সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৪ ১৪২৬   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৪১

বাড়িতে বিয়ে করতে এসে না ফেরার দেশে

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০১৯  

ঢাকায় অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন। দু’দিন আগে বিয়ে করতে বাড়ি আসেন। বৃহস্পতিবার কনের বাড়ির লোকজন ছেলেকে দেখতে আসার কথা ছিল। এরই মধ্যে বুধবার রাতে বাড়ির সামনে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন পুলিন চন্দ্র রায় (২৫)। হলো না তার বিয়ের স্বপ্ন পূরণ। বিয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন পুলিন।

নিহত পুলিন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ঝুনাগাছ চাপানি ইউপির দক্ষিণ সোনাখুলি গ্রামের ভবেন্দ্র রায়ের ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে পুলিন সবার বড় ছিলেন।

বুধবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পুলিন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিনের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় একটি মাইক্রোবাস। এতে মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন পুলিন। তাকে উদ্ধার করে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি করলে রাত ৯টার দিকে মারা যান পুলিন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১০ বছর ঢাকার রাস্তায় অটোরিকশা চালিয়ে এক বোনের বিয়ে দিয়েছেন পুলিন। ছোট ভাই সুদাশ চন্দ্র রায়কে কলেজে ভর্তি করে পড়াশুনা চালিয়ে আসছিলেন। সুদাশ চন্দ্র রায়কে জলঢাকা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ভাই সুমন চন্দ্র রায় সংসার দেখাশোনা করেন।

বিয়ে উপলক্ষে দু’দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন পুলিন। বৃহস্পতিবার পুলিনের বিয়ের কথা পাকাপোক্ত করতে কনের বাড়ির লোকজনের আসার কথা ছিল। এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান পুলিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় শ্মশানে পুলিন চন্দ্র রায়ের মরদেহ দাহ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান।

পুলিনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বাবা-মা। একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় পুলিনের বাবা ভবেন্দ্র রায় ও মাতা মিনতি বালা। কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারালেন পুলিনের বাবা ভবেন্দ্র রায়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে মাইক্রোবাসটি ফেলে পালিয়ে যান চালক ও অন্যরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইক্রোবাসটি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবার নিয়ে গেছেন। মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়া মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়েছে। মাইক্রোবাসের সূত্র ধরে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা যাবে। নিহতের পরিবার মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –