ব্রেকিং:
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ১ হাজার ৯৯৭ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ জন। মহামারি করোনাভইরাসের চিকিৎসায় শর্তসাপেক্ষে রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হেলথ কমিশনার স্টেলা কাইরিয়াকাইডস।
  • শনিবার   ০৪ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২০ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনায় আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে আছে- শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামে ধরলার পানি বাড়ছে: বাঁধে ভাঙন তিন মাস পর ফিরলেন মোশাররফ করিম মৃত্যুর পর মানুষের ৯ আকাঙ্খা ও আফসোস যে কারণে ভারতকে সতর্ক করলো চীন
১৬

তিস্তা নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করছেন ডিমলা ইউএনও 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২০  

উজানের ঢল ও ভারী বর্ষনে তিস্তা নদীর বন্যা ও ভাঙ্গন পরিস্থিতির কোন উন্নতি ঘটেনি। বন্যা ও নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় তিস্তা নদী অববাহিকার মানুষজন চরম ক্ষতিগ্রস্থ সহ দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 


আজ রবিবার(২৮ জুন/২০২০) সকাল ৬টা থেকে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  গত দুইদিন ধরে এই পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিস্তায়। আজ পানির গতি মাত্র ৫ সেন্টিমিটার কমলেও তিস্তার বন্যা ও ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। 


দুপুর ১২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় তিস্তা নদীর বন্যা কবলিত হয়েছে ২০ হাজার মানুষ। ভাঙ্গনের মুখে পড়ে বসতঘর ও ভিটা হারিয়েছে ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের ২২টি পরিবার। এ ছাড়া আরো ৪০ পরিবারের বসত ঘর ভাঙ্গনের মুখে পড়ে বসতঘর নৌকায় করে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। 


ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় তিস্তা নদীর বন্যা ও ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে জানান, ভারী বৃস্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর চর ও নদীবেষ্টিত গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি নদীর ভাঙ্গনে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের সরকারী সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। 


ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপনী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ইউনিয়নের ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ি মৌজার ৬শত পরিবার পানিবন্দি। এরই মধ্যে ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। পরিবারগুলোকে নৌকায় করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে শুকনা খাবার ও নগদ দুই হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে। 


টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি কারনে ইউনিয়নের পুর্ব খড়িবাড়ি টাপুরচর এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে করা দুই হাজার মিটার বালির বাধটির ৫শত মিটার গত বন্যায় বিলীন হয়েছে। এবারের বন্যায় আবারও বাধটির ২০০ মিটার নদী গর্ভে বিলীন হলো। ওই গ্রামের প্রায় ৬ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছেন। 


পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন ভারত থেকে বাংলাদেশে তিস্তা নদীর প্রবেশদ্বার আমার ইউনিয়নের  ঝাড়শিঙ্গেশ্বর গ্রামটি পড়েছে। সেখানে একটি ক্রস বাধ থাকলেও তা চাহিদা অনুযায়ী গ্রামবাসীকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারছেনা। ফলে ওই গ্রামে ৭০০ পরিবারের ঘরবাড়ি দিয়ে নদীর পানি প্রবাহ হচ্ছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়ায় তিস্তা নদীর বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার। পানি প্রবাহ চলছে ৫২ দশমিক ৭৫ মিটার। তিস্তা ব্যারাজের সব কয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে রাখা হয়েছে। 

নীলফামারী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর