ব্রেকিং:
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৭ জনে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৫৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। দিনাজপুরে গত ২৪ ঘন্টায় ৯ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩২৮ জনে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ।
  • বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৭ ১৪২৭

  • || ০৫ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
রংপুরের বহুল আলোচিত দুই বোন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর রোগমুক্তি কামনায় বীরগঞ্জে দোয়া মাহফিল নীলফামারীতে কাঁটাতার কেটে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি জুড়ছে রেল লাইন কুড়িগ্রামে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড র‌্যাবের অভিযানে নীলফামারীতে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
৩১

কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসীম ত্যাগের ফলে একটি সবুজ ভূখণ্ড বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামে অঙ্কুরিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের ফসল হিসেবে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের একমাত্র ভাষাভিত্তিক দেশ বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অন্নদাশঙ্কর রায়ের এ উচ্ছ্বসিত মুগ্ধতা আসলে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কোটি কোটি বাঙালির হৃদয়েরই কথা।

জাতির পিতার জীবন ও কর্মের বহুমাত্রিকতাকে হৃদয়ে ধারণ করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তার মহান অবদানকে তুলে ধরার প্রত্যয়ে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি কর্তৃক প্রণীত ২৯৮টি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সদয় অনুমোদন করেছেন।

এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নয়টি উপকমিটি ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কার্যকমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করে আপসহীন নেতৃত্ব, দৃঢ় মনোবল আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে ওঠেন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রধান নেতা। প্রতিটি বাঙালির কাছে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন শিকল ভাঙার গান, মুক্তির মূলমন্ত্র।

গভীর দেশপ্রেম, সীমাহীন আত্মত্যাগ আর অতুলনীয় নেতৃত্ব দিয়ে বহু দিনের শোষণ শৃঙ্খল ভেঙে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতি চিরঋণী তার মহানায়কের কাছে। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতিভ‚, মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর; ১৯৭১ সালে বিশ্ব মিডিয়ায় তাকে ‘রাজনীতির কবি’ অভিধায় অভিহিত করা হয়। বিশ্ববাসীর কাছে তিনি মুক্তিকামী মানুষের নেতা।

আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্য যে, আজ আমরা যারা বেঁচে আছি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালনের ঐতিহাসিক সময়ের অংশীদার হতে পারছি।

এ বছর মহান নেতার জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সমগ্র বাঙালি। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীর পিতাকে স্মরণ করা হচ্ছে। তারই একটি আয়োজন এই ‘কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর’ নামের সংকলনটি। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা সময়ে অজস্র লেখালেখি হয়েছে দেশে এবং দেশের বাইরেও। বাঙালি ছাড়াও বিভিন্ন ভাষাভাষীর লেখক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও এ মহান নেতাকে নিয়ে তাদের মুগ্ধতার কথা লিখেছেন।
কিন্তু এবারের এ সংকলনটির বিশেষত্ব হচ্ছে জাতীর পিতার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মূল্যবান স্মৃতিচারণামূলক নিবন্ধ। ‘আমার ভায়েরা’ শিরোনামের এ লেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উলে­খ রয়েছে। পারিবারিক শেখ মুজিব থেকে জনতার মহানায়ক শেখ মুজিবের ছবিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এ লেখায়। পুরো লেখাটি পড়লে একজন বাবা একজন মহৎ মানুষ একজন মহান নেতাকে একই মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন গুণাবলির আঙ্গিকে পাওয়া যায়।

অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচারণার এক জায়গায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৭ মার্চের তাৎপর্য হৃদয়গ্রাহী করে উলে­খ করেছেন। লিখেন- ‘স্বাধীনতার ঊনপঞ্চাশ বছর পার হয়েছে। এ ভাষণের আবেদন এখনও অটুট রয়েছে। পৃথিবীর কোনো ভাষণ এত দীর্ঘসময় আবেদন ধরে রাখতে পারেনি। সাতচলি­শ বছর ধরে এ ভাষণ কতবার এবং কত জায়গায় বাজানো হয়েছে, কত মানুষ শুনেছে তা কি কখনও হিসাব করা গেছে? যায়নি। প্রতি বছর ৭ মার্চ ভাষণ বাজানো হচ্ছে ঢাকা শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসগুলোতে মানুষ এ ভাষণ শোনে, প্রেরণা পায়।’

আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা যে তখনই তৈরি হচ্ছিল তা বোঝা যায় তার এখানে কিছু স্মৃতিচারণায়। তিনি লিখেছেন- “কোনো কোনো ছাত্রনেতা এ কথাও বলেছেন, ‘আজকেই সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন- আমরা প্রস্তুত।’ আরও বলেছেন, ‘এটা যদি না বলেন মানুষ হতাশ হয়ে যাবে।’ খুবই উত্তেজিত তারা। রাজনৈতিক নেতারা তাদের মন্তব্য দিচ্ছেন। লিখিত কাগজ তো এত পরিমাণে জমে গেল যে, তা প্রায় বস্তা ভরে যাবে।”

তখন এসব পরিস্থিতি অভজার্ভ করতেন আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের মানুষ কী পরিমাণে পাকিস্তানিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন তা এ লেখা পড়লে গভীরভাবে অনুভব করা যায়। শেখ হাসিনা সেসব তার অন্তর দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং পরবর্তীতে দেশের কঠিন সময়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জাতীর পিতার অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য নিজেকে সদা নিয়োজিত রেখেছেন। খুব বড় কলেবরে না হলেও গুরুত্বরের দিক থেকে এ সংকলন মহামূল্যবান। কেননা এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লেখা ছাড়াও ভারতে সদ্যপ্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিবন্ধ রয়েছে।

যেখানে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর মহৎ রাজনৈতিক ত্যাগ ও দূরদর্শিতার কথা। বঙ্গবন্ধুর ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে ছোট বড় অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার মূল্যায়ন রয়েছে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখায়।

এছাড়াও মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী, শেখ রেহানার কবিতা এবং ‘আমার বাবা শেখ মুজিব’ শিরোনামের হৃদয়স্পর্শী স্মৃতিচারণা।

প্রাবন্ধিক এবং শিক্ষাবীদ রফিকুল ইসলামের ‘বঙ্গবন্ধু ও একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চ’ শিরোনামের লেখায় যুদ্ধকালীন বাংলাদেশ এবং ওই সময়ে শেখ মুজিবের স্বাধীনতার পরিকল্পনার বিষয়ে অনেক কিছু জানা যায়। বঙ্গবন্ধুর অপরিহার্যতা সুন্দরভাবে উঠে এসেছে সংকলনের সম্পাদক এবং বিশিষ্ট কবি কামাল চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধ : চিরন্তন আলোকশিখা’ শিরোনামের গুরুত্বপূর্ণ লেখায়।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে লিখেছেন সৈয়দ বদরুল আহসান, ‘মননে স্মরণে বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে লিখেছেন জুলিয়ান ফ্রান্সিস। সংকলনে সংযোজিত হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর স্মরণীয় কিছু বাণী, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশিষ্টজনের স্মরণীয় উক্তি, ছয় দফা, ৭ মার্চের মহামূল্যবান ভাষণ, স্বাধীনতার ঘোষণা, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় প্রদত্ত ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধুর গ্রন্থগুলোর পরিচিতি।

সব মিলিয়ে এ সংকলনে বঙ্গবন্ধু ও তার রাজনৈতিক ইতিহাস এবং দর্শন অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় এবং অল্পপ্রয়োজনীয় কোনো লেখাই এ সংকলনে স্থান পাইয়নি, এমন সংযম এবং রুচিবোধের জন্য সংকলনের সম্পাদক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীসহ সম্পাদনা পরিষদের সবাই প্রশংসিত হবেন।

পাঠকের চিন্তা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর