শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৪ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

পেঁয়াজের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

পেঁয়াজের দাম আবারো বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের টিসিবির ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনে ঘাটতি এবং বছর জুড়ে আমদানি নির্ভরতার কারণে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা । 
কৃষি প্রধান রংপুর অঞ্চলে বছরের পর বছর দাম না পাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারিয়েছেন পেঁয়াজ চাষে। যদিও এবার কিছুটা বেড়েছে কৃষিবিদদের মতে। অঞ্চল ভেদে জমির সুষম বন্টনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পেঁয়াজে চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা সম্ভব।  

বিবিএস-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী রংপুর জেলায় বছরে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৩ হাজার ২৮৭ মেট্রিক টন। জেলার মোট চাহিদা উৎপাদিত পরিমাণ দ্বারা মেটানো সম্ভব হলেও মোট চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি থাকায় বছর জুড়েই নির্ভর করতে হয় আমদানি পেঁয়াজের ওপর।

এবারে কৃষকপর্যায়ে পেঁয়াজের ভালো দাম পেলেও বিগত সময়ে পেঁয়াজ চাষিরা টানা লোকসানে থাকায় আগ্রহ কমেছে পেঁয়াজ আবাদে। 

সূত্র বলছে, ২০১৫-১৬ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল ৭ হাজার ১২৫ হেক্টর,২০১৬-১৭ তা কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪৭৮ হেক্টরে, ২০১৭-১৮ ৬ হাজার ৩৩৫ হেক্টর আর ২০১৮-১৯ আরো কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ১৪২ হেক্টরে। তবে এবারে দাম থাকায় আবাদ বেড়েছে।

কৃষিবিদদের মতে পেঁয়াজ আবাদ হয় এমন অঞ্চলগুলোকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যনীতি সমন্বয় এবং কৃষকদের উৎসাহিত করা গেলে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব।  
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে ভালো পদক্ষেপ নেয়া গেলে একদিকে যেমন কৃষক লাভবান হবেন; অন্যদিকে ভোক্তাপর্যায়েও এর দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
 
রংপুর নগরীর তপোধন এলাকার পেঁয়াজ চাষি সফর উদ্দিন জানান, প্রতি বছর পেঁয়াজ চাষ করার পর ভালো দাম পেয়েছি। এবারে দুই একর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। আশাকরি লাভ ভালো হবে।

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদফতরের জেলা মার্কেটিং অফিসার হাসান সারওয়ার বলেন, দেশের যে সব অঞ্চলে পেঁয়াজ চাষ হয় সে সব অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে উৎসাহিত করতে হবে

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর