শুক্রবার   ১৫ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ৩০ ১৪২৬   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

১২

জলঢাকায় মামলায় ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ এসআই`র বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০১৯  

ভুয়া ইনজুরি সার্টিফিকেটে মাধ্যমে একটি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে নীফামারীর জলঢাকা উপজেলার থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে ওই মামলার তদন্তকারী থানার উপ-পরিদর্শক ওসমান আলীর বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।

শনিবার(১৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে জলঢাকা পৌর এলাকার পূর্বচেরেঙ্গা গ্রামে শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন তারা। 

মানববন্ধন চলাকালে হয়রানীর শিকার জীতেন্দ্র নাথ বর্মা, তার দুই ছেলে ঋষিকেশ রাজবংশী(৩২) ও নিরঞ্জন রাজবংশী (২৪), জীতেন্দ্রর মেয়ে নিয়তী রাজবংশী (২২) ছাড়াও এলাকার মোস্তাফিজার রহমান বুলু, রোস্তম আলী এবং জলঢাকা উপজেলা ছাত্রসমাজের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী বক্তৃতা দেন।

জলঢাকা পৌর এলাকার পূর্ব চেরেঙ্গা গ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের অসরপ্রাপ্ত কর্মচারী জীতেন্দ্র নাথ বর্মা বলেন, ১৯৯৮ সালে একই এলাকার সিংড়িয়া গ্রামের জনৈক আকবর আলী, আজগার আলী ও আফসার আলীর কাছ থেকে ১২ শত জমি ক্রয় করি। ওই জমি আমার ভোগদখলে থাকলেও ২০১৮ সালের ২৩ জুন তারা লোকজন নিয়ে এসে ওই জমিতে ধানের চারা রোপন করতে যান। এসময় আমিসহ আমার দুই ছেলে ঋষিকেশ ও নিরঞ্জন বাধা দিতে গিয়ে তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুত্বর আহত হই। এঘটনায় ওই বছরের ২৭ জুন ২৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করি।

অপরদিকে ওই ঘটনার নয় দিন পর আফসার আলীর ছেলে আব্দুল জলিল বাদি হয়ে আমার পরিবারে ছয় সদস্যসহ ১৫ জনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই দুই মামলাল তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন থানার উপ-পরিদর্শক ওসমান গনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানে পুলিশের ওই কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি ওই পরিমান টাকা দিতে না পারায় বিবাদি পক্ষের সংঙ্গে আতাত করে ২৪ আসামীর মধ্যে মূল নয় জনকে বাদ দিয়ে ১৫ জনের নামে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আমার বিরুদ্ধে আব্দুল জলিরের দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ওই কর্মকর্তা এক লাখ টাকা দাবি করেন। আমি সেটি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি ভুয়া ইনজুরি সার্টিফিকেটের মাধ্যমে আমার পরিবারের ছয় সদস্যসহ ১৪ জন বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় প্রতিবেদন দাখিল করেন আদালতে।

তিনি বলেন, ওই সময়ে ছয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন আমার পুত্রবধু রমা রায়। সে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হওয়ায় ঘটনার সময় স্কুলে কর্মরত ছিল। তাকেও ওই ডাংমার এবং খুন জখমের মামলার আসামী করা হয়েছে। এইভাবে ওই ঘটনায় আমাদেরকে আহত অবস্থায় যারা উদ্ধার করেছেন তাদের নামেও চার্জসিট দিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। বিষয়টি আমি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে অবগত করেছি।

তিনি বলেন, থানায় দায়ের করা আব্দুল জলিলের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইনজুরি সার্টিফিকেট আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই সার্টিফিকেটটি সঠিক নহে বলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। সেটিও আমরা থানায় অবগত করলে তদন্ত কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই না করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমান গণি বলেন,‘কোন ঘটনা যার পক্ষে যায় সে সন্তুষ্ট থাকে। আর যার বিপক্ষে যায় সে অসন্তুষ্ট থাকে। দুটি মামলায় ঘনটাস্থলে গিয়ে আমি যা পেয়েছি অভিযোগপত্রে তা উল্লেখ করেছি। কোন পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে আদালতে নারাজির অভিযোগ দিতে পারেন।' টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,“কোন মামলার মেডিকেল সার্টিফিকেট সাধারণ ডাকবিভাগের মাধ্যমে আমাদের কাছে আসে। এরপর সেটির সঠিকতা যাচাই করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়না। ভুয়া সার্টিফিকেটের প্রমাণ থাকলে তারা আদালতের মাধ্যমে পুনরায় তদন্ত চেয়ে আবেদন করতে পারেন।"  

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর