• বৃহস্পতিবার   ২৮ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭

  • || ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ালো ৯ জুন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ এক হাজারের অধিক পুলিশ সদস্য ব্রাজিলে হু হু করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য: কাদের আম্ফানে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি পৌনে দুই কোটি টাকা
৮৬

পেঁয়াজের আগুন নিভে যাবে শীঘ্রই

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

হঠাৎ করেই দেশের বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক তুমুল উত্তেজনা। অফিস-আদালত, চায়ের দোকান, সর্বত্রই এখন চলছে পেঁয়াজ নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন ধরনের জল্পনা-কল্পনা।

গত এক সপ্তাহ ধরে খারাপ আবহাওয়া, হঠাৎ বন্যা, ইত্যাদি কারণে পেঁয়াজের যে দাম বৃদ্ধি শুরু হয়েছিল, সেই দাম এখন প্রায় লাগামছাড়া পর্যায়ে। এর মধ্যে ভারত সরকার তাদের দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে, সমস্ত দেশে পেঁয়াজ রপ্তানি আপাতত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দর বেড়ে গেছে অনেকখানি। এমনকি এই দর বৃদ্ধির সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ করছেন তিনগুণ চারগুণ লাভের আশায়। আবার অনেক নিম্নআয়ের মানুষ পাইকার বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে, ভ্যানে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা অনেক চড়া দামে বিক্রি করছেন। এর ফলে দাম যতটা না বাড়ার কথা, তার চেয়েও বেশি বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায় পেঁয়াজ বাজারের এই সংকট যতটা না স্বাভাবিক, তার চেয়ে অনেক বেশি কৃত্রিম।

এদিকে জানা গেছে, একদিকে যেমন ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের দর, অন্যদিকে আমদানিকারকদের নির্দেশনা না পাওয়ায় পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ ছিল, ভোগ্য পণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে, তবে তা বিক্রি হচ্ছে বেশ চড়া দামে, ফলে অচলাবস্থা কাটছে না পেঁয়াজের বাজারের।

জানা গেছে, রাজধানীর কাওরান বাজারে আমাদের দেশী যে পেঁয়াজ গতকাল সন্ধ্যায় বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে, সেই পেঁয়াজ আজ সকাল থেকে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ভারতীয় পেঁয়াজ আজ সকালে বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে।

ভারত সরকার রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথে, এক রাতের মধ্যে বিস্ময়করভাবে কিভাবে পেঁয়াজের দাম এত বাড়লো, সে কথা আমদানিকারকদের কাছে জানতে চাওয়া হলে, বেশীরভাগ আমদানি কারকই এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে কোন কোন আমদানিকারক বলতে চেষ্টা করেছেন যে, তাঁরা লাখ লাখ টাকার এলসি খুলেছিলেন পেঁয়াজ আমদানির জন্য। এখন ভারত সরকার রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় তাঁরা বিপদে পড়েছেন। এই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় তাদেরও দাম বাড়াতে হয়েছে।

এদিকে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ভারতেও। সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায়, ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে পেঁয়াজের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাবে, স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত, বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ভারত সরকারের দাবি। তবে আমাদের দেশের আমদানিকারদের জন্য আশার কথা এই যে, অতীতে বহুবার বাজার নিয়ন্ত্রণে নয়াদিল্লি পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলেও তা এক মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি।

উল্লেখ্য যে, গতকাল বিকেলে এক ঘোষণার মাধ্যমে হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। এতে প্রতিবেশী দেশটি থেকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে গতকাল বিকেল থেকে পেঁয়াজ ভর্তি কোন ট্রাক আমাদের দেশে প্রবেশ করেনি। এর প্রভাবে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মজুদকৃত পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। এই পরিস্থিতিতে বাজারের এই অচলাবস্থা নিরসনে, বিকল্প কোন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ। একই সাথে কোন অসাধু ব্যবসায়ী যদি অধিক মুনাফার জন্য পেঁয়াজ মজুদ করে রাখে, তাহলে তাকে শাস্তির আওতায় আনার জন্যেও প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। এদিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, লাখ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। উল্লেখ্য যে, হিলি  স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন গড়ে  ৭০০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ বাংলাদেশে আমদানি করা হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত এই পরিস্থিতির জন্য, আমাদের ভারতের মতো একক দেশের ওপর আমদানি নির্ভরতাই দায়ী। যে কারণে ওখানে পেঁয়াজের দাম বাড়লে বা কোন কারণে তারা রপ্তানি বন্ধ করে দিলে, সাথে সাথে তার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়ে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন এর সূত্র মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৯ লাখ মেট্রিক টন, আর বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। যে অংশটুকু আমাদের আমদানি করতে হয়, সেই অংশটুকুর ৯৫ ভাগই আসে ভারত থেকে। বাকি ৫ শতাংশের ২ পার্সেন্ট আসে মিশর এবং ২ পার্সেন্ট পাকিস্তান থেকে এবং বাকি ১ পার্সেন্ট আমদানি করা হয় তুরস্ক, মিয়ানমার এবং অন্যান্য দেশ থেকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং টিসিবির বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, পেঁয়াজের বাজারের এই অস্থিতিশীল অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানি করা দুই জাহাজ পেঁয়াজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই এ পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তখন দাম কমতে শুরু করবে।

টিসিবি সূত্র জানায়, বাজারের লাগাম টেনে ধরতে সারাদেশে টিসিবি ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। তাদের বিক্রি করা পেঁয়াজ এর মূল্য প্রতি কেজি মাত্র ৪৫ টাকা। অন্যান্য জায়গার মত রংপুরেও প্রেসক্লাব, সিটি বাজারের সামনে, কাচারি বাজারসহ আরও অনেকগুলো পয়েন্টে তারা পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে এবং বাজারের অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কার্যক্রম চলবে বলে জানান তারা।

জনদূর্ভোগ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর