• মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ৬ ১৪২৭

  • || ০৪ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
জনগণের সেবা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য- প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রীর মহানুভবতায় গাইবান্ধায় বিক্রি করা সন্তান ফিরে পেল মা বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত: এক প্রকল্পে সাশ্রয় ২৮৬ কোটি টাকা সাড়ে ৯ হাজার শ্রমিককে ৪০ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান আইপিএল নিয়ে জুয়া: কুড়িগ্রামে ছয় যুবক আটক
৮৩

বন্ধু হত্যার অপবাদ নিয়ে ২৪ বছর ঘুরতে হয়েছিল: ডন   

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

সালমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন অভিনতো আশরাফুল হক ডন। তিনি বলেন, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। অবশেষে কলিজার বন্ধুকে হত্যার মিথ্যে অভিযোগ থেকে মুক্ত হলাম। ২৪ বছর বুকের ভেতর বন্ধু হত্যার মিথ্যা অপবাদ আমাকে নিয়ে ঘুরতে হয়েছে। আমার যে ক্ষতি হয়েছে তার পূরণ কিছুতেই হবে না। আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম। সত্য কোনোদিন মিথ্যা হয় না। আর মিথ্যাকেও কোনোদিন জোর করে সত্যি বানানো যায় না।

ডন আরো বলেন, সালমান শাহ ছিল আমার কলিজার বন্ধু। এটা এই ইন্ডাস্ট্রির সবাই জানে। তার মৃত্যুতে আমারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হলো। নায়ক-ভিলেন হিসেবে আমাদের যে জুটি ছিল সেটি তরুণদের কাছে জনপ্রিয় ছিলো। সালমান চলে যাবার পর আমিও আর সিনেমায় তেমনভাবে নিয়মিত হতে পারিনি। তবু আমার ওপর বন্ধু খুনের মিথ্যে দায় চাপানো হলো। কত কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণা আমি সয়েছি দীর্ঘ এই ২৪ বছর সেটা আমিই কেবল জানি।

এদিকে  (সোমবার) সকালে ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জানায় পিবিআই। ঢালিউডের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা নয়। পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে পিবিআই।

প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তুলে ধরে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পিবিআই কর্তৃক তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, সালমান শাহের আত্মহত্যার পাঁচটি কারণ হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সালমানের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা; স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ; মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী হওয়ার বা আত্মহত্যার চেষ্টা; মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমানে রূপ নেয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আগমন ঘটে সালমান শাহর। স্মার্টনেস, নিজস্বতার কারণে রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হঠেন তিনি। মাত্র সাড়ে তিন বছরে ২৭টি ছবি করেন। জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে তখন ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুর খবর বিটিভির খবরে প্রকাশিত হয়। মৃত্যুর দুই দশক পরে এখনও সমান জনপ্রিয় তিনি।

বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর