ব্রেকিং:
দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ১ হাজার ৯৯৭ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ জন। মহামারি করোনাভইরাসের চিকিৎসায় শর্তসাপেক্ষে রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হেলথ কমিশনার স্টেলা কাইরিয়াকাইডস।
  • শনিবার   ০৪ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২০ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনায় আমাদের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে আছে- শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামে ধরলার পানি বাড়ছে: বাঁধে ভাঙন তিন মাস পর ফিরলেন মোশাররফ করিম মৃত্যুর পর মানুষের ৯ আকাঙ্খা ও আফসোস যে কারণে ভারতকে সতর্ক করলো চীন
১০৩

নীলফামারীতে করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলো দশ বছরের মিম 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২০  

দশ বছরের মিম অজানা কারনে করোনা ভাইরাজে পজেটিভ হয়েছিল। সেই শিশুটি করোনা জয় করে গতকাল বুধবার দুপুরে নিজবাড়ি ফিরেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ তাঁকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে নিজবাড়ি ফিরে যাওয়ার সহযোগীতা করেন। 


 মিম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের মেয়ে। সে গ্রামের স্কুলের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী। 
মিমের বাবা দিনমজুর মশিউর রহমান জানায় তার মেয়ে হঠাৎ করে পেটের ব্যথায় আক্রান্তহলে তাকে জলঢাকা উপজেলা হাসপাতালে ১১ মে রাতে নিয়ে এসে ভর্তি করাই। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পেটের ব্যাথায় মেয়ে সুস্থ হলে ১৩ মে সকালে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসি। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের করোনা ভাইরাসের নমুনা নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। ১৬ মে নমুনার রির্পোটের আমার মেয়ের করোনা পজেটিভ আসে। সেদিন রাতেই স্বাস্থ বিভাগের লোকজন এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আমার মেয়েকে উপজেলা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়াডে ভর্তি করে। আমার শিশু মেয়েটির কেন করোনা হলো বুঝতে পারিনি। মেয়ের করোনা হওয়ায় আমার পরিবারের সকলেই নমুনা দেই। লকডাউন থাতে হয় ১৪ দিন। কিন্তু আমাদের রির্পোট নেগেটিভ আসে।

তিনি বলেন, করোনার মতো জটিল ভাইরাসের চিকিৎসা উপজেলা হাসপাতালে হয় ভাবতে পারেনি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে বিনা খরচে  জটিল রোগের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে এটি বিশাল পাওয়া আমাদের। তিনি কান্না বিজরিত কন্ঠে বলেন চিকিৎসা চলাকালিন আমরা কেউ হাসপাতালে মেয়েটির কাছে থাকতে পারিনি। হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সরা আমার মেয়েকে নিজের মেয়ে ভেবেই তারাই তার সেবা করেছেন। আমি এমন ঋণ তাদের কোন দিন শোধ করতে পারবোনা বলে কেঁদে ফেলেন মিমের বাবা।


মিম জানায়, করোনা ভাইরাসে আমি আক্রান্ত হলেও আমার মনে কোনো ভয় ছিলনা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থানা অবস্থায় ডাক্তার আন্টি ও কাকুরা ,ও নার্স আন্টিরা আমাকে নিজের মেয়ের মতো করে সেবা দিয়েছেন। গরম পানি করে দিয়েছেন।  ফলমুল এসে নিয়মিত খাইয়েছেন। তিন বেলা ভাল ভাল খাবার দিয়েছেন। সময় মতো ঔষধ সেবন করিয়ে দিয়েছেন। আমি তাদের ভুলতে পারবোনা।


দীর্ঘ ১৬ দিন চিকিৎসা শেষে এখন মিম সুস্থ হয়ে নিজবাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় ডাক্তার ও নার্সদের জড়িয়ে কেঁদে উঠেছিল। এ সময় মিমের কন্ঠে ছিল থ্যাংকস ডাক্তার নার্স আন্টি কাকুদ্বয়।


উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডাঃ আবু হাসান মোঃ রেজওয়ানুল কবির বলেন, উপজেলা হাসপাতালের সকল চিকিৎসক ও নার্সরা সকল প্রকার রোগীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। ছো শিশু মিমের সেবাটি ছিল চ্যালেঞ্জ। সকলের মনে ভয় ছিল আমরা তাকে সুস্থ করে তুলতে পারবো কিনা। সেই চ্যালেঞ্জ এখানকার চিকিৎস ও নার্সরা সফলতার মুখ দেখিয়েছে। 
নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রনজিৎ কুমার বর্মন জানান, জেলার ছয় উপজেলার ডিমলা উপজেলা ছাড়া বাকী ৫ উপজেলা হাসপাতালে আমরা করোনা রোগীর জন্য আইসোলেশ ওয়াড চালু করি। প্রতিটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়াডে করোনা রোগী রেখে প্রতিজন চিকিৎসক ও নার্স সেবা প্রদান করছে। এই সেবা প্রদানে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তারপরেও অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরা ভয় করেনি। তারা তাদের দায়িত্বের সেবা এখনও পালন করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় করোনা পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ১৪৭ জন। ১০ বছরের শিশু মিম সহ সুস্থ্য হয়ে নিজ বাড়ি ফিরে গেছে ৫৩ জন। বাকিদের চিকিৎসা চলছে স্বযত্নে।

নীলফামারী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর