সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

৮১

উন্নয়নের মহাসড়কেঃ

রংপুর জেলার উন্নয়নের সেকাল-একালের চিত্রঃ পর্ব-০২

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৯  

২০০৯ সালে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ওই সময়ে আশু করণীয়, মধ্য-মেয়াদি ও দীর্ঘ-মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারা। পরে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করার  পাশাপাশি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ধরে রাখে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। ১০ বছর একটানা সরকারের দায়িত্বগ্রহণ করে বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্বেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম আওয়ামী লীগ সরকার।

দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে গড়ে তোলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সীম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডওয়াইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। সকল ধরনের সরকারি ফরমস, জমির পর্চা, পাবলিক পরীক্ষার ফল, পাসপোর্ট-ভিসা সম্পর্কিত তথ্য, কৃষিতথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইনগত ও চাকুরির তথ্য, নাগরিকত্ব সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রক্রিয়া, ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিল প্রদানের সুবিধা জনগণ পাচ্ছেন। ঘরে বসে আউটসোর্সিং-এর কাজ করে অনেক তরুণ-তরুণী স্বাবলম্বী হয়েছে। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে প্রবাসীরা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।

স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করে সরকার।

এ সময়ে ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর।

বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্টোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

গ্রিডবিহীন এলাকায় ৪৫ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের কাজ শুরু হয়েছে। গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি শুরু হচ্ছে। রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে।

দেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে সরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নীত করা হয়েছে। চন্দ্রা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার-লেনে উন্নয়নের কাজ চলছে।

সারাদেশে ২ কোটি ২৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ জন কৃষকের মধ্যে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৮ লাখ কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন। প্রাইমারি থেকে মাস্টারস ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি ও উপবৃত্তি পাচ্ছে। ১ কোটি ৩০ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৃত্তির টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭ হাজার।

দেশকে এগিয়ে নিতে সারা দেশে একই সাথে চলতেছে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ১০ বছরে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা রংপুরেও লেগেছে উন্নয়নের পরশ ছোয়া। ১০ বছর আগের রংপুর আর বর্তমান সময়ের রংপুর এক নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমুলক কাজের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েছে রংপুর জেলা। রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেলের উন্নয়ন, মানুষের জীবন যাত্রার মান, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ সকল ক্ষেত্রে লেগেছে উন্নয়নের ছোয়া। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে একের পর এক উন্নয়ন উপহার দিয়েছেই চলেছে রংপুরবাসীকে। অন্য জেলাগুলোর সাথে সমান তালে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে স্বপ্নের রংপুর জেলা।

রংপুরের উন্নয়ন নিয়ে আমাদের পোর্টালে  ‘উন্নয়নের মহাসড়কেঃ রংপুর জেলার উন্নয়নের সেকাল-একালের চিত্র’ শীর্ষক একটি পর্ব ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে রংপুরের উন্নয়ন নিয়ে আর একটি পর্ব প্রকাশ করা হলো।

প্রথম পর্বটি পড়ুন এখানে >>  রংপুর জেলার উন্নয়নের সেকাল-একালের চিত্রঃ পর্ব-০১

বিগত ১০ বছরে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক রংপুর জেলার উন্নয়নে আরও কিছু বাস্তবায়িত ও গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প নিচে তুলে ধরা হলঃ 

রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণে এসেছে আমুল পরিবর্তন

১০ বছরে মানুষের যে বিদ্যুতের চাহিদা সেটি পুরণ করেও বেশী পরিমাণে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসতেছে রংপুর বিদ্যুৎ বিভাগ। রংপুর শহরকে সড়ক বাতি স্থাপনের মাধ্যমে বিদুতের আওয়তায় নিয়ে এসেছে। এর ফলে উল্লেখ্য হারে কমেছে সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাইসহ নানান ধরনের অপকর্ম। ২০০৯ সালে রংপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪৯ মেগাওয়াট। সেখানে ২০১৯ সালে রংপুরে চাহিদা বেড়েছে ১৫৮ মেগাওয়াট। আগে ট্রান্সফরমারগুলো বিদ্যুৎ ধারণ করতো ৫০/৭৫ মেগাওয়াট। সেখানে এখনকার ট্রান্সফরমারগুলো বিদ্যুৎ ধারণ করছে ৮০/১২০ মেগাওয়াট। যেখানে একটি ট্রান্সফরমার দিয়ে আগে রংপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল সেখানে এখন অত্যাধুনিক ২টি ট্রান্সফরমার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। যার একটি ট্রান্সফরমারই বিদ্যুৎ ধারণ করতে পারে ১৯০ মেগাওয়াট। বর্তমানে ১৩শ কোটি টাকা ও ১২শ কোটি টাকার ২টি প্রজেক্ট জমা দেয়া রয়েছে। প্রজেক্ট ২টিতে রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণে আমুল পরিবর্তন আনতে অনেক কিছুই সংযোজন করা হয়েছে। সুবিন্যস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু এবং সেরকমই সেবা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রজেক্টে। 

রংপুর চার লেন সড়ক

যানজট নিরসন, আন্তঃজেলা ও আর্ন্তজাতিক যাতায়াত সহজ করতে রংপুর শহর ও শহর সংলগ্ন ১৬ কিলোমিটার রাস্তাকে চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে রংপুর শহর মুক্তি পেয়েছে যানজট ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাসমূহ থেকে। 

‘বিভাগীয় সদর রংপুরের সওজ এর সড়ক চার লেনে উন্নয়ন’ এ প্রকল্পটি শেষ করতে খরচ হয় ১২৬ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ১৬ দশমিক ২৪ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে রংপুর শহর অংশে ৮ দশমিক ২৪ কিলোমিটার এবং রংপুর বাইপাস অংশে ৮ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে।

এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ছয় লেনের মহাসড়ক 

রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত মহা প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল- রংপুর মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প (সাসেক প্রকল্প-২)। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার ওপর দিয়ে সাসেক-২ প্রকল্প শেষ হবে রংপুরের মডার্ণ মোড়ে এসে। ১২ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত ব্যয়ে এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ দশমিক ৪০ কিলোমিটারের এই প্রকল্প ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কিত নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করে। বর্তমানে প্রকল্পের মূল কাজের আগে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২১ সাল নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরপর শুরু হবে সাসেক প্রকল্প-৩ বা শেষ ধাপের কাজ। রংপুর থেকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা পর্যন্ত সাসেক প্রকল্প-৩ এর কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক রুপ পাবে। তখন এ মহাসড়ক দিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের যানবাহনগুলো চলাচল করবে। যদিও ভবিষ্যতে এ মহাসড়কে মিয়ানমারেরও যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। সাসেক মহাসড়ক প্রকল্প মূলত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপণকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রকল্প। যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক দিক দিয়েও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ছয় লেনের এই মহাসড়কটি হবে এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক করিডর ও সার্ক হাইওয়ে করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এতে পাল্টে যাবে রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতির চিরচেনা দৃশ্যপট। নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিতের পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে রংপুর অঞ্চলে। চলাচলের ধারণ সক্ষমতা বাড়ানোসহ, অনেকাংশে কমে আসবে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট। এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন তথা উন্নয়নের আরও একটি মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হবে এই প্রকল্প। 

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, গঙ্গাচড়া রংপুর

সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই রংপুর অঞ্চলে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় হতে যাচ্ছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এর প্রাথমিক প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করেছে রংপুর জেলা প্রশাসন। অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। ২৫৪ দশমিক ২৩ একর জমির ওপর এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে হালকা, মাঝারি, ভারী শিল্প প্লটে কল-কারখানা করার সুযোগ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। আর এ অঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৫-৩০ হাজার মানুষ কাজ পাবেন এসব প্রতিষ্ঠানে। রংপুর বিভাগ সৃষ্টির পর থেকে সারাদেশের সাথে এমনকি ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল, নেপাল ও ভুটানের সাথে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু জেলার একমাত্র বিসিক শিল্প নগরীতে দীর্ঘদিন থেকে শিল্প সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি এবং অবকাঠামো সুবিধা না থাকায় শিল্প কারখানা নির্মাণে উৎসাহী হচ্ছেন না নতুন উদ্যোক্তারা। তাই উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে এবং এ অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এসএজেড স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

রংপুরে অর্থনৈতিক জোন স্থাপন হলে এখানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। সর্বোপরি এ অঞ্চলে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। এই উদ্যোক্তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবেন। এতে এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। 

প্রথম পর্বটি পড়ুন এখানে >>  রংপুর জেলার উন্নয়নের সেকাল-একালের চিত্রঃ পর্ব-০১

রংপুর বিভাগে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ প্রকল্প 

বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, খুব তাড়াতাড়ি রংপুর অঞ্চল গ্যাসের আওয়তায় আসবে। ইতোমধ্যে, গ্যাস সংশ্লিষ্ট শিল্প কল-কারখানার বিকাশসহ ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বর্তমান সরকার প্রায় ১ হাজার ৮শ’ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলে শিল্পায়ানের আমুল পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। সেই সাথে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রংপুর হাইটেক পার্ক 

২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল, রংপুরসহ ১২টি জেলায় আইসিটি বা হাইটেক পার্ক স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক। চলমান এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রংপুরে অন্ততপক্ষে ৫০০০ বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সেই সাথে এখান থেকে আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। চালু হবে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা।

১৮ তলা রংপুর জেলা পরিষদ সিটি সেন্টারঃ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শপিং মল

রংপুর জেলা পরিষদের অর্থায়নে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শপিং মল নির্মিত হচ্ছে রংপুর মহানগরীতে। নগরীর প্রাণ কেন্দ্র জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের কোল ঘেষে নিজস্ব ৩ একরের বেশী জায়গা জুড়ে জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে এই অত্যাধুনিক বিলাসবহুল শপিং মল। শপিং মল এর জন্য ১৮তলা বিশিষ্ট বিপণি বিতান ও বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণ কাজ এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এই ১৮ তলাবিশিষ্ট জেলা পরিষদ সিটি সেন্টার মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। এজন্য ব্যয় করা হচ্ছে প্রায় ১শ’ ৫৯ কোটি ৪০ লাখ। ইতোমধ্যে প্রথম স্তরের গ্রাউন্ড লেভেলের ৮৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ এর দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৮৫ হাজার বর্গ ফুট আয়তনের এ মার্কেটে ২শ’ ৩০টি কার ও ২৬টি মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। এছাড়াও ৩টি গার্ড রুম, ২টি গার্ড বিশ্রাম রুম, ড্রাইভার ওয়েটিং রুম, একটি সুপারভাইজার রুম এবং ২টি জলধারা, ১০টি লিফট, ৪টি সিঁড়ি, গাড়ি ওঠানামার র‌্যাম্প ৫টি ও দু’টি প্রবেশ/বাহির থাকবে ও আউট ড্রপ-ইন ড্রপ থাকবে ২টি।

মার্কেটের নিচতলায় শিশু এবং বড়দের তৈরি পোষাক ও মহাজনী দোকান ১০৬টি,  দ্বিতীয় তলায় বড়দের গার্মেন্টস ও রেডিমেড-থান কাপড়, মহাজনি দোকান ১৩৫টি, তৃতীয় তলায় শাড়ি কাপড়, কসমেটিক্স ও লেদার সামগ্রীর দোকান ১৪৮টি, চতুর্থ তলায় মোবাইল, কম্পিউটার ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর দোকান ১১৪ টি, পঞ্চম তলায় খেলাধুলা, ক্রোকারিজ ও স্টেশনারি সামগ্রীর ১০৯টি দোকান, ৬ষ্ঠ তলায় স্বর্ণালঙ্কার,  ফুডশপ, টিকিট কাউন্টার, ত্রিডি মুভি হল ও প্রজেক্টর, সিনে কমপ্লেক্স, মিটিং রুম ও কনফারেন্স রুম থাকবে ৫১টি। 

উত্তরাঞ্চলের এ বৃহৎ শপিং মল হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে বলে প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল। অবহেলিত উত্তরাঞ্চলে মানুষের রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে এ স্থাপনা। অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে, যাতে এ অঞ্চলের মানুষ খুব সহজেই সবকিছু পেতে পারে। রংপুরের উন্নয়নের চিত্র এর মাধ্যমে ফুটে উঠবে।

রংপুরে র‌্যাব-১৩ এর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর

রংপুর বিভাগের মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি দমনে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন হিসেবে র‌্যাব-১৩ গত ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ ইং তারিখে অস্থায়ী ভিত্তিতে মহানগরীর শাপলা চত্বরে বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ পরিদর্শন বাংলোতে স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রের অব্যবহৃত ১০একর জমি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মধ্যে হস্তান্তরের মাধ্যমে র‌্যাব-১৩ এর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্য ০৭ মার্চ ২০১৯ইং তারিখে র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মোজাম্মেল হক, বিপিএম (বার), পিপিএম একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উক্ত ১০একর জমিতে স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। 

উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিবাদ দমন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে র‌্যাব-১৩। এছাড়াও, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রতারণা, নারী ও শিশু পাচার রোধে র‌্যাব-১৩ বদ্ধপরিকর। 

নির্মাণাধীন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় 

রংপুর বিভাগ চালু হওয়ার পর থেকে উত্তরাঞ্চলের ৮টি জেলার আইন শৃঙ্খলায় এসেছে আমুল পরিবর্তন। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, খুন, ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ কমে এসেছে ব্যাপকভাবে। এসব অপরাধ সমূলে নির্মূল করার জন্য রংপুর বিভাগীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় তৎপর রয়েছে। রংপুর কমিশনারের কাজ গুলো স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য ও দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন বিশিষ্ট রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। এর ফলে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বিভাগীয় কমিশনারের সকল কার্যাবলী। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার

রংপুরবাসী পাচ্ছে একটি আধুনিক নভো থিয়েটার। মহানগরীর অদূরে চিকলির বিল বা দমদমা ব্রিজের কাছে এই নভো থিয়েটার স্থাপন করা হবে। এজন্য ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার রংপুর শাখা স্থাপন প্রকল্পের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও তথ্য প্রদান এবং মহাকাশ বিজ্ঞান শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারের প্রধান উদ্দেশ্য।

ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম

বেকার যুবক ও তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও-কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর জেলাসহ রংপুর বিভাগের বাকি ৭ জেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে রংপুর জেলার ২টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস প্রোগ্রাম চালু করা হয়। ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সরকারের একটি উচ্চ অধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি। এ কর্মসূচি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আগ্রহী বেকার যুবক ও তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এ প্রকল্পের প্রথম পাইলট স্কিম হিসেবে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জ জেলার সবগুলো উপজেলাতে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়। দ্বিতীয় পাইলট স্কিম হিসেবে রংপুর বিভাগের বাকি ৭ জেলায় এ কর্মসূচি চালু করা হলো। এ প্রকল্পের মাধ্যমে রংপুর বিভাগের সাত জেলার ৮ উপজেলার ১৬ হাজারের বেশি বেকার যুবক ও তরুণীদের কর্মসংস্থান হলো।

‘পল্লী জনপদ’

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন নির্মাণে গৃহীত  প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প ‘পল্লী জনপদ’। কৃষি জমি অপচয় রোধ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আধুনিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত উন্নত আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। রংপুর অঞ্চলে উক্ত সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার লক্ষে রংপুর জেলার গংগাচড়ায় উপজেলায় নির্মাণাধীন রয়েছে গৃহায়ন প্রকল্প পল্লী জনপদ। এ গৃহায়ন প্রকল্পে ২৭২ টি ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে।এ প্রকল্পটি দেশের ৭টি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে মোট ৭টি এলাকায় (রংপুর, গোপালগঞ্জ, বগুড়া, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল) বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের ফলে রংপুর অঞ্চলের কৃষি জমি অপচয় রোধ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আধুনিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত উন্নত আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), রংপুর স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প

এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে একটি প্রকল্প। প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প। উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের (গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর,  ঠাঁকুরগাও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট) গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করে তাদের দারিদ্র বিমোচন করার নিমিত্তে আরডিএ,  বগুড়া’র অধীনে রংপুরের তারাগঞ্জ জেলায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া’র আদলে একটি স্বতন্ত্র একাডেমী স্থাপনের নিমিত্ত প্রকল্পটি ২০১৪ সাল থেকে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।

প্রকল্প এলাকাঃ রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলাধীন ইকরচালী, কাচনা ও জগদীশপুর মৌজা।

রংপুর বিভাগের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবন যাত্রার মানন্নোয়নের জন্য আরডিএ, বগুড়া’র আদলে আরো একটি পূর্ণাঙ্গ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী প্রতিষ্ঠা করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

প্রথম পর্বটি পড়ুন এখানে >>  রংপুর জেলার উন্নয়নের সেকাল-একালের চিত্রঃ পর্ব-০১

রংপুর বাস টার্মিনাল আধুনিকীকরণ প্রকল্প

রংপুরের সার্বিক উন্নয়নে সব ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সুদৃষ্টি রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় রংপুরের পুরাতন বাস টার্মিনালকে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুরে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন  করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যেমে বর্তমান বাস টার্মিনাল সংস্কার করে ২৯ হাজার ৬৪৫ বর্গফুট আয়তনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এখানে ওয়ার্কশপ,  ড্রাইভার কন্টাক্টারদের রিফ্রেশমেন্ট রুম থাকবে। গাড়ি পার্কিং এরিয়া থাকবে। মূল ভবনের নিচ তলাতে ১৪টি টিকেট কাউন্টার, ৩টি এটিএম বুথ, মহিলাদের নামাজ ঘর, ২টি ডে কেয়ার সেন্টার, ৬টি খাবারের দোকান, ১টি ঔষধের দোকান, পাবলিক টয়লেট, লাগেজ এরিয়া ও যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া দ্বিতীয় তলাতে রেস্টুরেন্ট, শিশুদের খেলার রুম, দোকান, ট্রাফিক বিভাগ, কন্ট্রল রুম, টেকনিক্যাল বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ, মিটিং রুম, পাবলিক টয়লেট, ভিআইপি লাউন্স ও রুম থাকবে। সেই সাথে যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে। টার্মিনালে থাকবে তাদের সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। থাকবে না কোন জলাবদ্ধতা। আধুনিক রংপুর গড়ার আরেকটি বড় পদক্ষেপ আধুনিক রংপুর টার্মিনাল নির্মাণ।

রংপুরের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত অন্যান্য প্রকল্প সমুহের মধ্যে রয়েছে- 

>> রংপুর বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, উন্নতমানের আধুনিক সুবিধা সম্মিলিত বহুতল সার্কিট হাউজ ভবন নির্মাণ, পীরগঞ্জ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ইত্যাদি।
>> বিনোদনের জন্য চিকলি পার্ক, রংপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে সৌরভী উদ্যান বিনোদন পার্ক, ঘাঘট সেনা প্রয়াস পার্ক, রংপুর চিড়িয়াখানা, তাজহাট জমিদার বাড়িসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের সংস্কার, পরিবর্ধন ও আধুনিকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও এসবের উন্নয়নে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রকল্প।

>> রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সকল নাগরিক সেবাসমূহ জনগণের দোড়গোরায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে নগর জুড়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন। 

উল্লেখি্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ছাড়াও রংপুর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য শহরে-গ্রামে একই সাথে চলতেছে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে তাদের ভালোবাসা আর বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। রংপুরকে খুব দ্রুত উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে যেতে আওয়ামীলীগ সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আর তার প্রমাণও প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকার। বর্তমান সরকারের প্রতি অত্র অঞ্চলের মানুষদের সার্বিক সহযোগিতা, আস্থা আর বিশ্বাসের প্রতিফলন এইসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। যতদিন বর্তমান সরকারের পাশে থেকে এই সহযোগিতা অব্যহত থাকবে ততদিন তার উত্তম প্রতিদান পাবে মানুষ।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর