সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

সর্বশেষ:
পুরুষদের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ নিয়ে নারীরাও সমান দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে- বেগম রোকেয়া পদক অনুষ্ঠানে বললেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন নারীরা, বেগম রোকেয়ার সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবতা - বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার আশ্বাস। দুর্নীতিবাজদের স্বস্তিতে থাকতে দেয়া হবে না বললেন দুদক চেয়ারম্যান। এসএ গেমসে আর্চারির দশটি ইভেন্টেই স্বর্ণপদক বাংলাদেশের। এসএ গেমসে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বর্ণ সংখ্যা মোট ১৮টি। নিউজিল্যান্ডের হোয়াইট আইল্যান্ড আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ১ জন, নিখোঁজ বেশ কয়েকজন পর্যটক। হংকংয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে আন্দোলনকারীরা। কর্নাটকে বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে এগিয়ে বিজেপি – কংগ্রেসের হার স্বীকার। ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাস হচ্ছে আজ।
৩৬৭

ভার্মি সার উৎপাদনে আশার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজশাহীর দুর্গাপুরে বর্তমান সরকারের আমলে কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সরকারি ভাবে কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ায় এ উপজেলার কৃষিখাতে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। অব্যাহত ভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে ফসলের জমি ক্রমেই হারিয়ে ফেলছে তার প্রাকৃতিক শক্তি।

এতে করে যেমন ফসল ফলাতে গিয়ে কৃষকদের বাড়তি রাসায়নিক সারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, তেমনি দিনের পর দিন বাড়ছে খরচ। এই অবস্থায় জমির উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বিকল্প উপায় খুঁজতে গিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের চিন্তা করেন। এরপর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে যুবকদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদের ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের কলাকৌশল সম্পর্কে অবহিত করেন। ফলে একদিকে যেমন কৃষিতে জৈব সারের ব্যবহার বেড়েছে। তেমনি কৃষকরা আর্থিক ভাবেও লাভবান হচ্ছেন।

জানা গেছে, রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জমিতে কম্পোস্ট সার এবং কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট এখন দিন দিন জনপ্রিয়ও হয়ে উঠছে। এর প্রস্তুত প্রণালী অনেকটা সহজ হলেও কেঁচো সংগ্রহ এবং সার উৎপদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে কৃষকদের এখনো তেমন ধারণা নাই। তবে আশার কথা হলো, এই কেঁচো সার উৎপাদন করেই আশার আলো দেখছেন রাজশাহীর দুর্গাপুরের বহরমপুর গ্রামের কয়েকজন কৃষক। প্রায় ১৫ বছর আগে গড়ে তোলা তাঁদের কৃষি ভিত্তিক একটি ক্লাবের মাধ্যমেই স¤প্রতি কেঁচো সারের উৎপাদন শুরু করেন তারা। বহরমপুর আইপিএম ক্লাবের ৩২ সদস্য মিলে এ সার উৎপাদন করে এরই মধ্যে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন তারা।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অধিদফতর সূত্র মতে, উর্বর মাটিতে পাঁচ ভাগ জৈব পদার্থ থাকতে হয়। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ও বায়ু চলাচল বাড়াতে ওই পরিমাণ জৈব পদার্থ থাকতে হলেও আমাদের দেশের মাটিতে রয়েছে ১ দশিমক ৮০ থেকে ২ ভাগ। কোন অঞ্চলে আরও কম। এতে করে জমিতে চাষীরা পর্যাপ্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহারে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে বিভিন্ন ফসলের উপর রোগ ও পোকামাকড়লের আক্রমণ বৃদ্ধিসহ ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। সেহেতু জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়াতে ভার্মি কম্পোস্ট এর ভূমিকা অপরিসীম। এটি বিবেচনা করে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অফিসার ড. বিমল কুমার প্রামানিকের পরামর্শে এবং উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানের সহযোগিতায় ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির কাজ হাতে দেন বহরমপুর আইপিএম ক্লাবের সদস্যরা। এটি করতে প্রথমে কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির কাজ শুরু করেন বহরমপুর আইপিএম ক্লাবের সদস্যরা। যার নাম দেওয়া হয় ‘সয়েল হেলথ ভার্মি কম্পোস্ট ফার্ম’।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বহরমপুর গ্রামের একটি আম বাগানের পাশে এই ফার্মটি তৈরি করা হয়। উপরে টিনের ছাউনি আর নিচে বেড়া দিয়ে দিয়ে তৈরী করা একটি ঘরের মধ্যে পাশাপাশি চারটি লাইনে ২৫০ টি মাটির চাড়ি বসানো হয়েছে। প্রতি মাটির চাড়িতে ১৫ কেজি গোবর সার ও ২০০ গ্রাম করে অস্ট্রেলিয়া জাতের কেঁচো দেওয়া আছে। কেঁচো গুলো গবর খেয়ে ফেলে। এরপর তারা যে মল পরিত্যাগ করে, সেগুলোই পরের ১৫ দিনের মধ্যে ভার্মি কম্পোস্ট সারে পরিণত হয়।

জানতে চাইলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রতি শতক জমিতে পাঁচ কেজি হারে প্রয়োগ করলে রাসায়নিক সার শতকরা ৫০ ভাগ প্রয়োগ করতে হবে। আর পরপর তিন বছর একই জমিতে বিভিন্ন ফসলে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করার ফলে বাসায়নিক সারের ব্যবহার আর প্রয়োজন হবে না। তখন শুধু ভার্মি কম্পোস্ট সার দিয়েই ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

ওই ক্লাবের সভাপতি মাইনুল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকারের কৃষিতে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে তারা প্রথমে অস্ট্রেলিয়া জাতের ১৬ কেজি কেঁচো কিনে এনে এ সার উৎপাদন শুরু করেন। প্রতি কেজি কেঁচো ১ হাজার টাকা করে তারা কিনে আনেন। তবে বর্তমানে তাঁদের ফার্মে প্রায় ৫০ কেজি কেঁচো উৎপাদন হয়েছে। কারণ যে কেঁচো মাটির চাড়িতে রাখা হয়, সেগুলো আবার বাচ্চা দেয়। এরপর যখন সারে পরিণত হয়, সেগুলো ছাকনা দিয়ে চেলে নিয়ে কেঁচোগুলোকে আলাদা করে নেওয়া হয়। আর সারগুলো হয়ে যায় আলাদা। এরপর সেই কেঁচোগুলো আবারো চাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হয় গবরের মধ্যে। এভাবেই কেঁচো থেকে কেঁচো উৎপাদনের পাশাপাশি সারও উৎপাদন হচ্ছে। এতে করে দুইদিক থেকেই লাভ হচ্ছে তাদের।

মাইনুল ইসলাম আরো বলেন, এই সার ক্লাবের সব সদস্যরা তাদের বিভিন্ন ফসলে এরই মধ্যে ব্যবহার শুরু করেছেন। পাশাপাশি গ্রামের অন্য কৃষকরাও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সারের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে রাসায়নিক সার ব্যবহারও কমিয়ে দিয়েছেন। আশা করা যায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে উপজেলার অন্তত ৭৫ ভাগ কৃষক ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করতে শিখবে। আর এটি শুরু হলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমের দিক থেকে দুর্গাপুরই হবে দেশের একটি মডেল উপজেলা। সেই সঙ্গে পরিবেশ দূষনমুক্ত হবে এবং প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাসায়নিক সার কেনা থেকে কৃষকরা রেহায় পাবেন।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসরাণ কর্মকর্তা ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষি খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে বেকার যুকব ও এলাকার কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিই। বর্তমানে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি ও বিক্রি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দুর্গাপুরে। এটি তৈরি করেই বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন কৃষকরা। আবার ফসলে রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কমে যাবে কয়েকগুণ। এক সময় হয়তো এ উপজেলায় আর রাসায়নিক সারের প্রয়োজনই হবে না। যদি কৃষকদের মাঝে এটি সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে দুর্গাপুরে শুধু ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেই সব ধরনের ফসল আমরা উৎপাদন করতে পারবো বলে আশা করছি।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর