ব্রেকিং:
সপ্তাহখানেক নিখোঁজ থাকার পর সন্ধান মিলেছে রংপুরের আলোচিত বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের। আজ শুক্রবার (১৮ জুন) বিকেলে তার খোঁজ পাওয়া যায়।
  • শনিবার   ১৯ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪২৮

  • || ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

সর্বশেষ:
নতুন প্রজন্মকে অপরাধমূলক কাজ থেকে দূরে রাখতে হবে- শিক্ষামন্ত্রী রংপুরের শতরঞ্জি পেল জিআই পণ্যের স্বীকৃতি রৌমারীতে মাদরাসাছাত্রদের মারধরের অভিযোগে শিক্ষক আটক গ্রাহক সেবা বৃদ্ধি করার নির্দেশ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

পঞ্চগড়ে পাথরের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বিএনপি নেতা

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২১  

কঠোর নির্দেশনা আর জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে পঞ্চগড়ে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল পাথর উত্তোলন। কিন্তু সম্প্রতি গোপনে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভূতিপুকুর সীমান্ত এলাকায় পাথরের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোসলিম উদ্দিন। শতাধিক শ্রমিক দিয়ে সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড ও সরকারি খাস জমি থেকে প্রভাব খাটিয়ে নির্বিঘ্নে তুলছেন পাথর। বিভিন্ন কৌশলে এই বিএনপি নেতা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেড় থেকে দুই বছর ধরে তেঁতুলিয়া উপজেলার ভূতিপুকুর সীমান্ত এলাকার খাস জমিতে শতাধিক শ্রমিক দিয়ে পাথর তুলছেন ভজনপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোসলিম উদ্দিন। প্রতিদিন উত্তোলন হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টলি পাথর। শ্রমিকদের এক টলি পাথর তুলতে তিনি বিল দিচ্ছেন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। বাকি টাকা ঢুকছে ওই বিএনপি নেতার পকেটে। দৈনিক এ পাথরের সাম্রাজ্য থেকে তার আয় হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সীমান্তের ওই স্থানে পাথর তুলছেন শতাধিক শ্রমিক। চারপাশে পাথর উত্তোলনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে উঠেছে সীমান্তের সমতল জমি। সীমানা পোল ঘেঁষা নোম্যান্সল্যান্ড ও খাস জমিতে বড় বড় গর্ত করে চলছে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। পাশে দাঁড়িয়েই তা তদারকি করছেন মোসলিম নিজেই। গ্রামরক্ষা বাঁধটিও ছাড় পায়নি তার হাত থেকে। নির্বিচারে বাঁধ কেটেও তোলা হচ্ছে পাথর।  

জানা যায়, পুলিশের দেখা পেলেই সটকে পড়েন তারা। পুলিশ সরে গেলেই আবারো শুরু হয় পাথর তোলার কাজ।

জুমের আলী নামে এক শ্রমিক বলেন, কাজ কাম নেই তাই এখানে পাথর তোলার কাজ করছি। সবাইকে ম্যানেজ করেই পাথর তোলা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে এক শ্রমিক জানান, মোসলিমের নির্দেশেই তারা পাথর তুলছেন। প্রতি টলি পাথর তুলতে তাদের মুসলিম মজুরি দেন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। আর মোসলেম প্রতি টলি পাথর বিক্রি করেন ৮ হাজার টাকায়। লাভ হচ্ছে মোসলিমের। তারা কেবল পাথর তুলে সামান্য কিছু পাচ্ছেন।

মোসলিম উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের কাজ কর্ম নেই তাই তারা এখানে পাথর তুলছে। আমি তাদের কাছ থেকে পাথর কিনে নিচ্ছি মাত্র। এখানে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হলে মহানন্দা নদী থেকেও পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।

জেলা পুলিশের এসপি মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, আমরা ওই স্থানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। যখন পুলিশ যায় তখন তারা সটকে পড়ে। আবার পুলিশ চলে গেলে আবারো পাথর তোলে। আমরা তাদের সতর্ক করে দিয়েছি। তারপরও যদি পাথর উত্তোলন করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।