সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

৩৫৪

যার নামে ‘কক্সবাজার’

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৮  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বহু বছর আগের কথা, বহু মানে ৩০ বা ৫০ বছর নয়, প্রায় সাড়ে ৫শ বছর আগের কথা বলি। ঝাউবন, বালুর নরম বিছানা, নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের এক এলাকা। নির্জন সেই এলাকাটি ‘প্যানোয়া’ নামেই পরিচিত স্থানীয় গুটিকয়েক মানুষের কাছে। আরাকান রাজ্যের কাছাকাছি হওয়ায় নামটাও তাদেরই দেয়া। প্যানোয়া শব্দের অর্থ ‘হলুদ ফুল’। কারণ আশপাশের এলাকা হলুদ ফুলে ঝকমক করতো। এরপর আরো প্রায় এক শতক পর ওই এলাকায় আনাগোণা শুরু হয় মোগলদের। নতুন নামকরণ হয় ‘পালংকী’। এখনো যদি কারো চিনতে সমস্যা হয় তো বলতে হবে, যে অঞ্চলের কথা বলছি তার নাম কক্সবাজার। যেখানে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত।

এরপর বাংলায় পড়লো ইংরেজদের পা। অবশ্য পড়লো না বলে পা দিলো বলাটাই যুক্তিযুক্ত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একট রেজিমেন্ট আসন গাড়লো পালংকীতে। রেজিমেন্টের দায়িত্বে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স। আশপাশের নির্জনতা দুর করতে বা আরো পরিস্কার করে বলতে গেলে, এলাকায় লোক সমাগম বাড়াতেই বিশাল এক বাজার তৈরির আদেশ দিলেন "কক্স সাহেব"। লোক মুখে সেই বাজারের নাম করণ হলো ‘কক্স সাহেবের বাজার’ নামে। ধীরে ধীরে এলাকার পালংকী নামটাই বিলুপ্ত হয়ে গেল রয়ে গেল কক্সবাজার।

এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়া ও নাফ নদী। বনজ সম্পদ, মৎস্য, শুটকি মাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকা সমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজার বরাবরই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

কক্সবাজারে অন্যতম দর্শনীয় স্থান সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ মন্দিরের ঐতিহাসিক পটভূমি, রামকোট তীর্থধাম, শ্রী শ্রী রামকূট বৌদ্ধ বিহার, মৎস্য অবতরণ ও পাইকারী মৎস্য বাজার, বরইতলী মৎস্য খামার, পাতাবাড়ী বৌদ্ধ বিহার, বড়ঘোপ সমুদ্র সৈকত, রাখাইন পাড়া, চৌফলদণ্ডি-খুরুশকুল সংযোগ সেতু, গোলাপ বাগান, বার্মিজ মার্কেট, মাতামুহুরী নদী, মগনামা ঘাট, ইনানী সি বিচ, কানা রাজার সুড়ঙ্গ, আদিনাথ মন্দির, অগ্গ মেধা বৌদ্ধ ক্যাং, রাডার স্টেশন, চৌধুরী পাড়া মসজিদ বা আজগবি মসজিদ, রাখাইন সম্প্রদায়ের প্যাগোড়া (জাদী), ছেংখাইব ক্যাং, মাথিনের কূপ, মহেশখালী আদিনাথশিব মন্দিরের পাশে অষ্টভূজা মূর্তি।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –