মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৪ ১৪২৬   ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে আগামী মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি করতেই চিঠি দিয়েছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে হাইকোর্টে তলব পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য আমিরাতের শ্রমবাজার খুলে দেয়ার ইঙ্গিত যত চাপ থাকুক সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রামীণফোনের পাওনার বিষয়ে আদেশ ২৪ নভেম্বর আরব আমিরাতের আরো বড় বিনিয়োগের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর আবরার হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত
৪১৬

টিউশন মিডিয়ার হয়রানি বন্ধে বিডি হোম টিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এ বছরের শুরুর দিকে একুশ ‘শ টাকা দিয়ে আমি টিউশন নিয়েছিলাম। এক মাসের মাথায় টিউশনটা চলে যায়। টিউশন মিডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে টিউশনি চলে গেলে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু ওরা টাকা পরিশোধ করতে অনেক বিলম্ব করে। এমনকি একাধিকবার গেলেও কখনো পরে আসার কথা, আবার কখনো বিকাশ নাম্বার দিয়ে যাওয়ার কথা বলে। এভাবে কয়েকবার ঘোরানোর পর আমি আর টাকা আনতে যাইনি। কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জুনায়েদ রেদওয়ান। টিউশন মিডিয়ার এরকম হয়রানির স্বীকার অনেকেই হয়েছেন।

এ ধরনের বাজে অভিজ্ঞতা আর টিউশন মিডিয়ার হয়রানির দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি দিতে "বিডি হোম টিউটর" নামে অ্যাপস তৈরী করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের দুইজন শিক্ষার্থী মোঃ মঞ্জুরুল আলম এবং মজিবুর রহমান সিজান। চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর থেকে চালু করা হয় অ্যাপসটি। এর আগে বিডি হোম টিউটর এর কার্যক্রম ওয়েবসাইট ভিত্তিক থাকলেও ব্যবহারের সুবিধার্থে এবার সেটাকে অ্যাপস আকারে তৈরী করা হয়। যেখানে শুধুমাত্র অ্যাপসটি ব্যবহার করেই যে কেউ বিনামূল্যে টিউশন জোগাড় করতে পারবেন।

শুরুটা যেভাবে

মোঃ মঞ্জুর আলম জানান, টিউশন নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে গল্প হতো । কে, কেমন টিউশনি করে। একেক জন একেক রকম অভিজ্ঞতা শেয়ার করত। কেউ টিউশন পাচ্ছে না, কেউ পেলেও সেটার দূরত্ব বেশি, আবার কারো কারো প্রতারিত হবার গল্পের কথাও শুনতাম। অন্য ফ্রেন্ডদের মত আমারও একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়। তখন এই ব্যাপারটা নিয়ে কিছু করার চিন্তা মাথায় আসে। যেহেতু ইলেকট্রনিক মিডিয়ার যুগ এবং স্বল্প খরচে অনেক ভালো কিছু করা যায়। তখন কিভাবে করা যায় এটা ছিল আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তো অনলাইনে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত স্টাডি আমরা করি। তারপর হঠাৎ বিডি জবস কে দেখে আমাদের মনে হলো আমরাও তো এরকম একটি প্লাটফরম তৈরি করতে পারি। যেখানে শিক্ষক থাকবে এবং তার যাবতীয় ইনফর্মেশন দেওয়া থাকবে। এবং গার্ডিয়ান তার আশেপাশের লোকেশন অনুযায়ী সার্চ দিয়ে তার কাঙ্খিত শিক্ষককে খুঁজে নেবে। এছাড়া গার্ডিয়ান যদি চায় পোষ্টের মাধ্যমেও শিক্ষক বাছাই করে নিতে পারবে। তারপর আমরা একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যাই। সিকিউরিটির কথা চিন্তা করে এবং টিউটরদের সঠিক আইডিন্টিটি কনফার্ম করার জন্য, ওয়েব সাইটে অনেক জটিলতা এবং অনেক দরকারী তথ্য এবং প্রোগ্রাম এড করতে হয়েছে। যেখানে একজন গার্ডিয়ান এবং একজন শিক্ষক এর পার্সোনাল ইনফরমেশন ফোন নাম্বার ইমেইল গোপন রাখা হয়। এভাবে অনেক দিন চলতে থাকে, পরবর্তীতে আমরা প্ল্যান করলাম যে কিভাবে এটাকে আরো সহজ করা যায়।

এ বছরের শেষের দিকে এসে আমরা অ্যাপস এর কাজে হাত দেই। যেটি সম্পূর্ণ আমাদের ওয়েবসাইট নির্ভর, এবং ওয়েবসাইটের সাথে লিংক আপ করা। পরবর্তীতে অক্টোবর মাসের ২৪ তারিখে আমরা প্লে স্টোরে লঞ্চ করি।

অ্যাপসটির ব্যবহার

প্রথমে গুগল প্লে স্টোর থেকে "বিডি হোম টিউটর" লিখে অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে হবে। ইমেইল এড্রেস এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে নিজের একটা একাউন্ট তৈরি করতে হবে। টিউশন প্রার্থী তার একাউন্টে নিজের মোবাইল নাম্বার, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোন শ্রেণী থেকে কোন শ্রেণী পর্যন্ত পড়াতে ইচ্ছুক এবং পারিশ্রমিকের পরিমানও সংযুক্ত করে রাখতে পারবেন। আবার অভিভাবকরাও একাউন্ট খুলে রাখতে পারবেন। এবং নিজ লোকেশন উল্লেখ করে আশপাশে কম দুরত্বের মধ্যে পছন্দসই টিচার খুঁজে নিতে পারবেন।

যতো সুবিধা

অ্যাপসটি ব্যবহার করলে একজন অভিভাবক যেমন নিজের পছন্দ মত টিচার খুজে নিতে পারবেন একইভাবে একজন শিক্ষকও ফ্রিতে টিউশন খুঁজে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে একজন অভিভাবক চাইলে অ্যাপসের মধ্যে থাকা 'পোস্ট টিউশন' অপশনে নিজের লোকেশন এবং কেমন টিচার প্রয়োজন সেটা লিখে ফেইসবুকের মত পোস্ট করতে পারবেন। যা অন্য টিচাররা খুব সহজেই দেখতে পাবেন। মজার ব্যাপার হলো দরকষাকষিরও কোনো সম্ভাবনা নেই এখানে।

বিডি হোম টিউটর এর আরেক উদ্যোক্তা মজিবুর রহমান সিজান বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন অনেক বড় একটা সাপোর্ট। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা পারিবারিকভাবে কোনো সাপোর্ট পান না। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসে। টিউশন তাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু টিউশনকে ঘিরেও রয়েছে রমরমা ব্যবসা। টিউশন মিডিয়ার কাছ থেকে টিউশন নিতেও একজন শিক্ষার্থীর পুঁজি থাকা লাগবে। টিউশন নিতে পরিশোধ করতে হয় বড় অঙ্কের টাকা। যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অনেক সময় কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বিডি হোম টিউটর অ্যাপস তৈরি করেছি। যাতে করে একজন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে এবং সহজে তার পছন্দসই টিউশন খুঁজে নিতে পারেন। আশাকরি টিউশন মিডিয়ার দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পেতে আমাদের অ্যাপসটি সহযোগিতা করবে।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর