ব্রেকিং:
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরো দুই হাজার ৫৪৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৪৭ হাজার ১৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন আরো ৪০ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৬৫০ জন। একদিনের আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে এটিই সর্বোচ্চ। ট্রেনের টিকিট শুধু অনলাইনেই বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। বসলো পদ্মাসেতুর ৩০তম স্প্যান: দৃশ্যমান সাড়ে ৪ কিলোমিটার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ছয়জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন স্বাস্থ্যকর্মী, তিনজন গার্মেন্টসকর্মী ও একজন মাওলানা।
  • রোববার   ৩১ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনা রোধে জনপ্রতিনিধিদের আরো সম্পৃক্তের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব অফিস খুলছে আজ করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানাতে চলবে মোবাইল কোর্ট পঙ্গপালের কারণে বিপর্যয়ের মুখে ভারত-পাকিস্তান দেশেই করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন আদিতমারীতে সব করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন
৫২১

ফুলের রাজ্য গদখালী

নীলফামারি বার্তা

প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর ২০১৮  

ঝক ঝক ঝক শব্দে ট্রেন এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। কখনো ঘন অন্ধকারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো আলোর ছটা এসে পড়ছে ট্রেনের গায়ে। আমার দৃষ্টি সীমানা পেরিয়ে ছুটে চলেছে দু’পাশের পৃথিবী। তখনই মনে পড়ে গেলো শামসুর রাহমানের কবিতার লাইনগুলো-

ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে

রাত দুপুরে অই।

ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে

ট্রেনের বাড়ি কই?

ছুটন্ত ট্রেন, আলো-আঁধারির খেলার মাঝে চোখটা কখন যেনো লেগে এসেছে। ট্রেনের ভেতর থেকে ভেসে আসা শব্দে হুড়মুড় করে জেগে উঠি। ট্রেন ততোক্ষণে যশোর জংশনের খুব কাছেই চলে এসেছে। সবাইকে নামার প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। অবশেষে স্টেশনে নামলাম। রাত তখন ৩ টা। এতো রাতে কোথাও যেতে দিচ্ছে না আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তাই অগত্যা অপেক্ষা করতে হয় ষ্টেশনে। বাকি রাতটুকু কাটলো গল্পের ঘোরে আর ফুলের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করেই! দেশের ফুলের রাজধানী যশোরের গদখালী যাওয়ার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই অপেক্ষা। দেশের ৭০ ভাগ ফুলের চাহিদা মেটে এখান থেকেই।

 

1.ফুলের রাজ্য গদখালী

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বের হলাম স্টেশন থেকে। যশোরের চাষড়া চেক পোস্ট থেকে লোকাল বাসে করে গদখালির উদ্দেশ্যে যাত্রা। ৪৫ মিনিটের মতো সময় লাগে বাসে যেতে। গদখালি যাওয়ার পথে রাস্তার দু’ধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষরাজি। আর যতদূর চোখ যায় সবুজে ঘেরা মাঠ। বাসের খোলা জানালায় বাতাস ভেদ করে চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে। সেই সাথে অ্যালেন গিন্সবার্গে বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড়’-এর আবৃত্তি শুনতে লাগলাম। মনে হলো ভ্রমণটা এখনই স্বার্থক হয়ে গেল! সেই সাথে চারপাশের মনোরম দৃশ্য দেখে ক্লান্তি যেন খানিকটা কেটে গেল। শীতের শুরুতে এরচেয়ে সুন্দর ভ্রমণ আর কি হতে পারে!

গদখালি বাজার থেকে নাস্তা করে ভ্যানে চড়ে চলে যাই ফুলের রাজ্যের দিকে। ভ্যান যতো সামনে এগোয়, চারপাশের জায়গাগুলো সবুজের পরিবর্তে লাল, নীল, হলুদ কিংবা সাদা হয়ে উঠে! চোখ আটকে যাচ্ছে দু’ধারে। যতদূর চোখ যায় শুধু ফুল গাছ। দেখলেই মনে হবে, হরেক রকমের রঙিন চাদর বিছিয়ে রেখেছে দিগন্তজুড়ে।

 

2.ফুলের রাজ্য গদখালী

ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের পানিসারা, হাড়িয়া, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, পটুয়াপাড়া, সৈয়দপাড়া, মাটিকুমড়া, বাইসা, কাউরা ও ফুলিয়া গ্রামের প্রতিটি মাঠের চিত্রই এমন। শত শত বিঘা জমি নিয়ে গাঁদা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডেইজি জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ আরও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ। মনে হবে সুন্দর বাংলাদেশের বুকে এক টুকরো স্বর্গ। তবে রজনীগন্ধা, গ্লাডিওল্যাস, গোলাপ আর গাঁদা ফুলের চাষ সবচেয়ে বেশি হয় এখানে। ফুল কেটে গরুর গাড়ি করে বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে থেকে চালান হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে।

ফুলের তীব্র সুগন্ধ, অসংখ্য মৌমাছি-প্রজাপতিদের উড়ে যাওয়া দৃশ্য মন কেড়ে নিবে। এখানকার ফুল চাষিদের মনটা ফুলের মতোই সুন্দর। যে কোনো বাগানে ঢুকে ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়ান, ছবি তুলুন, পছন্দমতো কয়েকটা ফুল তুলুন; কেউ কিছু বলবে না। বরং আপনার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিবে। তবে ফুলের বাগানে ঢোকার আগে অবশ্যই চাষিদের অনুমতি নিবেন।

 

3.ফুলের রাজ্য গদখালী

গদখালী যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহ ও জানুয়ারির প্রথম দু সপ্তাহ। তবে এখনো যেতে পারেন, তাহলে আংশিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করে ফিরতে হবে। এই আংশিক সৌন্দর্য্য-ও আপনার মনকে সুন্দর করতে বাধ্য।

গাড়ী, মিনিবাস, বাস নিয়ে খুব সহজেই যেতে পারবেন গদখালীর ফুলের রাজ্যে। অনেক খোলা জায়গা রয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে পিকনিকও করা যাবে। ছুটির দিনগুলো ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু আসে এখানে। ঢাকা থেকে একদিনে ঘুরে আসা সম্ভব। তবে যারা থাকতে চান তাদেরকে যশোর শহরের হোটেলগুলোকেই বেছে নিতে হবে।

ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর