ব্রেকিং:
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ২ হাজার ৫২ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ জন। বিশ্বজুড়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা সাড়ে ৬৪ লাখ ছুঁইছুঁই করছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এ খবর জানিয়েছে।
  • রোববার   ০৫ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৭

  • || ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

সর্বশেষ:
পাটকল শ্রমিকদের জন্য কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে বর্ষসেরা চিকিৎসক বাংলাদেশি ফারজানা করোনা মোকাবিলায় ৪২৪ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া ফোনেই মিলছে করোনার জরুরি সেবা বিএনপি নেতারা আইসোলেশনে থেকে সরকারের দোষ ধরে- তথ্যমন্ত্রী
৯৮

ডিম বিক্রির টাকায় এ প্লাস পেলেন সাগর   

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২০  

অনেকেই বলতেন ডিম বিক্রির টাকায় পড়ালেখা করলে ফলাফল নাকি ডিমের মতো শূন্য হয়। কিন্তু মায়ের দোয়ায় সে কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করেছেন সাগর আহমেদ।
ব্র্যাক পরিচালিত নীলফামারীর জলঢাকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছেন সাগর আহমেদ। তাকে উদ্দেশ্য করে বলা সেই ব্যক্তিদের কথা মিথ্যা বলে প্রমাণ করে দিয়েছেন মেধাবী এই ছাত্র।

সাগর বলেন, মায়ের পোষা দুই জোড়া হাঁসের ডিম আমাকে পড়ালেখায় বেশি উৎসাহ জুগিয়েছে। এক হালি ডিম বিক্রির টাকার উপর বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে স্কুলে যাতায়াত করেছি। আমার দিনমজুর বাবার পক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় সম্পূর্ণ মনোযোগী থাকতাম স্কুলে সব স্যারদের ক্লাসে। সেখানেই সবকিছু বুঝে নেয়ার চেষ্টা করেছি। যার ফসল আজকের এই ফলাফল। প্রকৃত শ্রম কখনো প্রতারিত করে না। আমার বিশ্বাস  পরিশ্রম ও লক্ষ্য ঠিক থাকলে সফলতা আসতেই হবে।

নীলফামারীর জলঢাকায় গোলনা ৭ নম্বর ওয়ার্ড মাস্টারপাড়া এলাকার দিনমজুর আব্দুল গফুর ও লাকী বেগম দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে সাগর আহমেদ বড়। ছোট সন্তান ইতি আক্তার সে স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। 

লাকী বেগম স্থানীয় একটি মাদরাসা হতে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলেন। একই মাদরাসা থেকে আব্দুল গফুর ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়া শেষ করেছিলেন। তারপর শুরু হয় সংসার জীবন। সেই থেকে চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।

সাগরের বাবা আব্দুল গফুর বলেন, ছোটবেলা থেকে ছেলেটার পড়ার উপর খুব টান। প্রতিবেশী ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে থাকলে সেও তাদের দলের মাঝে মিশে যেত। আমি গরিব মানুষ চার শতক বসত ভিটাই আমার সম্বল। থাকার জন্য ২টা ঘর ছিল। কয়েকদিন আগে একটা ঘর ঘূর্ণিঝড়ে পড়ে যায়। সামর্থ্য না থাকায় সেই ঘরটিও মেরামত করতে পারিনি। এ ছাড়া গরিব বলে স্কুলে তার অর্ধেক বেতন নিত। বাকি বেতন মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা ও দিনমজুরের টাকায় পরিশোধ করতাম। স্কুল ছুটির দিনে সেও আমার সঙ্গে দিনমজুরের কাজে যায়। 

সাগরের মা লাকী বেগম বলেন, গ্রামের স্কুলে ছেলেটি যেদিন বৃত্তি পেল তার পরের দিন দুইজোড়া হাঁস পালন করতে শুরু করি। ডিম বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে হেঁটে পাশের বাজারে গিয়ে রিকশা-ভ্যানে স্কুল যেত। একদিন স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টিতে তার শরীর ভিজে যায়। সন্ধ্যায় তার শরীরটা একটু গরম গরম লাগে। রাতে প্রচন্ড জ্বর আসে। পাশে একজন পল্লী চিকিৎসককে ওর বাবা ডাকতে গেলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন আসতে পারবে না। সেদিন ছেলেটি খুব কষ্ট পেয়েছিল। ডাক্তার না আসার কথা শুনে সেদিন সে বলেছিল মা কখনো বড় হলে আমি ডাক্তার হব। এখন দেখছি তার মেধা ঠিকই প্রকাশ পেলেও আমাদের তো সাধ্য নেই। সন্তানের স্বপ্ন পূরণে সবার সাহায্য-সহযোগিতা চাই।

জলঢাকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সাদ্দাম, জাহাঙ্গীর আলম ও আরাফাত আলী বলেন, আমাদের স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অর্থায়নে পরিচালিত অসহায়-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ‘সহানুভূতি’ নামে একটি ফান্ড করা হয়েছে। ফরম পূরণ কিংবা পিকনিকে সামর্থ্যহীনদের এই ফান্ড থেকে সহায়তা করা হয়। চলতি বছর এসএসসিতে সহানুভূতি ফান্ড থেকে সাগরের ফরম পূরণ করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মির্জা এম এ গালিব বলেন, সাগর বিজ্ঞান শাখার ছাত্র ছিল। সে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিল। আমার জীবনে দেখা সে একজন ব্যতিক্রম শিক্ষার্থী। ক্লাসে অনেকেই পাশ ফিরে চাইলেও তার চোখের পলক যেন পরতেই চায় না। সবাই তার পাশে এগিয়ে আসলে ছেলেটি ভবিষ্যতে ভালোভাবে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকেরা ছেলেটিকে আমার অফিসে নিয়ে এসেছিল। আমি তাকে দেখেছি। উচ্চ শিক্ষার জন্য এমন মেধাবীদের পাশে থাকা- সহযোগিতা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমার বিশ্বাস সে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

নীলফামারী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর