• বুধবার   ২৭ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
নিলুফার মঞ্জুরের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক যে কোনো সময় ‘দ্বিতীয় ঝড়’ শুরু হবে: ডাব্লিউএইচও বাংলাদেশের তৈরী ৬৫ লাখ পিপিই গেল যুক্তরাষ্ট্রে করোনা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রোগীদের খাবার পাঠালেন জেলা প্রশাসক সরকারি নির্দেশনায় ঈদের নামাজ আদায়: মুসুল্লীদের ধন্যবাদ
২৫৪

তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকার কৃষকদের মাঝে সেচ সুবিধা অব্যাহত     

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২০  

ফসলের মাঠে সেচ নির্ভর বোরোধান ও ভুট্টা আবাদ চলছে। দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ কমান্ড এলাকার কৃষকরা করোনা ভাইরাসে লকডাউন পরিস্থিতিতে যাতে সেচ হতে বঞ্চিত না হয় সে দিকে নজর রেখেছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে সেচ পেতে কমান্ড এলাকার কৃষকরা বঞ্চিত হয়নি। 


গতকাল শুক্রবার(১০ এপ্রিল/২০২০) সরেজমিনে দেখা যায়, বিগত শুস্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ কম থাকলেও এবার সেই পরিস্থিতি ছিলনা। বাংলাদেশ তিস্তা পানি ব্যবহার হচ্ছে পরিকল্পিত সেচ দেয়ার কাজে। তিস্তা পানির ওপর নির্ভরশীল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি উপজেলা- নীলফামারী সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর সদর, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর ও খানসামা।

 
তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সূত্র মতে, এবার পানির প্রবাহ ভাল থাকায় সবগুলো উপজেলায় সেচ দেয়া সম্ভব হয়েছে। চলতি খারিপ-১ মৌসুমে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার ৫০০ হেক্টরে। নদীতে পানি প্রবাহ ভাল থাকায় সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর সেচ পাচ্ছে। যা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ১৫ হাজার হেক্টর বেশী জমি সেচ সুবিধা পাচ্ছে। এর পাশাপাশি তিস্তার চরেও আবাদ হয়েছে ব্যাপক মিষ্টি কুমড়া। সরেজমিনে দেখা যায় চরে এবার মিস্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। 


সূত্র মতে, ১৯৯৩-৯৪ সালে শস্যবছর থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি উপজেলায় ব্যাপকভাবে আউশ ও আমন উৎপাদনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিস্তা নদীর পানি দিয়ে সেচ কার্যক্রম শুরু হয় দেশের সর্ব বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে। ২০০৬-০৭ শস্যবছর থেকে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বোরো মৌসুমেও সেচ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়। শুকনো মৌসুমে উজানের প্রবাহে তিস্তা নদীতে যে পানি পাওয়া যায়, তার সবটুকুই সেচ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সেচ খালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হচ্ছে।   


কমান্ড এলাকার কৃষক সহিদুল ইসলাম, বাবু ইসলাম, খালেক মিয়া সহ অনেকে জানায়, মাঠে সেচ নির্ভর বোরো ও ভুট্টা আবাদ চলছে। করোনা ভাইরাসের কারনে সরকারি ছুটি ও লকডাউন ঘোষনা করা হলে আমরা কৃষকরা চিস্তায় পড়ে যাই। কারন এ কারনে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এমন ভাবনা ছিল আমাদের। কিন্তু ডালিয়া ডিবিশনের তিস্তা ব্যারাজের সম্প্রসারন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেন মুজিববর্ষে সেচ বন্ধ হবেনা। আমরা সরকারি ছুটিতেও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে যাবো। ফলে আমরা নিয়মিত সেচ পেয়ে ফসল উৎপাদন করছি বলে জানায় কৃষকরা।  


তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে ২৫ জানুয়ারি থেকে সেচ দেয়া শুরু হয়। উজানে পানিপ্রবাহ ভাল থাকার ফলে তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকায় স¤পূরক সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন বিগত সময়ের চেয়ে এবার শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা পানিপ্রবাহ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। শুরুতে দুই  হাজার কিউসেক পানি পাওয়া গেলেও এখন সেই প্রবাহ তিন হাজার কিউসিকের উপরে রয়েছে। এতে কমান্ড এলাকায় সেচ প্রদান করা সহজ হয়েছে। তিনি বলেন করোনা ভাইরাসের কারনে সরকারি ছুটি ও লকডাউন ঘোষনা করা হলেও আমরা কৃষকের  মাঠের সেচ নির্ভর বোরো ধান ও ভুট্টা আবাদে কথা মাথায় রেখে মুজিবর্ষ সফল করতে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সেচ প্রদান করে চলেছি। 


উল্লেখ যে, তিস্তা নদীর পানি চ্যুক্তির বিষয়টি ভারতের সঙ্গে চলমান থাকায় উজান থেকে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা নদীর পানি পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে। বলাবাহুল্য তিস্তা অববাহিকার ৫ হাজার ৪২৭টি গ্রামের মানুষের জীবিকা এই নদী ও সেচ প্রকল্প ওপর নির্ভরশীল। এবার শুস্ক মৌসুমে তিস্তায় পানিপ্রবাহ ভাল থাকায়  মানুষজন রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। তবে করোনা ভাইরাসে তারা চিন্তিত।

নীলফামারী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর