ব্রেকিং:
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এপ্রিল মাসে স্থলবন্দর দিয়ে কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাক্তার অনুপস্থিতির দুর্দিন এলে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে আনা হবে:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি আব্দুল মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবদুল মাজেদ গ্রেফতার
  • মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৪ ১৪২৬

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪১

সর্বশেষ:
করোনার পরীক্ষামূলক ওষুধ তৈরিতে আশার আলো দেখাচ্ছে বাংলাদেশ! বিশ্বব্যাপী মহামারির মধ্যেই আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস করোনা পরিস্থিতি দেখে ভয় পেলে ভয় পেলে চলবে না, সতর্ক থাকতে হবে:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিভিশনে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন
১৩৯

বেকারদের স্বপ্ন পুরণের সারথি নীলফামারী টিটিসি

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২০  

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চলার পথে কবিতায় বলেছেন, “আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া, বুকের মাঝে বিশ্বলোকের পাবি সাড়া”। কবি স্বপন কুমার মজুমদার বিদেশ ভ্রমন কবিতায় বলেছেন, “আকাশে প্লেন ভাসল, পৌঁছে গেলাম দূর বিদেশে”। 
ঠিক তেমনি বেকারদের স্বপ্ন প্লেনে উঠে পৌঁছে যাবে দূর বিদেশে। তাই বেকার যুবক-যুবতীদের স্বপ্ন পুরণের সারথি হয়েছে নীলফামারী সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। প্রশিক্ষণ দেশে পাবে ও চাকুরি সুযোগ বিদেশে পাবে। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানে ২৩জন পাড়ি দিয়েছেন বিদেশে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে কয়েক গুণ বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি করছে তারা। এখন যাওয়ার তালিকায় চুড়ান্ত হয়েছেন ১৫জন। পূর্ণ প্রশিক্ষনের প্রক্রিয়া শেষে তারাও পাড়ি জমাবেন জাপান, চীন, ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে। 

২০১৬ সালে ৪টি ট্রেড এবং নবম শ্রেণীতে দুটি ভোকেশনাল ট্রেড নিয়ে যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। এখন ১৫টি ট্রেডে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। চালু রয়েছে পাঁচটি ভাষা শিখন কোর্স। ভোকেশনালে ৭টি ট্রেড নিয়ে দেশের দ্বিতীয় অবস্থানে কেন্দ্রটি (একমাত্র বগুড়া টিটিসিতে ১১টি ট্রেড রয়েছে)।  
প্রতি ট্রেডে ৪০জন করে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে এপর্যন্ত প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৮১২জন। নারীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করেছেন উত্তরা ইপিজেডে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আর্কিটেকচার ড্রাফটিং উইথ অটোক্যাড, ক¤িপউটার অপারেশন, গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারিং, ইলেকট্রিক্যাল হাউজওয়্যারিং, কনজুমার ইলেকট্রনিক্স, মেশিন টুলস অপারেশন, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন, মোটর ড্রাইভিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, মোবাইল সার্ভিসিং, সিএনসি অপারেশন, সলিড ওয়াকার্স অ্যান্ড মাস্টারক্যাম, ম্যাশন, হাউস কিপিং এবং প্রাক বর্হিগমন ট্রেডে দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। এছাড়া জাপানী, কোরিয়ান, ইংরেজি এবং চাইনিজ ভাষা শেখানো হচ্ছে সেখানে। 
ট্রেড ভেদে একমাস থেকে শুরু করে ছয় মাস পর্যন্ত সময় কালে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষনার্থীদের। অষ্টম শ্রেণী পাস থেকে এইচএসসি পাস করা যুবক-যুবতীরা ভর্তি হতে পারেন টিটিসিতে। 

টিটিসি সূত্র জানায়, গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারিং প্রশিক্ষণ নিয়ে জর্ডানে গেছেন এক নারী, হাউস কিপিং  প্রশিক্ষণ নিয়ে ওমানে চারজন, সৌদি আরবে ১৫জন এবং ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিয়ে দুবাইয়ে গেছেন তিনজন। এছাড়া ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়ে জাপানে যাওয়ার জন্য দুই নারীসহ সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন স¤প্রতি। এছাড়া দুবাই ২৩জন ও দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার তালিকায় রয়েছেন ৭জন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে দ্রæতই পাঠানো হবে তাদেরকে। 
আজ সোমবার(২৭ জানুয়ারি/২০২০) দুপুরে জেলা শহরের কুখাপাড়া রেলঘুন্টি সড়কস্থ অবস্থিত নীলফামারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় শহরের ধনীপাড়া এলাকার ঈশিতা বানু পপি। তিনি বলেন, আমার পক্ষে জাপান যাওয়ার চিন্তা করা দুঃস্বপ্ন ছিল। কিন্তু টিটিসিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে সে দুঃস্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে। সেখানে গিয়ে আমি দেখাতে চাই মেয়েদেরও সক্ষমতা রয়েছে। 
জাপান যেতে মনোনীত হওয়া জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকার গোলাম আযম সাজু বলেন, আমি অনার্স স¤পন্ন করে অনেক চেষ্টা করেও সরকারী চাকুরী পাইনি। টিটিসিতে ছয় মাসের জাপানী ভাষার প্রশিক্ষণ নিয়ে জাপান যাওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছি। আমার পরিবার নি¤œ আয়ের। সেখানে গিয়ে আমি পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে চাই। 

জাপানী ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষক মাসুদ আলম জানান, জাপানে বাংলাদেশীদের চাকুরীর সুযোগ অনেক। আমরা সেটা ধরতে পারছি না। এটার মূল কারণ হচ্ছে ভাষা জানা না থাকা। তিনি জানান, সেখানে আমি ১২বছর ছিলাম। নীলফামারীতে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হওয়ার ফলে বেকার যুবদের জন্য বড় একটি জায়গা তৈরি হয়েছে। 
প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতরা জানান, ছাত্রী নিবাসসহ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের বড় মাঠ এবং অকেজো যন্ত্রাংশ মেরামত ও কেনার অর্থ না থাকায় নানামুখী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া ১৮জন কর্মকর্তার স্থলে ১৩জন এবং ২২জন কর্মচারীর স্থলে রয়েছেন ১১জন। জনবল সংকট অনেকটা পিছিয়ে রাখছে দ্রæত গতির কাজ। 

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির কারখানা তৈরি হয়েছে টিটিসি। এটির সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত আমরা চেষ্টা করছি প্রশিক্ষনার্থী ভর্তি করতে। শুধুমাত্র ভর্তি ফ্রি একহাজার টাকা নিয়ে। এজন্য গ্রামে গঞ্জে হাটে বাজারে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য প্রতি উপজেলা থেকে এক হাজার বেকার যুবককে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে বিদেশে পাঠানো। সেটি বাস্তবায়নে কাজ করছি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নীলফামারী টিটিসি অনেক সফলতা দেখাতে পারবে। 

এ ব্যাপারে জেলা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী এস.এম শফিকুল আলম ডাবলু বলেন, অদক্ষ হয়ে দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন হাজারো বেকার যুবক। আমরা এটা চাই না। তাই সরকারের ব্যবস্থাপনায় বৈধ হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে নিজের-পরিবারের এবং দেশের জন্য উপকারে আসবে তারা। তিনি বলেন, সারাদেশের মধ্যে একমাত্র নীলফামারীতেই চাইনিজ ভাষা শিখন কোর্স চালু হয়েছে। এর ফলে জেলার যুবকরা প্রশিক্ষণ নিয়ে উত্তরা ইপিজেডসহ বিভিন্ন ইপিজেডে চাকুরী করতে পারবেন ভালো বেতনে। একদিন এখানকার ছেলে মেয়েরা চাইনিজ কারখানাগুলো দখলে নিতে পারবেন। তিনি বলেন, নীলফামারীতে এখন অগাধ সুযোগ কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানটির বিকল্প নেই।   

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব(প্রশাসন ও অর্থ) নাজীবুল ইসলাম জানান, পেশাগত দক্ষতা এবং ভাষা শিক্ষা শেষে চ‚ড়ান্ত বাছাই অনুষ্ঠিত হবে জাপান দূতাবাসে। সেখানে তাদের অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে সব ধরণের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তাই চাকরির জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণার্থীরা যেনো সঠিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে তার নির্দেশনা দিয়েছেন জননেত্রী দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব মোঃ সেলিম রেজা জানান, এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে যাঁরা চাকরি নিয়ে বিদেশে যেতে চান, তাঁদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগ্রহ কম। অল্প কিছু টাকা খরচ করে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে। বিদেশে চাকরিপ্রার্থী অনেক লোক দালালের খপ্পরে পড়ে জায়গা-জমি বিক্রি করে বিপদে পড়েন। বিদেশে অবস্থানকালে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হন তাঁরা। অনেক মানুষ যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকায় বিপদের শিকার হন। তাঁদের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য দিনের পর দিন জেলে কাটাতে হয়। 
তিনি জানান, যাঁরা চাকরি নিয়ে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক, সরকার তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। এই প্রশিক্ষণ তাঁদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং যেনো কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে এমন কাজ না করেন, সে ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি দিয়েছে সরকার।

নীলফামারী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর