ব্রেকিং:
মেডিকেল কলেজে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গাইবান্ধার পাঁচ রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ৩০ ১৪২৬   ১৫ সফর ১৪৪১

সর্বশেষ:
সরকারি সফরে আজ কাতার যাচ্ছেন সেনাবাহিনী প্রধান ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার বিষয়টিকে পুঁজি করে দামে কারসাজি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আমিনুর বাহিনীর প্রধান আমিনুরসহ চারজন নিহত হয়েছে ইউক্রেনের বিপক্ষে রোনালদোর পর্তুগালের হার কাতার বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ ফুটবল বাছাইয়ের ‘ই’ গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে আজ ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।
২২৭

চিলমারীর ১‘শ টি পরিবার পেলো নতুন ঘর

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ১‘শ ৮টি পেয়েছে নতুন ঘর। কখনো বন্যা আবার কখনো ভাঙ্গন কেড়ে নেয় তাদের স্বপ্ন, ভেঙ্গে দেয় আশা এবং প্রত্যাশা। সব হারিয়ে অনেকেই হয়ে গেছেন নিঃস্ব আর গৃহহারা। আবার অনেকের জায়গা থাকলেও নেই আশ্রয়স্থল। এই আশ্রয়হীন আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রহণ করেন একটি প্রকল্প, আর তা হলো ‘যার জমি আছে ঘর নাই, তার জমিতে ঘর নির্মান প্রকল্প’।

“আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ‘জমি আছে ঘর নাই তার জমিতে ঘর নির্মাণ’ প্রকল্পের পক্ষ থেকে ১০৮টি পরিবার খুঁজে পেয়েছে তাদের স্বপ্নের নীড়।

গৃহহীন একজনের নাম শাহেরা বেগম। চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের নতুন গ্রামের বাসিন্দা। ৬বছর বয়সে বাবাকে হারায় শাহেরা। তার মা ছোট ছোট ৩ ভাই বোনকে নিয়ে চলে আসে মামার বাড়ীতে। বাধ্য হয়ে ৯বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িয়ে বসতে হয় তাকে। ১১ বছর বয়সে প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী হারাতে হয় শাহেরাকে। অভাবের সংসারে মা মেয়ে মিলে অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করেই চলতো তাদের কষ্টের জীবন। এক সময় মাও তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরই মধ্যে ভাই ও বোনেরও বিয়ে হয়ে যায়। একা হয়ে পড়ে সে আর মামার বাড়িতে থাকা আর অন্যের বাড়ির কাজ করেই চলে তার জীবন সংসার। আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য তখন মামার দেয়া ওই জমিতে ঘর তুলতে পারেননি শাহেরা। স্বপ্ন ছিল ওই জমিতে একটি ঘর করবেন। কিন্তু নুন আনতে পানতা ফুরানোর সংসারে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হচ্ছিল না তার। অবশেষে সরকারের দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ (জমি আছে ঘর নাই তার জমিতে ঘর নির্মাণ) প্রল্পের পক্ষ থেকে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে শাহেরাকে সরকারি খরচে উক্ত জমিতে একটি মেঝে পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। শাহেরার মতো স্বপ্ন পূরণ হয়েছে সর্দার পাড়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সের সরবালার, রমনা পশ্চিম খড়খড়িয়া এলাকার মৃত আব্দুল কাদের এর স্ত্রী আমেনা বেওয়াসহ অনেকেরই। জীবনের বেশির ভাগ সময় মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছেন এখন বৃদ্ধা বয়সে ভিক্ষা করছে সরবালা। নিজের ভিটেতে আর একটি নতুন করে ঘর তুলবেন, এটা ছিল নিকট স্বপ্নের মতো। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পুরন করেছে সরকার। আমেনা বেগম বয়স ৬০ পেড়িয়ে গেছে। আর প্রায় ৩০ বছর আগেই হারিয়েছে স্বামীকে। বিয়ের বয়স থাকলেও সন্তানদের মুখ দেখেই কাটিয়ে দিয়েছেন। ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের সংসারে অভাব আর টানাটানি সংসার ঘর তুলবে কিভাবে? শেষ বয়সেও স্বপ্ন ছিল একটি নতুন ঘরে থাকার। কিন্তু স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যায়। অর্থাভাবে স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেয় না। অবশেষে সেই স্বপ্ন পুরনে এগিয়ে এসেছেন  সরকার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব উদ্যোগ আর পরিকল্পনায় একটি নতুন বাড়ি একটি ঘর আর আমেনা পেড়েছে একটি শান্তির আশ্রয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ জোবাইদুল ইসলাম জানান, ‘যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় এ উপজেলায় ৬ ইউনিয়নের ১০৮টি পরিবারকে  সরকারি খরচে ঘর বানিয়ে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিঃ) মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ নামে প্রকল্পের একপত্রে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশে কোনো লোক গৃহহীন থাকবে না। সেটির অংশ হিসেবে এই উপজেলাকে এ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অসহায় মানুষজনও এখন খুঁজে পাচ্ছে তাদের একটি আশ্রয় একটি ঠিকানা। সেই সাথে সরকারের এই প্রকল্পটি ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে। এদিকে গত ক’দিন আগে রমনা মডেল ইউনিয়নের পশ্চিম খড়খড়িয়া এলাকার গৃহহীন আমেনার নতুন ঘর প্ররিদর্শনসহ আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ (জমি আছে ঘর নাই) প্রকল্পের বেশ কয়েকটি ঘর পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুলতানা পারভীন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেড জিলুফা সুলতানা।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর