ব্রেকিং:
রংপুরে র‌্যাবের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু শতাধিক দুস্থকে রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা প্রদান পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে খাবারের গাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন’র খাদ্যসামগ্রী বিতরণ রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত
  • বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৮ ১৪২৬

  • || ০৮ শা'বান ১৪৪১

সর্বশেষ:
পহেলা বৈশাখ ও বৈসাবির সব ধরনের অনুষ্ঠান স্থগিত চিকিৎসকদের ফ্রি-তে ‘ক্র্যাক প্লাটুন পরিবহন সেবা’র যাত্রা শুরু দিনাজপুরে অসহায়দের বাড়িতে গিয়ে খাবার দিল ছাত্রলীগ নেতা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়িতেই করোনা পরিমাপ করার ওয়েবসাইট চালু করেছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ
১৬

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর :  বাস্তবতা ও সম্ভাবনা 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অবকাঠামোতে অভুতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, বরিশাল/কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ, কর্ণফুলী টানেল, উত্তরবঙ্গের রাস্তা প্রসস্তকরণ সহ মেগা প্রজেক্ট শেষ হবার পর বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রে পরিণত হবে। ক্ষমতাসীন সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক ও যুগোপযুগী অবকাঠামো নির্মাণ করে দিচ্ছেন যেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জনগণ এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর হতে পারে। অন্যদিকে ২০১৯ সালে ১৫ লক্ষাধিক বাংলাদেশী চিকিৎসা, বিনোদন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ভ্রমণ করেছে। এ সুবিশাল পর্যটক গোষ্ঠীর যাতায়াত সহজতর করার জন্য ভারত ঢাকায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভিসাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থল বন্দরের অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটন ব্যবস্থাকে করেছে। ফলতঃ প্রতিবেশী দেশ অত্যান্ত নায্য ভাবেই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আন্ততঃ দেশীয় যাতায়াত শুধু এই অঞ্চলেই নয়, বরঞ্চ সারা বিশ্বেই সহজ ও দ্রুততর করা হয়েছে। তাই শুধু ভারতেই নয়, পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্র শুধু ক্রমবর্ধমান পর্যটন খাত থেকেই দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো মজবুত করেছে। অথচ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ও দীর্ঘতর বালুতট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষনে ব্যর্থ হচ্ছে আর বাংলাদেশ হারাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নিশ্চিত খাত। এই বাস্তবতায় উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামোতে সরকার সামান্য সু-নজর দিলেই শুধুমাত্র পর্যটন খাতেই এনে দিতে পারে বিপুল সফলতা। গত দশকের উন্নয়নের গণজোয়ারে ঠাকুরগাঁও অঞ্চলও সামিল হতে পারে। এই অঞ্চলের বিশাল পরিত্যক্ত ও স্বল্প ব্যবহৃত খাস জমি ব্যবহার করলে গড়ে উঠতে পারে ইপিজেড, মেডিক্যাল বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যার কেন্দ্র বিন্দুতে থাকবে অব্যবহৃত কিন্তু বিপুল সম্ভাবনাময় ‘ঠাকুরগাও বিমানবন্দর’।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপনে ১৯৪৬-১৯৪৭ সালে তৎকালীন দিনাজপুর এবং বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার শিবগঞ্জে ১৭৮.৩৭ একর জমি অধিগ্রহণ করেঠাকুরগাও বিমানবন্দর স্থাপন করা হয়। ১৯৬১ সালে উক্ত ১৭৮.৩৭ একর জমি হতে ৯৩.২৫ একর জমি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব করা হয় এবং অবশিষ্ট ৮৫.১২ একর জমি প্রতিরক্ষা মšত্রনালয়ের হাতে ন্যস্ত হয়। বেসামরিক কর্তৃপক্ষ উক্ত ৯৩.২৫ একর জমি কাটাতার দিয়ে ঘিরে বিমানবন্দরটি বিমান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে সৈয়দপুর বিমানবন্দর চালু হওয়ার পর যাত্রী স্বল্পতার কারণে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০০২-২০০৩ সালে প্রতিরক্ষা মšত্রনালয়াধীন জমি হতে রানওয়ে ব্যতিত ৬৮.২৫ একর চাষযোগ্য জমি স্থানীয়দের কাছে ইজারা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন শর্তে তাদের অধিনস্থ ৯৩.২৫ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে ন্যস্ত করে।
এয়ার স্ট্রীপের অন্যান্য তথ্যাদি নিম্নরুপঃ
(১)    মোট জমিঃ ১৭৮.৩৭ একর।
(২)    দৈর্ঘ্যঃ ৫৬৮০ ফুট।
(৩)    প্রস্থঃ ৭০ ফুট।
(৪)    রানওয়ের দিকঃ ২৭/০৯।
(৫)    ট্যাক্সিওয়েঃ ০১ টি।
(৬)    কন্ট্রোল টাওয়ারঃ ০১ টি (অকেজো)।
(৭)    উড্ডয়ন ও অবতরণ পথে কোন উঁচু গাছ বা স্থাপনা নেই যা আদর্শ বিমানবন্দরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর কিভাবে জনপদের চিত্র বদলে দিতে পারে।    বর্তমানে নিকটস্থ সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল বহুলাংশে বৃদ্ধি পেলেও এর সুবিধা পেতে ঠাকুরগাঁও/পঞ্চগড়ের জনগণকে দীর্ঘ সড়ক পথ পাড়ি দিতে হয়। অন্যদিকে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এখান থেকে ভারতের আকাশপথে দূরত্ব ২১ কিলোমিটার, ভূটানের দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার, নেপালের দূরত্ব ৫৬ কিলোমিটার। এসব অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী খুব সহজে সড়ক পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। তাদের আগমন চিকিৎসা বা ব্যবসায়িক কারণে না হলেও দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত পর্যটন এলাকা ভ্রমণ হতে পারে। ভূটান বা নেপাল তথা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ উত্তরের রাজ্যসমূহের জনগণের কাছে কক্সবাজার, কুয়াকাটা বা সুন্দরবন হতে পারে আকর্ষনীয় ভ্রমণকেন্দ্র। অন্যদিকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও বা পঞ্চগড় এলাকা শুধুমাত্র কৃষিনির্ভর এলাকা। কল কারখানা, শিল্পাঞ্চল বা অন্যান্য অর্থ উপার্জনকারী ব্যবস্থা না থাকাতে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তি সুদূর পিছিয়ে। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর সচল করলে আরো যে দ্বারগুলো খুলবে তা নিম্নরুপঃ
ক।    স্থলবন্দর ভিত্তিক অর্থনীতিঃ    বৃহত্তর দিনাজপুর নিন্মোক্ত স্থলবন্দর গুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
(১)    মাধবপুর ক্রসিং, সুন্দরা, বিরল।
(২)    গোদাগাড়ি, পীরগঞ্জ।
(৩)    বিরল স্থলবন্দর।
(৪)    ধুকুরিয়া-কেদারগঞ্জ ক্রসিং।
(৫)    ধর্মগড়-ডাংগিপাড়া, নেকমরদ।
খ।    দিনাজপুর সদর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং বিশেষত পীরগঞ্জ হচ্ছে এই বেল্টের কেন্দ্রবিন্দু। কাহারোল, বীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, হরিপুর, বালিয়া ডাংগী, পীরগঞ্জ, নেকমরদ বোচাগঞ্জ সহ ঠাকুরগাঁও এর অন্যান্য উপজেলার প্রবেশ পথ হচ্ছে এই তিনটি উপজেলা। এই তিনটি উপজেলাতে নব সংযোজিত আধুনিক রেল ও সড়ক সুবিধা রয়েছে। ফলে খুব সহজেই বাংলাদেশীরা সীমাšত অতিক্রম করে ভারত, ভূটান ও নেপাল যেতে পারবে। একইভাবে সেসব দেশের নাগরিকগণ বাংলাদেশের সকল সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন যা এই সমস্ত এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে আধুনিকতার ছোঁয়া এনে দেবে।
গ।    বিমানবন্দর সংলগ্ন পতিত জমিতে অবকাঠামো নির্মাণ।    ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার বিস্তীর্ণ কয়েকশ একর জমি আছে যা সুগার মিল তথা সরকারের অধীনে। এসব জমিতে শুধুমাত্র ইক্ষু চাষ হয়। এই সব উঁচু জমি, শক্ত মাটি ও এপ্রোচ রোড থাকার কারণে যে কোন ধরণের অবকাঠামো নির্মাণ করা যেতে পারে।
(১)    ঠাকুরগাঁও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবী। এই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কারিগরী, ভোকেশনাল ও খেলাধুলা সংক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলে তা শুধু উত্তরাঞ্চলের পশ্চাৎ জনপদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় পরিবর্তন আনবে না বরং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহের বিপুল জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।
(২)    চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই জনপদের মানুষ নূন্যতম সুবিধা বঞ্চিত। যেকোন রোগের চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর বা রংপুর সদরে যেতে হয় যেখানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল। এই অঞ্চলে একটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় স্থাপন করলে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এবং ভারত, নেপাল ও ভূটানের অসংখ্য মানুষ উপকৃত হবে। চিকিৎসা ভ্রমণ এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে স্বীকৃত।
(৩)    বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ইপিজেড স্থাপিত হলেও অত্র অঞ্চল সরকারের সু-নজরে আসতে পারেনি। আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় এই এলাকায় গড়ে উঠতে পারে রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা যা এলাকায় বিপুল বেকার জনগোষ্ঠী (যাদের অধিকাংশ নারী) উপকৃত হবে।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের সামরিক গুরুত্ব।    ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে এর সামরিক গুরুত্ব অপরিসীম। যেমনঃ
ক।    যুদ্ধকালীন সময়ে দ্রুত ও জরুরী সেনা মোতায়েন, আকাশ হতে পর্যবেক্ষণ, রশদ সরবরাহ পরিচালনা ও হতাহতদের দ্রুত ভাবে হস্তান্তরের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষার কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে।
খ।    শীতকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকান্ড, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অসামরিক প্রশাসনে সহায়তা, সেনা মোতায়েন, জরুরী উদ্ধার, ত্রাণ সামগ্রী প্রেরণ, আহত/নিহতদের উদ্ধার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এখানে উলে­খযোগ্য যে, ২৫ এপ্রিল ২০১৫ সালে নেপালে প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ছিল। এ সময় বিভিন্ন দেশের ত্রাণ নেপালে পৌঁছাতে পারেনি। বিধায় পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহের এ ধরণের যেকোন দূর্যোগ মূহুর্তে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
গ।    ঢাকায় অবস্থিত কুর্মিটোলা ও তেজগাঁও বিমানবন্দরের সামরিক ও অসামরিক উড্ডয়ন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে তেজগাঁও বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সামরিক/অসামরিক বিমান উড্ডয়ণ, প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকে। সেক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন উড্ডয়নের জন্য ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর হতে পারে সঠিক প্রশিক্ষণ স্থল।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর উন্নয়নে করনীয়।    ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর উন্নয়নকল্পে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে তা নিম্নরুপঃ
    ক।    কারিগরী উন্নয়ন।
        (১)    স্বল্প মেয়াদী।    
(ক)    সীমানা চিহ্নিতকরণ ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিকরতঃ এলাকাটি সংরক্ষিত এলাকা ঘোষনা করা।
(খ)    অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক বিদুৎ ব্যবস্থা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও কন্ট্রোল টাওয়ার স্থাপন।
(গ)    রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে  মেরামত ও সারফেসের উন্নয়ন। সেই সাথে নেভিগেশন রেডিও স্টেশন যেমনঃ ঠঙজ এবং ঘউই অথবা হালের অউঝই টাওয়ার স্থাপন।
(ঘ)    যাত্রী ছাউনী/কনফারেন্স হল এবং আধুনিক সুবিধা সম্মিলিত চেক ইন আউট/লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা।
(ঙ)    প্রয়োজনীয় ও প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ।
        (২)    দীর্ঘমেয়াদী।    
(ক)    রানওয়ের দৈর্ঘ্য আরো ৩০০০ ফিট বর্ধিতকরণ ও প্রস্থ ১০০ ফিটে উন্নতিকরণ।
(খ)    রানওয়ে লাইটিং ও এ্যাপ্রোচ লাইটিং স্থাপন।
(গ)    রিফুয়েলিং সিস্টেম কার্যকর করা।
(ঘ)    ল্যান্ডিং এ্যাপ্রোচ স্রোপ ইন্ডিকেটর (চঅচও/ঠঅঝও)নির্মাণ।
(ঙ)    হ্যাংগার নির্মান।
    খ।    ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন।
(১)    স্বল্প মেয়াদী।
(ক)    আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ করে সেনাবাহিনী ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সহায়তায় কারিগরী অবকাঠামো উন্নয়ন।
(খ)    সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সীমিত আকারে বিমানবন্দর চালুকরণ (যেহেতু সেনাবাহিনী বৃহদাংশ জমির অধিকারী)। কন্ট্রোল টাওয়ার ও আবহাওয়া পরিসেবার জন্য বিমান বাহিনী অথবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা যেতে পারে। উপযুক্ত সময়ে এই বিমানবন্দর থেকে সেনা বা বিমান বাহিনীর উড্ডয়ণ প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হবে।     
(গ)    বেসামারিক বিমান চলাচল প্রশিক্ষণ স্কুলের অনুমতি দান, প্রণোদনার মাধ্যমে উদ্ভূতকরণ।
        (২)    দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
(ক)    বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীকে এই খাতে আহবান করা যেতে পারে। এখানে উলে­খ্য যে, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তা ‘বসুন্ধরা গ্র“প’ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এবং নিজস্ব এলাকায় আধুনিক সকল সুবিধা সম্মিলিত হেলিপোর্ট নির্মাণ করছে। বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন এজেন্সির ছাড়পত্র গ্রহণের পর এই উদ্যোগকে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়ণ করছে। এই আলোকে অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীকেও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর উন্নয়নে বিনিয়োগের আহবান করা যেতে পারে। সুদূরপ্রসারী ও অভিজাত এই ধরনের ব্যবসায় দেশী বা বিদেশী অনেক বিনিয়োগকারী আগ্রহী হতে পারে। তবে বেসরকারী বিনিয়োগের পূর্বে জমির মালিকানা যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নি®পত্তির প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদী ইজারা প্রদান একটি উপায় হতে পারে।
প্রস্তাবনা।    
(ক)    অনতিবিলম্বে একটি টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে সচল করা যেতে পারে।
(খ)    একই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পার্শ্ববর্তী সরকারী জমিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা যেতে পারে।
(গ)    সম্ভাব্যতা জরিপ সাপেক্ষে বিরল, পীরগঞ্জ, নেকমরদ এলাকায় স্থলবন্দর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে ভারত, নেপাল ও ভূটানের সড়ক পথে যোগাযোগ সুগম করা যেতে পারে।
বিশ্বায়নের যুগে এবং প্রতিযোগীতামূলক অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে স¤পদের সুষ্ঠু বন্টন ও যথোপযুক্ত ব্যবহার অপরিহার্য। এই আলোকে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের মত বিশাল সরকারী স¤পত্তি অকেজো বা অব্যবহৃতভাবে ফেলে রাখার উপায় নেই। সরকারী বা দেশী/বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে যথোপযুক্ত বিনিয়োগ করলে ঠাকুরগাঁও জনপদ যেমন উজ্জিবিত হবে তেমনি দেশের গতিশীল অর্থনীতিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে। এ ব্যাপারে সকলের সু-দৃষ্টি কাম্য।

লেখক পরিচিতিঃ   কর্ণেল মোঃ সোহেল রানা, পিএসসি, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে পাইলট ও প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। 

নগর জুড়ে বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর