• শনিবার   ০৮ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৪ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
আজ শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন দেশে ৯০০ টন অক্সিজেন মজুদ আছে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী খানসামায় করোনায় কর্মহীন ৩ হাজার পরিবারকে সহযোগিতা বালু উত্তোলনের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুড়িগ্রামে পরিবহণ শ্রমিকরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে না চাওয়ায় প্রেমিকাকে হত্যা

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২১  

রংপুরের মিঠাপুকুরে চাঞ্চল্যকর মোসলেমা খাতুন (১৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে না চাওয়ায় তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানায় পলিশ।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাহিদ হাসান (২২) নামে ওই প্রেমিককে গ্রেফতার  করা হয়েছে। রোববার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে নাহিদ হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নাহিদ হাসান মিঠাপুকুর উপজেলার দলসিংহপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলার মোসলেমা খাতুন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের লোকজন মোসলেমাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মিঠপুকুর থানা পুলিশকে অবগত করেন।

শনিবার বিকেলে মোসলেমার বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে হঠাৎ পচা গন্ধ ভেসে আসে। গন্ধের সূত্র ধরে ভুট্টা ক্ষেতের মাঝে গিয়ে স্থানীয়রা মোসলেমার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়।

পরে খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোসলেমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মোসলেমার বাবা বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশসহ পিবিআই ও সিআইডি। মরদেহ উদ্ধারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে রাত পৌনে ৩টার দিকে নাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

পরে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে নাহিদ জানান, মোসলেমা খাতুন সম্পর্কে তার চাচাতো বোন। তাদের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয় তাদের। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর নাহিদ দিনাজপুরে চাকরিতে চলে যায়। ১৫ দিন আগে মোসলেমা নাহিদকে জানায় যে, সে গর্ভবতী। কিন্তু নাহিদ তা অস্বীকার করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাহিদকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলেন মোসলেমা। কিন্তু নাহিদ আসতে চান না। মোসলেমা জেদ ধরলে নাহিদ দেখা করতে রাজি হন। পরে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে গিয়ে তারা দেখা করেন। এ সময় মোসলেমা তার গর্ভের বাচ্চা রাখতে চেয়ে বিয়ের দাবি করেন। কিন্তু নাহিদ এতে রাজি হননি। তিনি যেকোনোভাবে সন্তান নষ্ট করতে বলেন। মোসলেমা এতে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায়ে নাহিদ রেগে গিয়ে ভুট্টা ক্ষেতেই তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরে ফেলেন। এরপর বাসায় গিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে থাকেন।

মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডির তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যে মোসলেমা হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে হত্যার সঙ্গে জড়িত নাহিদ হাসানকে।