রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

২৩১

কর্মকর্তাদের অনিয়ম ঢাকতেই ডোমারে নেসকোর ১২ কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতি

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০১৯  

নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের নীলফামারীর ডোমার অফিসের কর্মকর্তাদের ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ঢাকতে সেখানকার ১২ জন কর্মচারীকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ঘটনাটি সুষ্ঠু তন্তের মাধ্যমে  চাকরি পুনর্বাহালের দাবি করেছে  ডোমার নেসকোর চাকরিচ্যুত ১২ জন পিসরেট কর্মচারী। 

রবিবার (৩ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে চাকরিচ্যুত ওই কর্মচারীরা অভিযোগ তুলে জানায় পিডিবির কাছ নদার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড  দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন ডোমার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ব্যক্তিরা। তারা নানা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রি ও মিল-কলকারখানাসহ বিভিন্ন গ্রাহককে অবৈধ সুবিধা দিয়ে লাখ লাখ টাকার বিদ্যুৎ চুরি করেন। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সিস্টেমলস। ওই সিস্টেমলস মাত্রা সহনীয় রাখতে সাধারন গ্রাহকদের ওপর ভৌতিক বিল চাপিয়ে দিতে মৌখিক নির্দেশ দেন কর্মচারীদের। এতে কর্মচারীরা অসম্মতি প্রকাশ করলে ২০১৭ সালে ২ সেপ্টেম্বর লিখিত আদেশ প্রদান করে নির্দেশ দেয়া হয় কর্মচারীদের। ওই আদেশে একজন গ্রাহকের ব্যবহৃত ইউনিটের অতিরিক্ত ১০০ ইউনিট করে চাপিয়ে দিতে লিখিত নির্দেশে বলা হয়। 

এদিকে এমন ভৌতিক বিলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে ডোমারের বিভিন্ন বাসাবাড়ির বিদ্যুতের গ্রাহরা। এ নিয়ে শতশত বিদ্যুতের গ্রাহক দুদুকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। গ্রাহকরা দুদকের কাছে যে অভিযোগ করেছেন তাতে ডোমার অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের দায়ি করে।

এ নিয়ে গত বছরে ২৩ অক্টোবর সকাল ১১টা হতে বেলা তিনটা পর্যন্ত ডোমার উপজেলা পরিষদ হল রুমে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো: জয়নুল বারী।নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: উম্মে ফাতিমা।ডোমারে দুদক গন শুনানি করলে ডোমার অফিসের কর্মকর্তারা দায় স্বীকার ও বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

চাকরিচ্যুত মিটার রিডার আরজু মান বানু,পিসরেট কর্মচারী  জাবির হোসেন সহ ১২ জন কর্মচারীদের অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে ডোমার অফিসের প্রকৌশলী সহ কর্মকর্তা ব্যক্তিদের বাঁচাতে তাদের দুর্নীতির দায়  ১২ জন পিসরেটের ওপর (অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী) চাপিয়ে দিয়ে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারী চাকরিচ্যুত করে। এতে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমরা আমাদের চাকুরী ফিরে দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি করেছি।

এ বিষয়ে ডোমার নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী ইউসুফ আলী বলেন, আমি এখানে ১৫ ফেব্রুয়ারী যোগদান করেছি। এর অগে কি হয়েছে তা কিছুই অবগত নই। চাকরিচ্যুতির বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে অফিস আদেশ করে অতিরিক্ত বিল করার নির্দেশ দেওয়ার কোনো বিধান নেই। একজন গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করবেন সে পরিমাণের বিল প্রদান করবেন।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর