ব্রেকিং:
ট্রেন দুর্ঘটনায় তূর্ণা নিশীথার চালক, সহকারী চালক ও পরিচালককে বরখাস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসে তুর্ণা নীশিতার ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৮ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কৃষিতে ক্ষতি ২৬৩ কোটি টাকা ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার প্রতি ১ লাখ টাকা এবং আহতদের ১০ হাজার টাকা করে সাহায্যের ঘোষণা রেলপথ মন্ত্রীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছাসেবকলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন আজ রাষ্ট্রপতি নেপাল যাচ্ছেন আজ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আগামী ৮ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে ৩৮তম স্থানে বাংলাদেশের মোহাম্মদ নাঈম
৩৭৬

নেশা বা মাদকের ওপর ইসলামের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সমসাময়িক মারাত্মক কিছু সমস্যাবলির মধ্যে নেশা বা মাদক অন্যতম।

মূলত কিশোর ও যুব সমাজের জন্য মাদক মারাত্মক হুমকি স্বরুপ দেখা দিচ্ছে। মাদকের বিষাক্ত ছোবল ধ্বংস করে দিচ্ছে অসংখ্য সম্ভাবনাময় জীবন। মাদকের কারণে প্রতিনিয়ত সমাজের পাপাচার, অন্যায়, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা বেড়েই চলেছে।

ইসলামে নেশা বা মাদককে হারাম করা হয়েছে। যে বস্তুর সেবন করলে মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে, স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হয়, অশান্তি, বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় সেই নেশার ওপর ইসলাম পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইসলামে অসংখ্য আয়াত ও হাদীসে নেশার প্রতি নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ রয়েছে।

মাদকের আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘খমর’ (خمر) যার অর্থ: সমাচ্ছন্ন করা, ঢেকে দেয়া । অর্থগত দিক থেকে মিল থাকার কারণে আরবিতে মদ বা শরাবকে ‘খমর’ বলা হয়। মদ মূলত আঙ্গুর থেকে তৈরি করা হয় এছাড়াও বিভিন্ন ফল ও ফুল থেকেও নেশাজাতীয় দ্রব্য তৈরি হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَ كُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ অর্থাৎ,

‘প্রতিটি নেশাদার বস্তুই মদ আর সকল মদই হারাম’। (সহীহ মুসলিম শরীফ , মিশকাত শরীফ)

মাদক দ্রব্য হলো এমন একটি রাসায়নিক দ্রব্য যা গ্রহণ করলে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়ে এবং যা আসক্তি, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, মেজাজ পরিবর্তন, মানসিক, আচ্ছন্নতা রক্তচাপ পরিবর্তন ইত্যাদির সৃষ্টি করে।

 

বর্তমান সময়ে মাদকদ্রব্য বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন: হিরোইন, কোকেইন, ইয়াবা, আফিম, মারিজুয়ানা, গাজা, ফেনসিডিল, বিয়ার, কেটামিন, মদ ও বিভিন্ন ধরনের ঘুমের ওষুধ থেকে শুরু করে জুতায় লাগানোর আঠা পর্যন্ত এর অন্তর্ভুক্ত। নেশার দ্রব্য বিভিন্ন ভাবে সেবন করা যায় : পান করে, ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে, নিশ্বাসের মাধ্যমে, শরীর কেটে ইত্যাদিভাবে । ইসলামে পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল করে মহান আল্লাহ পাক নেশা বা মাদক সম্পূর্ণভাবে হারাম করেছেন । সূরা মায়িদায় আল্লাহ পাক বলেছেন-

‘হে মুমিন বান্দাগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমা ও লটারি এসকল ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা এসকল কাজ থেকে দূরে থাকো। যেন তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হতে পার। শয়তান তো এটাই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের সৃষ্টি হোক এবং তোমরা আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে দূরে থাকো। সুতরাং তোমরা কি নিবৃত্ত হচ্ছো?’ (সূরা: মায়িদা, আয়াত: ৯০-৯১)

মাদকের নেশা করার পর একজন মানুষ তার স্বাভাবিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারেনা। শয়তান এসময় তাকে পেয়ে বসে। নেশাগ্রস্থ অবস্থায় নেশাকারীর ঈমান ঠিক থাকে না অতএব যদি ওই অবস্থায় কেউ মৃত্যুবরণ করে তাহলে তাকে বে-ঈমান হিসেবে মরতে হবে। এবং তার স্থান হবে জাহান্নামে।

মাদক নেশার ভয়াবহতা সম্পর্কে হজরত আবূ হুরাইরা (রা.) কতৃক বর্ণিত নবী করিম (সা.) এর একটি হাদীস এসেছে যে, ‘ব্যাভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্হায় ব্যভিচারীর ঈমান থাকেনা, মদ পান করার সময় মদ পানকারীর ঈমান থাকেনা এবং চোর চুরি করার সময় ঈমানদার থাকেনা।’ (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ্ ) মাদক নেশাকারীর শাস্তি সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদীসে অনেক বর্ণনা দেয়া আছে। একজন নেশাগ্রস্থের সম্পর্কে নবীজী (সা.) বলেন, ‘ মদ পান করে যে ব্যক্তি মাতাল হয়ে যাবে তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হবে না। এবং ঐ অবস্হায় মৃত্যু বরন করলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যদি সে তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করবেন, অত:পর সে পুনরায় মদ পান করে মাতাল হয়ে যায় তাহলে তার ৪০ দিনের সালাত কবুল হবেনা। অত:পর যদি সে ৪র্থ বারের মত মদ পান করে তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহর ওপরে তাকে রাদাগাতুল খাবালত্বীনাতুল খাবাল পান করানো অপরিহার্য হয়ে পরবে। তারা জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! রাদাগাতুল খাবালত্বীনাতুল খাবাল কি জিনিস ? রাসূল বললেন: জাহান্নামীদের শরীর থেকে নির্গত দুর্গন্ধযুক্ত নিকৃষ্ট রস।’ (ইবনু মাজাহ (৩৩৭৭), ইমাম আহমদ ও তিরমিযী)

এছাড়াও মিরাজের রাতে মহানবী (সা.) বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি দেখেছিলেন। সেখানে মদ, মাদক ও নেশা গ্রহণকারীদেরও শাস্তি দেখেছিলেন। সেখানে তিনি দেখেছিলেন যে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিরা জাহান্নামিদের শরীর থেকে নির্গত বিষাক্ত নোংরা পুঁজ পান করছে । (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)

মাদকের নেশার সঙ্গে সম্পর্কিত ১০ ব্যক্তির ওপর মহান আল্লার রাসূলের অভিসম্পাত রয়েছে। আর তারা হলো:

(১) মদের নির্যাস যে বের করে, (২) প্রস্তুতকারক, (৩) পানকারী, (৪) যে পান করায়, (৫) আমদানীকারক, (৬) আমদানী যার জন্য করা হয়, (৭) বিক্রেতা, (৮) ক্রেতা, (৯) রপ্তানীকারক এবং (১০) লভ্যাংশ ভোগকারী।

 

মাদকের নেশা ইসলামে যেমন নিষিদ্ধ তেমনি আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও অনেক ক্ষতি বয়ে আনে। মাদকের প্রতি নেশাগ্রস্ততার অনেক কুফল রয়েছে যা আমাদের ব্যক্তিজীবনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় যেমন:

(১) সুস্থ মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটায়,

(২) জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তির লোপ করে,

(৩) হজম শক্তির হ্রাস ঘটায় এবং খাবার স্পৃহা নষ্ট করে দেয়,

(৪) স্নায়ু দূর্বল হয়ে যায়,

(৫) শারিরীক ক্ষমতা হ্রাস পায়,

(৬) চেহারার বিকৃতি ঘটায়,

(৭) কিডনির সমস্যাসহ আরো অনেক সমস্যা দেখা দেয়,

(৮) বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে,

(৯) সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটায়,

(১০) অর্থের অপচয়,

(১১) সাংসারিক অশান্তির সৃষ্টি করে,

(১২) লিভার, হার্ট সংক্রান্ত অনেক রোগ হয়,

(১৩) হেপাটাইটিস, ফুসফুসে ক্যান্সার, স্ট্রোক, হৃদরোগ, জন্ডিস, মস্তিষ্কে ও মেরুদন্ডে রোগ হতে পারে,

ইত্যাদি ।

একসময় ইসলামে শুরুর দিকে মদ পান জায়েয ছিল কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে তা পবিত্র কোরআনের আয়াত নাজিল করে হারাম করা হয় এবং কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়।

 

পরিশেষে আলোচ্য বিষয় থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্তরে মহান আল্লাহর ভয় এবং রাসূল (সা.) প্রেম জাগ্রত করে যাবতীয় হারাম বস্তু ও নেশাদার বস্তু থেকে দূরে থাকি, যথাযথভাবে ইসলামী আদর্শ গ্রহণ করি এই হোক আমাদের শপথ।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –