সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

৪১

পাট পাতায় চায়ের সম্ভাবনা

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

বাংলাদেশ জুট মিলস, কর্পোরেশন ও ইস্টারট্রপ, জার্মানির যৌথ উদ্যোগে মানিকগঞ্জে তৈরি হচ্ছে পাট পাতার চা। এখানকার চা দেশের চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য দেশগুলোতেও রফতানি হচ্ছে। পাট পাতার চা স্বাভাবিক চায়ের চাইতে উন্নতমানের ও সুস্বাদু। এতে কিছুটা গন্ধ থাকায় লেবু ও আদার ফ্লেভারে তৈরি হরা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে পাতা সংগ্রহ ও শুকানোর প্রক্রিয়া চলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউপির লেমুবাড়ী এলাকায়। পরের প্রক্রিয়া চলে ঢাকায়। কিছুদিনের মধ্যে লেমুবাড়ীতেই চালু হবে চা তৈরির পুরো প্রক্রিয়া। আর এখান থেকে উৎপাদিত চা সরাসরি যাবে দেশ পেরিয়ে বিদেশে। এরইমধ্যে আড়াই টন চা জার্মানিতে রফতানি করা হয়েছে।

কথা হচ্ছিল পাট পাতা থেকে জৈব পানীয় তৈরির পরীক্ষামূলক প্রকল্পের পাটচাষি সমন্বয়কারী আব্দুল আলীমের সঙ্গে। তিনি জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস, কর্পোরেশন ও ইস্টারট্রপ, জার্মানির যৌথ উদ্যোগে পাট পাতা থেকে পানীয় তৈরি প্রকল্প এর পরিচালনা করছে। এদের উদ্যোগে ২০১৬ সালে লেমুবাড়ীর নতুন হাটের মো. আইয়ুব আলীর ৪০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে পাট পাতা দিয়ে চা তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু করা হয়।

কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, কাঁচা পাট পাতার জন্য লেমুবাড়ী চর এলাকায় ১ হাজার ৯১৮ শতাংশ জমিতে পাট চাষ করেছেন। স্বাভাবিক চাষের মতোই এ পাট চাষ করা হয়। পাট বোনার ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে এ গাছ যখন ৬ থেকে ৭ ফুট লম্বা হয় তখন আগা কাটার উপযোগী হয়। তখন পাট গাছের দুই থেকে আড়াই ফুট করে আগা কেটে এনে একটি বড় শেডের নিচে রাখা হয়।

আব্দুল আলীম আরো জানান, পাটের আগা কাটার জন্য ১৩ জন পুরুষ শ্রমিক রয়েছে। এদের পারিশ্রমিক দেয়া হয় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জনপ্রতি ৩৫০ টাকা। এরপর ওই পাটের আগা থেকে পাতা ছেঁড়ার জন্য নারী শ্রমিক রয়েছে ৩৫ জন। এদের পারিশ্রমিক দেয়া হয় প্রতি কেজি পাতায় দশ টাকা করে। তারা প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ কেজি করে পাতা ছিঁড়েন।

এরপর কাঁচা পাতাগুলো মাচার ওপর রেখে শুকানো হয়। রোদ থাকলে তা শুকাতে দুই-তিন দিন লাগে। শুকনো পাতা বস্তাবন্দী করে যত্নে রাখা হয়। পরে ঢাকা থেকে লোক এসে শুকনো পাতা নিয়ে যান। এরপর বিজেএমসির তত্ত্বাবধানে চা তৈরি চলে ঢাকায়। মানিকগঞ্জে ১৪ জন স্টাফ রয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক কাজের তদারকি করেন।

নারী শ্রমিক আছিয়া বেগম বলেন, অভাবের সংসারে ছেলে-সন্তান নিয়ে একা সংসার চালানো স্বামীর পক্ষে কষ্টসাধ্য। তাই বাড়িতে বসে না থেকে প্রতিদিন এখানে পাট পাতা ছেঁড়ার কাজ করি। এতে প্রতিদিন দুই-তিনশ টাকা করে পাই। তা সংসারে খরচ করি।

স্থানীয় বিশিষ্টজনরা বলেন, এখানে চা শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে অনেক বেকার যুবক ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হবে। তাছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ ভালো থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর