ব্রেকিং:
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। সিরিয়ায় গাড়িবোমা হামলায় নিহত ১২। যুক্তরাষ্ট্রে বেতন বিল পরিশোধের দাবিতে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান জেনারেল মটরসের ৫০ হাজার কর্মীর ধর্মঘট। পরবর্তী নাগরিকত্ব তালিকা হবে হরিয়ানায়; বললেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পূর্ণাঙ্গ চিত্র, দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রকাশের নির্দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের। চলতি বছর জম্মু-কাশ্মীরে ২০৫০ দফা অস্ত্রবিরতি লংঘন করেছে পাকিস্তান। সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২১ ভারতীয়; বললেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে প্রমোদতরী ডুবিতে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার। নিখোঁজ ৩০ জন। কঙ্গোর রাজধানীর কাছে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৩৬ জন, উদ্ধার ৭৬ জন। হংকং-এ গণতন্ত্র পন্থী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা। সৌদি আরবের তেল ক্ষেত্রে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি। ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি যুবরাজের পাশে থাকার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের।

সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৬ মুহররম ১৪৪১

সর্বশেষ:
রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ। ব্যাক্তি আদর্শচ্যুত হতে পারে, কিন্তু ছাত্রলীগ আদর্শচ্যুত হয়নি; বললেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়। সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সহ প্রচার সম্পাদক হত্যার ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা। আটক দুইজন। দলে অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স, বললেন ওবায়দুল কাদের। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ চায় বিএনপি। দুর্নীতিগ্রস্থ যতই ভাল চালক হোক, তাদের সরিয়ে দিতে হবে; বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বললেন ওবায়দুল কাদের। পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার। কুষ্টিয়ায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড। যশোরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৫ জন আটক; মাদক উদ্ধার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়লা বাড়িতে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ১। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কেউ জড়িত থাকলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে, বললেন কবিতা খানম। বিআরটিসি`র নতুন চেয়ারম্যান এর প্রথম কাজ দুর্নীতি বন্ধ করা, বললেন ওবায়দুল কাদের। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বিদেশি অস্ত্রসহ আটক ১ রোহিঙ্গা। গাজীপুরের সালনায় ইয়াবাসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব। নীলফামারীর দারোয়ানী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও কন্যা শিশুর মৃত্যু। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক মামলার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অস্ত্র-গুলিসহ আটক অস্ত্র ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান। পাবনায় গৃহবধূকে ধর্ষণের পর, থানায় বিয়ের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। রাজবাড়ীর চন্দনীতে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে ৯ মামলার আসামি রহিম নিহত। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের বাংলাদেশের পরের ম্যাচগুলোর জন্য দল থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার। ফিরেছেন নাজমুল শান্ত, নাঈম শেখ, আমিনুল বিপ্লব রুবেল ও শফিউল।
৩৮

পীরগঞ্জের রাজা নীলাম্বরের রাজধানীকে পর্যটন কেন্দ্র করার উদ্যোগ

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের রাজা নীলাম্বরের রাজধানীকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই জাতীয় সংসদের স্পিকার ও রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনের এমপি ড.শিরীন শারমীন চেীধুরী নীলদরিয়া পর্যটন কেন্দ্র কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক নীলদরিয়াতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। বরাদ্ধকৃত অর্থে এখানে শিশুদের খেলনা, লেডিস ও জেন্স ওয়াশ রুম ও পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মান সহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

একাধিক তথ্যে জানা গেছে, প্রাচীনকালে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক পীর আউলিয়া ও রাজা বাদশাহ ছিলেন। তাদের র্কীতি কাহিনী আজ ও উপজেলার মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। সেই রাজাদের অন্যতম একজন ছিলেন রাজা নীলাম্বর দেব। তাঁর নামে নীলাম্বরের কয়েকটি রাজধানী ছিল। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ছিল চতরায়। পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে চতরা বাজারের অদূরে নীলদরিয়া নামক স্থানে ছিল সেই রাজধানী।

এদিকে ১২'শ শতাব্দীতে বাংলায় যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতাপ ছিল তখনপাক-ভারতের রাজধানী ছিল গৌড়ে। আর লক্ষন সেন ছিলেন গৌড়ের রাজা। তারই অধীনে ছিলেন পীরগঞ্জের কিংবদন্তীর রাজা নীলাম্বর দেব। তিনি গৌড়ের রাজা লক্ষন সেনকে কর দিতেন। সে যুগে হিন্দু রাজা বাদশাহরা নিরীহ প্রজাদের উপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাতো। তাদের অত্যাচারের মাত্রা এতই প্রখর ছিল যে রাজার হুকুম ছাড়া প্রজারা কন্যা পর্যন্ত পাত্রস্থ করতে পারতোনা। এভাবে তারা প্রজাদের উপর মর্মান্তিক নির্যাতন বা ষ্টীম রোলার চালাতো। দিনের পর দিন যখন হিন্দু রাজাদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলছিলসে সময় ১৭ জন মুসলিম আউলিয়ার আগমন ঘটে পাক-ভারতে।

এই আউলিয়াগণ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে ইসলাম ধর্মের কথা প্রচার করতে থাকেন। লোকজন তাদের সাথে সহজে মিশতে এবং কথা বলতে পারায় সাধারন মানুষ ইসলাম ধর্মের প্রতি আসক্ত হতে থাকেন। এ খবর গৌড়ের রাজা জানতে পেরে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সে যুগে যুদ্ধ চলতো তীর ধনুক দিয়ে।

মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে গৌড়ের রাজা পরাজিত হন এবং গৌড় মুসলমানদের দখলে আসে। জানা যায় ১৭ জন আউলিয়ার মধ্যে একজন ছিলেন শাহ ইসমাইল গাজী (রহঃ)। তিনি পীরগঞ্জের বড় দরগাহতে আস্তানা গড়ে তোলেন। সেখান থেকে কর আদায়ের হিন্দু রাজা নীলাম্বর দেবের কাছে তার রাজধানী চতরায় জন্য লোক পাঠান। কিন্তু নীলাম্বর মুসলমানদের কর দিতে অস্বীকার করলে শাহ ইসমাইল গাজী (রহঃ) রাজা নীলাম্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

তখন প্রতিপক্ষের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে রাজা নীলাম্বর রাজধানীর চারপাশে আশি হাত প্রস্থ এবং আশি হাত গভীর ৫৬ একর জমিতে একটি পরিখা খনন করেন। খননকৃত ওই পরিখার মাটি দিয়ে রাজধানীর চারপার্শ্বে উঁচু করে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন। প্রাচীরের দক্ষিণ দিকে রাখা হয় একটিমাত্র সদর দরজা।

এই দরজা বন্ধ করা হলে রাজধানীর ভিতরে প্রবেশকরার কোন উপায় ছিল না। রাজধানী সুরক্ষার কাজ সমাপ্ত করে নীলাম্বরের সৈন্যরা রাজধানী থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দুরত্ব পর্যন্ত মাটি দিয়ে অসংখ্য বেড় (গড়) তৈরী করেন। সেই গড়ে হাতি পর্যন্ত লুকিয়ে থাকতে পারতো। এখনও কালের স্বাক্ষী হিসেবে গড়গুলো বিদ্যমান রয়েছে।

রাজধানী থেকে সর্বশেষ গড়টি ছিল পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ গাড়াবেড় পর্যন্ত। নীলাম্বরের সৈন্যরাও এ গাড়াবের পর্যন্তএগিয়ে ছিল। গড় গুলো তৈরীর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষকে বাধা দেয়া যাতে তারাসহযে রাজধানী আক্রমন করতে না পারে। এক পর্যায়ে শাহ ইসমাইল গাজী(রহঃ) রাজা নীলাম্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দিয়ে সৈন্য সহ যুদ্ধে অবতীর্ণহন।

দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চলায় মুসলমান সৈন্যদের সাহস ও যুদ্ধের কৌশলের কারণে নীলাম্বরের সৈন্যরা পিছু হটে চতরার সেই রাজধানীতে গিয়ে আশ্রয় নিতেবাধ্য হন। পিছু হটে রাজধানীতে আশ্রয় নেয়ার পর মুসলমান সৈন্যদের রাজধানীর অভিমুখে অগ্রসর হবার খবরে রাজা সকল সৈন্য ও প্রচুর খাদ্য সামগ্রী নিয়ে রাজধানীর ভিতরে প্রাচীর বেষ্টিত সদর দরজা বন্ধ করে অবস্থান করেন।

এদিকে মুসলমান সৈনিকরা রাজধানী ঘিরে ফেলেন এবং অবরোধ সৃষ্টি করেন। যাতে নীলাম্বরের কোন সৈন্য বাইরে গিয়ে খাবার সংগ্রহকরতে না পারে। এ ভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর নীলাম্বরের রাজকোষ শূন্য হয়ে যায়। শুধু পানি পান করে সৈন্যরা দিন কাটাচ্ছিল। ফলে শারীরিক দিক থেকে সৈন্যরা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই সুযোগে মুসলমান সৈন্যরা রাজধানীর সদর দরজা ভেঙ্গে এক যোগে রাজধানী আক্রমণ করে এবং একে একে সমস্থ সৈন্যকে হত্যা করে ও রাজা নীলাম্বর দেব কে বন্দি করে গৌড়ে পাঠিয়েদেন। এরপর নীলাম্বরের কি পরিণতি হয়েছে ? আজও তা অজানা রহস্যই রয়েগেছে। এখন রাজা নীলাম্বরের রাজধানীর মুল প্রাসাদের নেই কোন অস্তিত্ব। বিলীনহয়ে গেছে আবহমান কালের গতিতে। আছে শুধু প্রাচীরের ধংসাবশেষ ও রাজধানীর চতুর পাশের খননকৃত পুকুর।

চতরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহিন এ ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, সরকার নীলদরিয়াকে পর্যটন কেন্দ্র করার উদ্যেগ গ্রহনকরায় চতরা বাসী আনন্দিত এবং এ থেকে সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব আদায়ও সম্ভব হবে।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর