• শনিবার   ০৮ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৪ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
আজ শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন দেশে ৯০০ টন অক্সিজেন মজুদ আছে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী খানসামায় করোনায় কর্মহীন ৩ হাজার পরিবারকে সহযোগিতা বালু উত্তোলনের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুড়িগ্রামে পরিবহণ শ্রমিকরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২১  

ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি পর্যায়ে আগাম কর প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দামের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানতে পরিশোধিত পাম তেলের ওপর প্রযোজ্য ৫ শতাংশ আগাম করের পুরোটাই প্রত্যাহার করা হয়েছে নতুন আদেশে।

সোমবার (১৯ এপ্রিল) এনবিআর চেয়ারম্যান আবু মো. হেনা রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত আদেশ এ তথ্য জানা গেছে। আর এ সুবিধা কেবলমাত্র ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে। এর ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর আগে গত ১১ এপ্রিল অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর পরিচালক (জনসংযোগ) সৈয়দ এ মুমেন বলেন, পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এনবিআর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে আরোপিত কর ও ভ্যাট যৌক্তিক হারে নির্ধারণের জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের মূল্যের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করার ঘোষণা দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার সয়াবিন (খোলা) মিল গেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন মিলগেট মূল্য ১২৩ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১২৭ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১৩৫ টাকা। পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন মিলগেট মূল্য ৫৮৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ৬০০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৬২৫ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের বাজার অস্থিতিশীল থাকায় দেশের পরিশোধনকারী মিল ও ভোক্তাস্বার্থ বিবেচনায় ভোজ্য তেলের মূল্য সীমা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন, পাম ও পাম অলিন তেলের ওপর আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আগাম কর (এটি), উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বিক্রয় ও সরবরাহ পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট রয়েছে। এর মধ্যে ধাপে ধাপে আমদানি পর্যায়ে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত প্রশংসনীয়।  অভিন্ন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের মূল্যের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করার ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী, যা বাস্তবায়ন হলে বাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হবে।