রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

৩৪

নীলফামারীতে কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০১৯  

বাড়ির পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রতিবেশী জামিদুল ইসলাম( ৪৫) নামে একজনকে আসামী করে থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৩ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের মৃত মজেতুল্যাহ মাহমুদের ছেলে আবুল হোসেন। এই প্রথম রাজধানী ঢাকার বাহিরে উপজেলা পর্যায়ে কুকুর হত্যা মামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃস্টি করেছে।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার নিজবাড়িতে একটি কুকুরকে লালন পালন করে আসছেন। এতে তার বাড়ি সহ অন্যান্য প্রতিবেশীদের বাড়িতে রাতের আধারে কোন চোর আসতে পারেনা। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে একই গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে জামিদুল ইসলাম সেই কুকুরটিকে কৌশলে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রুটি খেতে দেয়। এরপর কুকুরটির মাথায় এলোপাথারী লাঠি দিয়ে আঘাত করে কুকুরটিকে হত্যা করে।কুকুর হত্যা বিষয়ে মামলার আসামী জামিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কুকুরটি অসুস্থ ছিল। সকালে কুকুরটি আমার বাড়ির সামনে এসে হঠাৎ মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে।

কিশোরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম হারুন অর রশিদ বলেন, আমার চাকুরী জীবনে এই প্রথম কুকুর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পেলাম। সাধারণত প্রাণী হত্যার অভিযোগে কেউ মামলা করেন না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বুঝে না বুঝে প্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। তিনি জানান ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ যে ২০১৭ সালে ২৫ অক্টোবর দুইটি মা কুকুরকে লোহাররড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা ও পরে ১৪টি কুকুর ছানাকে মাটিচাপা দিয়ে হত্যা করেছিল রাজধানীর রামপুরায় বাগিচারটেক কল্যাণ সমিতির নিরাপত্তাকর্মী ছিদ্দিক মিয়া। ওই ঘটনায় মামলায় ২০১৮ সালের ১০ মে রায় প্রদান করেন ঢাকা মহানগর হাকিম। রায়ে ১৯২০ সালের প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইনের ৭ ধারায় ছয় মাসের কারাদন্ড দেয় আদালত। রায়ে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। যা মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীকে হত্যার অভিযোগ এটিই প্রথম রায় ছিল। ওই মামলাটি দায়ের করছিলেন পিপল ফর এনিমেল ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার চেয়ারম্যান রাকিবুল হক। মামলাটি হয় রামপুরা থানায়। আদালতে সেই সাজা প্রাপ্ত আসামি ছিলেন ভোলা জেলার চরফ্যাশনের ওসমানগঞ্জ গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে ছিদ্দিক মিয়া।

সেই রায়ে বিচারক বলেছিলেন কুকুরও আমাদের সমাজ এবং প্রকৃতির একটি অংশ। প্রাণী হিসেবে তাঁরও বাঁচার অধিকার আছে। আসামি প্রথমে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে দুটি মা কুকুরকে হত্যা করেন। পরে ১৪টি কুকুরছানা বস্তায় ভরে জীবন্ত মাটি চাপা দিয়েছেন; যা অত্যান্ত দুঃখজনক।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর