সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

৭৮

রংপুর অঞ্চলে প্রতি হেক্টরে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে ১২ টন

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৯  

রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও চাষের জমি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। চলতি মৌসুম রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিহাট ও নীলফামারী জেলায় হেক্টর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১২ মেট্রিক টন। অথচ পেঁয়াজের জমি বৃদ্ধির পরিবর্তে কমেছে ৮৭২ হেক্টর।

উৎপাদিত ফসলের কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। এবার নতুন পেঁয়জের দাম পাওয়ায় তারা খুশি।

রংপুরের পীরগাছার ছেচাকান্দি এলাকার পেঁয়াজ চাষি নবী জানান, কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। এবার নতুন পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন।

কৃষক আব্দুর রহিম জানান, কৃষকরা বাজার মূল্য না পেলে ফসল উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। তাই প্রতিটি ফসলের মৌসুমে যাতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন এই জন্য সরকারিভাবে পলিসি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন,পেঁয়াজের মৌসুমে অন্তত দুই মাস পর্যন্ত আমদানি বন্ধ রাখা দরকার। তাহলে কৃষকরা মৌসুমে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন। এছাড়া কৃষকরা যাতে ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন এজন্য বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা দরকার।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ২০১০-১১ থেকে ২০১৯-২০ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী এবং রংপুরে  পেঁয়াজের চাষের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১০-১১ সালে ৭ হাজার ২৩১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল ৫৭ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন । ২০১১-১২ সালে ৬ হাজার ৮৯৭ হেক্টর জমিতে ৫৯ হাজার ৫০৩ মেট্রিক টন, ২০১২-১৩ সালে ৬ হাজার ৯০২ হেক্টর জমিতে ৬৮ হাজার ১৭ মেট্রিক টন, ২০১৩-১৪ সালে ৭হাজার ৪২২ হেক্টর জমিতে ৬৮ হাজার ৩৫ মেট্রিক টন, ২০১৪-১৫ সালে ৬হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে ৭০ হাজার ৪৬২ মেট্রিক টন, ২০১৫-১৬ সালে ৬হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে ৬৯ হাজার ৪৫৬ মেট্রিক টন, ২০১৬-১৭ সালে ৭হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ৭২ হাজার ২০১ মেট্রিক টন, ২০১৭-১৮ সালে ৬ হাজার ১৭৮ হেক্টর জমিতে ৬৮ হাজার ৪৫৮ মেট্রিক টন, ২০১৮-১৯ সালে ৬ হাজার ১৪২ হেক্টর জমিতে ৬৬ হাজার ৮৮৬ মেট্রিক টন,  ২০১৯-২০ সালে (চলতি মৌসুমে) ৬ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে ৬৫ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চাষ হয়েছে ১ হাজার ৭৬৯ হেক্টর। হেক্টর প্রতি উৎপাদন গড়ে প্রায় ৯ মেট্রিক টন।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলে পেঁয়াজ চাষে বীজ থেকে তৈরি চারা রোপন ও ছোট আকারের কন্দ (বাল্ব) বীজ হিসেবে রোপন করা হয়। বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফলন বৃদ্ধির কারণ হলো, নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ। তবে কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী করতে হলে আগাম পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী করতে হবে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। এ বছর রংপুর অঞ্চলে কন্দ পোঁয়াজের চাষ শুরু হয়েছে। আর কিছুদিন পর পেঁয়াজের চারা রোপন শুরু হবে। তাই আশাকরি  লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজের চাষ হবে।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর