সোমবার   ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯   পৌষ ২ ১৪২৬   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

২১

পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কোলে নবদম্পতি

প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর ২০১৯  

মাস খানেক আগে বিয়ে হয়েছে। দুটি প্রাণ কেবল অপরিচিত থেকে পরিচিত হতে শুরু করেছে। ঘর সংসার কী তাও বুঝে উঠতে পারেননি। তার আগেই সব শেষ। সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তরতাজা দুটি প্রাণ। এই নবদম্পত্তির নাম লাবু ইসলাম (২৬) ও মুক্তি বেগম (১৯)। বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউপির ডাকবদলি মাঝিপাড়া এলাকায়।

শুক্রবার দুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই দম্পত্তি। তাদের মৃত্যুতে ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাস খানেক আগে তাদের বিয়ের সময় যেমন লোক সমাগম হয়েছিল ঠিক তেমনি লোক সমাগম হয় তাদের মৃত্যুতে।

স্থানীয়রা জানায়, গত অক্টোবর তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউপির ডাকবদলি মাঝিপাড়া এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে লাবু ইসলামের সঙ্গে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউপির ভেলকুপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের মেয়ে মুক্তি বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কেবল জমে উঠতে শুরু করেছে নব দম্পত্তির সংসার জীবন। শরিফুল পেশায় করাত কলের শ্রমিক।

শুক্রবার দুপুরে শরিফুল তার শ্বশুর বাড়ির এলাকায় এক দাওয়াতে যোগ দিতে মুক্তিকে নিয়ে বাড়ি থেকে রওনা হন। ইজিবাইকে চড়ে তারা যাচ্ছিলেন। কিন্তু পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরমারী এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তাদের ইজিবাইকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান লাবুসহ পাঁচজন। তখনো নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন মুক্তি। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সেও মারা যায়। তার পরনে ছিল বিয়ের শাড়ি। সেই শাড়িতেই নিথর দেহটি ঢেকে রাখা হয়। ওই দুর্ঘটনায় তিন নারীসহ সাতজন প্রাণ হারান।

সন্ধ্যায় তাদের মরদেহ নিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। শনিবার সকালে মাঝিপাড়া ডাকবদলি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে একই সঙ্গে পাশাপাশি শায়িত করা হবে তাদের।

লাবুর বাবা মজিবর রহমান বলেন, বাবা বেঁচে থাকতে ছেলের লাশ দেখা যে কত কষ্টের যে ছেলে হারায় সেই অনুভব করতে পারে। সুস্থ মানুষগুলো বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে খুব বেশি সময়ও হয়নি মৃত হয়ে ফিরে এলো। এই দৃশ্য সইতে পারছি না। যাদের জন্য আমার ছেলে ও বৌমাসহ সাত সাতটি প্রাণ গেল আমরা তদন্ত করে তাদের বিচার দাবি করছি।

মাঝিপাড়া এলাকার মামুন ফকির বলেন, মাস খানেক আগে তাদের বিয়ে হলো আর আজ তারা দুর্ঘটনায় মারা গেল। সুন্দর এই নব দম্পত্তির মৃত্যু আসলে আমাদের এলাকার কেউ মেনে নিতে পারছে না।

পঞ্চগড়ের ডিসি সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়। কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –