সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

সর্বশেষ:
পুরুষদের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ নিয়ে নারীরাও সমান দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে- বেগম রোকেয়া পদক অনুষ্ঠানে বললেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন নারীরা, বেগম রোকেয়ার সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবতা - বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার আশ্বাস। দুর্নীতিবাজদের স্বস্তিতে থাকতে দেয়া হবে না বললেন দুদক চেয়ারম্যান। এসএ গেমসে আর্চারির দশটি ইভেন্টেই স্বর্ণপদক বাংলাদেশের। এসএ গেমসে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বর্ণ সংখ্যা মোট ১৮টি। নিউজিল্যান্ডের হোয়াইট আইল্যান্ড আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ১ জন, নিখোঁজ বেশ কয়েকজন পর্যটক। হংকংয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছে আন্দোলনকারীরা। কর্নাটকে বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে এগিয়ে বিজেপি – কংগ্রেসের হার স্বীকার। ভারতের লোকসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাস হচ্ছে আজ।
৩৯

রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে জাপার ৩৩ বছরের ইতিহাস হুমকির মুখে

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

রংপুর বিভাগের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসনের উপ-নির্বাচন আগামী ৫ অক্টোবর। রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটারের এ নির্বাচনী আসনটি ৩৩ বছর ধরে জাতীয় পার্টির (জাপা) দখলে।

এরশাদের আসনটি শূন্য হয়েছে সম্প্রতি তার মৃত্যুর পর। কিন্তু এরশাদশূন্য বাস্তবতায় এ আসনের উপ-নির্বাচনের সমীকরণ কী হতে পারে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১০ মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ উপনির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি প্রধান তিন রাজনৈতিক দল নতুন করে নিজেদের রণনীতি সাজাচ্ছে। পুরনো সমীকরণ বাদ দিয়ে তিন দলই নতুন হিসাবের হালখাতা খুলতে চায় এ উপ-নির্বাচনে। শেষপর্যন্ত যেই জিতুক রংপুরের রাজনীতিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য নতুন কিছু ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিন দলই আলাদা করে তাদের প্রার্থী দিয়েছে। আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম রাজু, জাতীয় পার্টির রাহগীর আল মাহি সাদ, বিএনপির রিটা রহমান এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। এর বাইরে এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার লাঙ্গল প্রতীক না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন।

১৯৮৬ সাল থেকেই রংপুর সদর জাতীয় পার্টির কব্জায়। ওই বছরের নির্বাচনে শফিউল গনি স্বপন এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় সামরিক শাসক এরশাদের। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে কারাগারে বসেই রংপুর সদরসহ ৫টি আসনে নির্বাচন করে সবকটিতেই জেতেন। এরপর ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ এর সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকেই জেতেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে আইনগত বৈধতা না পাওয়ায় নির্বাচন করতে পারেননি এরশাদ। সেবার তার ভাই জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের ওই আসন থেকে নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি তিনি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে তার স্ত্রী রওশন এরশাদ এখান থেকে জিতে সংসদে যান।

এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে এ আসনের বহু ভাগিদার জুটে যায়। এ আসনে হিস্যা কোন পক্ষে যাবে এবং কেন্দ্রে ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা কীভাবে হবে-এ নিয়ে দলের দুই প্রধান নেতা জি এম কাদের ও রওশন এরশাদ, যাদের ওপর এরশাদ জাতীয় পার্টির দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন, তারাই বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। ফলে ভাঙনের শঙ্কা দেখা দেয় দলে। এ অবস্থায় শীর্ষ কয়েকজন নেতার তৎপরতায় ক্ষমতার ভাগাভাগি হয় জাতীয় পার্টিতে। সমঝোতা হয় রংপুর-৩ আসন মানে এরশাদের আসনে জাতীয় পার্টির উত্তরসূরি কে হচ্ছেন। স্থানীয় জাপার প্রবল বিরোধিতা ও অসহযোগিতার হুমকির পরও রওশনপুত্র সাদকে জাপার প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। রংপুর জাপার এই বিদ্রোহের কেন্দ্রে রয়েছেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। সাদকে প্রার্থী করা হলে তার সঙ্গে অসহযোগ আচরণ করা হবে ঘোষণা করেন মহানগর জাপার প্রতাপশালী এই নেতা।

কেন্দ্রের শীর্ষ দুই নেতার সমঝোতার ভিত্তিতেই রওশনপুত্র সাদ রংপুর সদরের উপনির্বাচনে জাপার প্রার্থী। এ সমঝোতার নেপথ্যের কুশীলব ছিলেন জাপা মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। লাঙ্গলের প্রার্থী হিসাবে সাদের মনোনয়নপত্র জমা ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ড দেখভাল করছেন তিনি। কিন্তু এ আসনে সাদের সাফল্য নির্ভর করছে মেয়র মোস্তফার সঙ্গে কতটা সমঝোতা হচ্ছে, তার উপরেই।

লাঙ্গলের প্রার্থী না হতে পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার এই উপনির্বাচনে জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। রংপুরের সন্তান ও এরশাদের পরিবারের সদস্য- এ দুই সেন্টিমেন্ট তার দিকেই। আর মেয়র মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতাদের সমর্থন পেলে তার জনসমর্থনের পাল্লা অনেক ঝুঁকে পড়বে তার দিকেই। এরই মধ্যে আসিফকে ঠেকাতে আওয়ামী লীগ যাতে সেখানে প্রার্থী না দেয় এ রকম সমঝোতার চেষ্টাও করেছে কেন্দ্রীয় জাপা। তবে সেটা হালে পানি পায়নি। আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য একেবারে নতুন সমীকরণ নিয়ে হাজির হচ্ছে। ৩৩ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম লাঙ্গল এ আসনে একটা অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে। নিজেদের গৃহবিবাদেই এ হাল জাপার। আর তাই এ উপনির্বাচনের ফলাফলের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টিকে হালখাতায় নতুন হিসাব খুলতে হতে পারে।

৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির রংপুর দুর্গে হানা দিতে চায়। এরশাদ-পরবর্তী জাতীয় পার্টির মধ্যে যে বিশৃঙ্খলা সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রংপুর বিভাগের সব আসনেই নিজেদের শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। সাদ-আসিফকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক জাপার যে বিভক্তি সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লাঙ্গলের মাটিতে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় নৌকা। এ উপনির্বাচন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের হালখাতায় রংপুর জয়ের হিসাব-নিকাশই লিখতে চায়।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর