী এবং স্বার্থান্বেষী মহল বাজারে লবণ নেই এরকম একটি গুজব ছড়িয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। অথচ দেশে এই মুহূর্তে লবণের কোনো সংকট নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই গুজবের সূত্রপাত সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে। সিলেটের বিয়ানীবাজারে লবণ নিয়ে হঠাৎ করেই একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং সে নিয়ে মোটামুটি একটি লঙ্কাকাণ্ড তৈরি হয়। আতঙ্কিত ক্রেতারা লম্বা লাইন দিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এই সুযোগে কিছু দোকানে হঠাৎ করেই লবণের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। যার ফলশ্রুতিতে ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ কেনা শুরু করেন। অনেককে এক বস্তা পর্যন্তও লবণ কিনতে দেখা গেছে।

বেশিরভাগ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দেশে লবণের কোনো সঙ্কট নেই। লবণের পর্যাপ্ত মজুদ আছে এবং লবণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কিন্তু তারপরেও আতঙ্কিত ক্রেতারা কারো কোন কথা শুনছেন না। তাঁরা যতটুকু নিজেদের প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি লবণ কিনে বাড়িতে মজুদের চিন্তা করছেন।

এদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিসিক জানিয়েছে, লবণ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রেকর্ড পরিমাণ ১৮.২৪ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে লবণের মজুতের পরিমাণ ছিল সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মিলগুলোতে মজুত রয়েছে। তবুও একটা মহল লবণ ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে দেশে লবণের কোনও সংকট নেই—সারাদেশের প্রশাসনকে সেটি জানানো হয়েছে।

লবণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশনের জন্য বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০২-৯৫৭৩৫০৫। যে কেউ এই নম্বরে কল করে তথ্য জানতে পারবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি কুচক্রী এবং স্বার্থান্বেষী মহল পেঁয়াজের মতো এখন লবণ নিয়েও ষড়যন্ত্রে নেমেছে। অনেকে বলছেন, তারা লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে, দোকান থেকে বেশি পরিমাণ লবণ কিনে পুকুরে বা নদীতে ফেলে দিচ্ছে, যাতে করে দেশে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সকলে লবণ ব্যবসায়ী কিংবা দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে, আপনারা এর প্রতিকারে এগিয়ে আসুন। এই জঘন্য ষড়যন্ত্র আমাদেরকেই রুখে দিতে হবে। সচেতন সকলের প্রতি অনুরোধ, সবাই মিলে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ হোন।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –