• বুধবার   ২৭ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
নিলুফার মঞ্জুরের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক যে কোনো সময় ‘দ্বিতীয় ঝড়’ শুরু হবে: ডাব্লিউএইচও বাংলাদেশের তৈরী ৬৫ লাখ পিপিই গেল যুক্তরাষ্ট্রে করোনা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রোগীদের খাবার পাঠালেন জেলা প্রশাসক সরকারি নির্দেশনায় ঈদের নামাজ আদায়: মুসুল্লীদের ধন্যবাদ
২২২

জীবনের শ্রেষ্ঠ রমজান যাপনের এই তো সময়     

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২০  

মাহে রমজান। বহু প্রতীক্ষার মাস এ রমজান। রমজান মুমিনের রহমত, বরকত, নাজাতের মাস। আল্লাহর সঙ্গে প্রেমের সেতুবন্ধনের মাস। সব চাওয়া-পাওয়া, ক্ষমা-মুক্তি, ইবাদত-বন্দেগি ও নৈকট্য লাভের মাস। শাবান মাসের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আকাশে একফালি বাঁকা চাঁদ উদিত হয়ে মুসলিম বিশ্বে এসেছে মহিমান্বিত এ মাস রমজান।


ধনী-গরিব, ছোট-বড়, আরব-অনারব সবার কাছে ফিরে আসে এই মাস। পবিত্র এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন-মুসলমানরা তাদের ঈমানি চেতনাকে জাগ্রত করে এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নিবেদিত বান্দা হওয়ার মহান সুযোগ লাভ করে। আরবি বর্ষপঞ্জির নবম মাস- পবিত্র রমজানুল মোবারক। পবিত্র কোরআনের ভাষায় যাকে ‘রামাদান’ বলা হয়েছে।


ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান সাওম বা রোজা পালন। রজব, শাবান ও রমজান এ তিনটি মাসই মূলত সিয়ামের মৌসুম। রজব ও শাবান মাস রমজানের প্রস্তুতির মাস। আর রমজান হচ্ছে অন্য সব মাসের সর্দার। ইবাদতের স্বর্ণমৌসুম। পবিত্র রমজান মাসের প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মুহূর্ত প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং রহমত ও বরকতমণ্ডিত। তাই পবিত্র এ মাসের আগমনকে স্বাগত জানাতে সবসময় প্রস্তুত থাকে মুমিন-মুসলমানের হৃদয়। আকাশে রমজানের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অন্তরে শুকরিয়া জ্ঞাপনের পাশাপাশি মুখে উচ্চারিত হয় খোশ আমদেদ মাহে রমজানুল মোবারক।

সিয়াম-সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাস এটি। ইসলামের পঞ্চভিত্তির তৃতীয় ভিত্তি রোজা। প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমান নর-নারীর প্রতি মাহে রমজানের রোজা পালন ফরজ। একজন মুসলিমের জন্য নামাজের মতোই রমজান মাসের রোজা পালন করা ফরজ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা তোমাদের প্রতি আমি মাহে রমজানের রোজাকে ফরজ করেছি যেমন ফরজ করেছিলাম তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতি। এতে আশা করা যায় যে, তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করতে পারবে’ (সূরা : বাকারা, আয়াত-১৮৩)।

অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘অবশ্যই আমি এ কোরআনকে লাইলাতুল কদরে নাজিল করেছি। আপনি জানেন লাইলাতুল কদর কী? তা হচ্ছে এমন রাত যা হাজার মাস থেকে উত্তম’ (সূরা : কদর আয়াত ১-৩)।

এভাবেই পবিত্র কোরআনে রমজান মাসের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রমজান মাসের সঙ্গে অন্য কোনো মাসের তুলনা নেই। এ মাসের প্রতিটি আমলেরই ১০ গুণ সওয়াব বান্দার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে। এ ছাড়া সমাজসংস্কারেও রমজানের ভূমিকা অন্যতম। রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে একজন মানুষ হয়ে উঠে প্রকৃত মুমিন। স্বচ্ছ পানির মতো হয়ে তার আমলের দরিয়া। প্রতিশ্রুতি উঠে সব পাপ-পঙ্কিলতা মুছে ফেলার। সর্ব প্রকার জুলুম অন্যায় থেকে বেঁচে থাকার জাগরণ উঠে। আত্মশুদ্ধির সিঁড়ি বেয়ে উঠে বিপ্লবের পতাকা। এ ধরনের আবেগ অনুভূতির মাধ্যমেই রমজানের মাতাত্ম প্রকাশ পায়। ব্যক্তি ও সমাজ তাদের সম্মান ফিরে পায়। তবে মাহে রমজানে পুণ্যের বদলে, পাপ ও বক্রতা কারও কারও জীবনে বেড়ে যায়, তবে এটা নিশ্চয়ই একটি আত্মিক পরাজয়, এটা নিশ্চয় শয়তানের ক্রীড়া, যার বিরূপ প্রভাব ব্যক্তি ও সমাজের ওপর পড়তে বাধ্য।

এ মাসে বান্দা পার্থিব সব চাহিদা বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভ করবে, অতীতের সব পাপাচার থেকে ক্ষমা চেয়ে নতুনভাবে ঈমানি জীবনের উত্তাপ গ্রহণ করবে, তাকওয়ার অনুশীলনের মাধ্যমে পুরো বছরের ইবাদত ও আনুগত্যের শক্তি সঞ্চয় করবে, চিন্তা-চেতনা ও কর্ম-সাধনায় আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে সমর্পিত করবে এই হচ্ছে মুমিনের মাহে রমজান।

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) তার ‘এহয়াউল উলুম’ গ্রন্থে রহমতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘রোজাদার বান্দা যখন নিদ্রা যান, তখন তার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসের বদৌলতে আল্লাহ তাসবিহ পাঠের প্রতিদান দান করেন। এ ছাড়া সেহরি, ইফতার, তারাবির নামাজ, তেলাওয়াতে কোরআন, তাসবিহ-তাহলিল এবং অপরাপর ইবাদত-বন্দেগিতেও সওয়াব অন্য মাসের চেয়ে ৭০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

রমজান মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, জিকির, কোরআন তেলাওয়াতের আমল জারি রাখা উচিত। সেই সঙ্গে গিবত, শেকায়েত, পরনিন্দা, পরচর্চা পরিহার করে চলতে হবে। কেননা এগুলো রোজার উদ্দেশ্যের পরিপন্থি কাজ। এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই রোজা নয়; বরং বেহুদা-অযাচিত কথাবার্তা থেকে বিরতও গুরুত্বপূর্ণ।’ যখন রমজান আসে, বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে শিকল পরিয়ে দেয়া হয়। (বুখারি ও মুসলিম)।

আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের প্রথমে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। সব পাপ-গুনাহ থেকে তওবার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। সব ধরনের জুলুম-অন্যায় থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। যাদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। ভালো কাজের মাধ্যমে রমজানের দিবস-রজনী যাপনের মানসিকতা নিয়ে রমজানকে স্বাগত জানাতে হবে। সেই সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টিনের এ সময়ে আপনার পুরোটা সময় কাটাতে পারেন শুধু ইবাদত বন্দেগির মাঝ দিয়ে। জীবনের শ্রেষ্ঠ রমজান যাপনের এই তো সময়।  

ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর