ব্রেকিং:
দিনাজপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ হাজার ৬১৯ জনে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ।
  • রোববার   ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৩ ১৪২৭

  • || ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
এ মাসে ৬৬ হাজার পরিবার পাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার চিরিরবন্দরে রসুনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এখন দৃশ্যমান নতুন ৬ মেডিকেল কলেজের মাস্টারপ্ল্যান শীতে জবুথবু পঞ্চগড়, চলছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ

করোনার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২০  

মহামারি করোনার মধ্যেও তারল্য ও আস্থার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের উভয় পুঁজিবাজার। লেনদেনে গতি বাড়ায় গত ছয় মাসে (৩১ মে-২৬ নভেম্বর) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৯৪ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। 

এদিকে লেনদেন বাড়ায় গত ছয় মাসে সূচক ও লেনদেনে বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় ডিএসইর সাধারণ সূচক ৮০৯ পয়েন্ট এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক দুই হাজার ৭৩৮ পয়েন্ট বেড়েছে। পাশপাশি গড় লেনদেন ও বাজার মূলধনেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে আরো জানা গেছে, করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে দুই মাস বন্ধ থাকার পর ৩১ মে পুনরায় লেনদেন শুরু হয়। সে সময় ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স চার হাজার ৬০ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। গত ৬ মাসে (২৬ নভেম্বর পর্যন্ত) ডিএসইর সূচক ৮০৯ পয়েন্ট বেড়ে চার হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এছাড়া ডিএসইর অন্যান্য সূচকের মধ্যে শরিয়াহ্ সূচক ১৬৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩২৪ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১১১৮ ও ১৬৮৯ পয়েন্ট অবস্থান করছে। 

গত ৩১ মে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ১৬ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। আর ছয় মাসে (২৬ নভেম্বর পর্যন্ত) সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ১০ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ডিএসইর বাজার মূলধন ৯৪ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা বেড়েছে।

এদিকে শুধু ডিএসই নয়, গত ছয় মাসে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দুই হাজার ৬৩৩ পয়েন্ট বেড়েছে। ৩১ মে সিএসইর সূচক ছিল ১১ হাজার ৩২৮ পয়েন্ট, গত ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত এটি বেড়ে ১৩ হাজার ৯৬১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে বড় আর্থিক জরিমানা ও কিছু কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাতিল করেছে। 

এছাড়া ব্যাংকগুলোতে সুদের হার কমিয়ে দেয়ায় শেয়ারবাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ায় বাজারে মূল্যসূচক, বাজার মূলধন ও আর্থিক লেনদেনে বড় উন্নতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, নতুন কমিশন শেয়ারবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যায়কারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনছেন। এ ধরনের বিষয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের সুদের হার কমে যাওয়া এবং সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় করোনাকালেও পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মত দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার বলে মনে করেন ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান।  তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা ছিল। তিনি পুঁজিবাজারকে নিয়ে সকলকে জিরো টলারেন্সে থাকতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পুঁজিবাজারে যত রুলস-রেগুলেশনস আছে তার কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। যে যত শক্তিশালী হোক তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হার কমে যাওয়া এবং বর্তমান কমিশনের সৎ ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা কাটছে, একই সঙ্গে তারল্য বাড়ছে। তাই এই সময়ে কমিশনের উচিত হবে বাজারে ভালো কোম্পানিকে নিয়ে আসা যাতে করে বাজার আরো গতিশীল হয় বলে তিনি জানান।