ব্রেকিং:
দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার পালিত হবে মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে মফিজ উদ্দিন (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরো এক হাজার ৫৩২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন আরো ২৮ জন। কুড়িগ্রামে পৌরসভার উদ্যোগে ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলীর ব্যক্তি উদ্যোগে কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে থাপ্পড় দিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধীর চারটি দাঁত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। কলকাতায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের জন্য দুইটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোববার কলকাতার বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
  • সোমবার   ২৫ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৭

  • || ০২ শাওয়াল ১৪৪১

সর্বশেষ:
আরো একমাস সময় বাড়লো জরিমানা ছাড়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন আজ সাধারণ ছুটি বাড়বে কি-না সেই সিদ্ধান্ত জানা যাবে ঈদের পর কুড়িগ্রাম পৌরসভার উদ্যোগে ২৮০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবার করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করলেন ঢাবির গবেষকরা
১০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাদুঘর

নীলফামারি বার্তা

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৮  

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। শুধু সৌন্দর্যের দিক থেকেই নয়, দেশের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে এসে শহীদদের স্মৃতি সংগ্রহ ও রক্ষার্থে ১৯৭৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা’।

রাবি’র বুকে সগর্বে দাড়িয়ে থাকা এই সংগ্রহশালাটি দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাদুঘর।

শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালাটি চমৎকার স্থাপত্য নৈপূণ্যে সমৃদ্ধ। এখানে মোট ছয় হাজার ছয়শ বর্গফুট আয়তনের তিনটি গ্যালারি রয়েছে। খুবই ক্ষুদ্র পরিসরে সংগ্রহশালাটি যাত্রা শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে এটি সংগ্রহের দিক থেকে মুক্তিযুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। এতে স্থান পেয়েছে ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বিভিন্ন চিত্রকর্ম, দলিল-দস্তাবেজ, আলোকচিত্র, জামা, জুব্বা, কোট, ঘড়ি, পোশাক, টুপি, কলমসহ বিভিন্ন দুর্লভ সংগ্রহ।

সংগ্রহশালার প্রথম গ্যালারিতে আছে:

আলোকচিত্র ৫৯টি, প্রতিকৃতি ৬টি, কোলাজ ২টি, শিল্পকর্ম ৮টি, পোশাক ও অন্যান্য বস্তু ৭টি, ভাস্কর্য ১টি, ডায়েরি ও অন্যান্য পান্ডুুলিপি ৪টি এবং বাঁধাইকৃত আলোকচিত্র রয়েছে ২টি।

প্রথম গ্যালরিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ ড. মো. শামসুজ্জোহার বিভিন্ন ছবি, ব্যবহৃত জিনিসপত্র রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক ছাড়াও রয়েছে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, নিহত শহীদ আসাদের কিছু দুর্লভ ছবি, বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা মুক্তিযুদ্ধের ছবি, ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্মিত রাজশাহীর প্রথম শহীদ মিনারের ছবি এবং রাজশাহীতে উত্তোলিত প্রথম জাতীয় পতাকাটি।

দ্বিতীয় গ্যালারিতে আছে:

আলোকচিত্র ১০৮টি, প্রতিকৃতি ৩৫টি, শিল্পকর্ম ৯টি, বাঁধাইকৃত আলোকচিত্র ১৯টি, ভাস্কর্য ৩টি, পোশাক ও অন্যান্য বস্তু ৯৯টি ও ডায়েরি ৫টি।

দ্বিতীয় গ্যালারীতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও পোশাক। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রতীকী ভাস্কর্যও এই গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে। রয়েছে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর ছবি।

তৃতীয় গ্যালারিতে আছে:

আলোকচিত্র ১১২টি, প্রতিকৃতি ১টি, শিল্পীকর্ম ১১টি, বাঁধাইকৃত আলোকচিত্র ১টি, ভাস্কর্য-৬টি, ডায়েরি ও পান্ডুলিপি ৪০টি, পোশাক ও অন্যান্য বস্তু রয়েছে ৫৬টি।

তৃতীয় গ্যালারীতে রয়েছে একাত্তরের গণহত্যায় নিহত অসংখ্য শহীদের মাথার খুলি আর হাড়। অপরদিকে গ্যালারির একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আলোকচিত্র।

সংগ্রহশালার ভেতরে একটি লাইব্রেরীও আছে। যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করেন তাদের জন্য লাইব্রেরিটি ব্যবহার করা সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়াও সংগ্রহশালাটির ভেতরের বিভিন্ন দেয়ালে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রয়েছে।

সংগ্রহশালাটি শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক দর্শনার্থী আসেন সংগ্রহশালাটি ঘুরে দেখতে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

সংগ্রহশালায় ঘুরতে আসা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফরিদ আহমেদ বলেন, ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল এবং এর পরবর্তী সময়ের বাংলাদেশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এই সংগ্রহশালায়। এই সংগ্রহশালা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসকেই তুলে ধরে না বরং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেও সাহায্য করে।

শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমে একটি লম্বা ঘরে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হতো। পরবর্তীতে নতুন তিনটি গ্যালারির মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটানো হয়। প্রথম দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষত কর্মকর্তা কর্মচারীর স্মৃতি সংরক্ষণ করা হলেও পরবর্তীতে ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত শহীদদের নিদর্শনসমূহ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। দেশের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে, তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং ডকুমেন্ট সংরক্ষণের জন্য এই সংগ্রহশালা অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।

শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর