বুধবার   ১১ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১

৩৪

নীলফামারীতে সাড়া জাগানো ৫ দিনের আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব সমাপ্ত

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০১৯  

সাড়া জাগানো নীলফামারীতে পাঁচদিন ব্যাপী আর্ন্তজাতিক নাট্যোৎসব সমাপ্ত হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ওই উৎসবের শেষ দিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সৈয়দা শামছি আরা সায়েকার একক অভিনয়ে নাটক ‘গহনযাত্রা’। অন্যান্য দিনের ন্যায় শেষ দিনেও নাটক উপভোগে প্রাণচাঞ্চল্য ছিল দর্শকদের মধ্যে। 

‘গহনযাত্রা’ নাটকটি পরিবেশন করেন ঢাকার পদাতিক নাট্য সংসদ। রুবায়েত আহমেদের রচনা ও সুদীপ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় সৈয়দা শামছি আরা সায়েকার একক অভিনয় মুগ্ধ করে দর্শকদের।

পিনপতন রিবতার মধ্য দিয়ে নাটকটি উপভোগ করেন চার শতাধিক দর্শক। নাটক শেষে সকলের মুখে প্রসংশার ঝড়। অনেকে মন্তব্য করেন, এভাবেই ফিরে আনা সম্ভব সুস্থ্য সংস্কৃতির অনুশীলন। 

ভারত-বাংলাদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহনে ওই নাট্যোৎসবটি শুরু হয় গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায়। দুই দেশের ৫টি নাট্যদলের অভিনয় শিল্পীরা আকাঙ্খা পূরণ করেছেন দর্শকদের। তারা বলছেন, মানবিক মূল্যবোধ বিকাশ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির সেতু বন্ধন তৈরিতে অবদান রাখবে ওই উৎসব।

উৎসবের শুরুর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় ‘ভানু সুন্দরীর পালা’। উইলিয়াম সেক্সপিয়ারের “রোমিও এন্ড জুলিয়েট” এর ছায়া অবলম্বনে নাটকটি পরিবেশন করেন ভারতের ‘চাকদা নাট্যজন’ শিল্পিরা। দ্বিতীয় দিনে রাজশাহীর অনুশীলন নাট্যদল পরিবেশিত নাটক “বুদে রামের কূপে পড়া”। রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মলয় ভৌমিক। তৃতীয় দিনে ভারতের ছন্দম নাট্যদল পরিবেশিত নাটক “মেদেয়ারা”। রচনা করেছেন হর ভট্রাচার্য এবং নির্দেশানায় গৌতম মুখার্জি। চতুর্থ দিনে নীলফামারীর জলসিঁড়ি নাট্য সংস্থা পরিবেশিত নাটক “হবু রাজার একুশ পালন”। নাটকের রচনা করেছেন সম্বিত সাহা ও নির্দেশনায় ছিলেন জার্জিজ আলম। 

পাঁচ দিনব্যাপী চলা নাট্যোৎসবে সকল নাটক উপভোগ করা দর্শক জেলা শহরের প্রকৌশল শিক্ষার্থী তমালিকা রায় (২৩) বলেন, নাটক বিনোদন দেয়, সমাজের কথা বলে, মানুষের চেতনার বিকাশ ঘটায়, সভ্য হতে শেখায়। এসবের সবই ছিল ওই পাঁচ দিনের নাটকের মধ্যে। অভিনয়ে যারা ছিলেন তারাও অনেক নৈপুণ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। 

নীলফামারী  জেলা পরিষদ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং নীলসাগর গ্রুপের সহযোগিতায় পাঁচ দিনের আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের আয়োজন করে। 

এই উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহনকারীদের মাঝে ক্রেষ্ট ও সম্মাননা এবং উত্তোরীয় প্রদান করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন নীলফামারী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ দেবী প্রসাদ রায়, নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়োজিদ, রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিন লিলি জলসিঁড়ি নাট্য সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও এই উৎসবের আহবায়ক ওবায়দুর রহমান, সাহিত্যক মোহম্মদ আলী, সংস্কৃতিকর্মী আরিফা সুলতানা লাভলী প্রমুখ। 

উল্লেখ যে, পাঁচদিন ব্যাপী  আর্ন্তজাতিক নাট্যোৎসব উদ্বোধনী করেছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকী।

নাট্যোৎসবের আহবায়ক ও জলসিঁড়ি নাট্য সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও দর্শকদের সহযোগিতায় আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ৫দিনের ওই উৎসব শেষ করতে পেরেছি। আশা করি আগামীতে মাস ব্যাপী নাট্য উৎসবের আয়োজন করতে পারবো আমরা। 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর