রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ২৪ ১৪২৬   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

৭৫

লন্ডন আর পল্টন হচ্ছে গুজব তৈরির কারখানা: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০১৯  

লন্ডন আর নয়া পল্টনকে দেশের চলমান গুজব তৈরির কারখানা বলে উল্লেখ করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

গুজব রটনাকারীদের প্রতিহত করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ছেলেধরা গুজব প্রথমে লন্ডন থেকে পোস্ট দেওয়া হয়। আর সেটা এখানকার কিছু বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মী মনিটরিং করে সাড়া দেশে ছড়িয়ে দেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছেলেধরা গুজবের হোতা লন্ডনে বসে আছে। সেখান থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আর সেটার ডাল পালা গজিয়ে ছেলেধরা আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।

উপজেলাআওয়ামী লীগের সভাপতি খলিলুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মোহাম্মদ সেলিম ও আকতার হোসেন খাঁনের পরিচালনায় সম্মলনের প্রথম অধিবেশনে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন উত্তর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।
হাছান মাহমুদ বলেন, গুজব সৃষ্টিকারিদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হত্যা মামলার আসামী হিসেবে সবার বিচার হবে। শুধু মানুষ হত্যাকারীদের বিচার নয় গুজব যারা রটিয়েছে তারাও সমভাবে দোষী। তাদের বিরুদ্ধেও সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
‘বিদ্যুৎ না থাকলে ছেলে ধরা আসবে’ এখন আবার এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গুজব রটনাকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুৃলে না নেন সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ’
হাছান মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি উম্মাদের মতো আচরণ করছে, তাদের যুগ্ন মহাসচিব রিজভী আহমেদ সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন মশার কামড়ের জন্যও নাকি আওয়ামী লীগ দায়ী। এরকম হাস্যকর বক্তব্যই প্রমাণ করে তারা যে রাজনৈতিকভাবে কতটা দেউলিয়া।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এই দলকে যে কেউ সমর্থন করতে পারে। কিন্তু নেতৃত্বের আসনে যে কাউকে আমরা বসাতে পারিনা। নেতৃত্বের আসনে তাদেরই বসাতে হবে যারা দলের দুঃসময়ে বুকে পাথর বেঁধে আওয়ামী লীগ করেছে।
‘এখন সবাই আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে চায়। কিন্তু নৌকায় আমরা সবাইকে নেবনা। আমাদের নৌকা ইতিমধ্যে ভরে গেছে। যারা পিঠ বাঁচানোর জন্য নৌকায় উঠতে চান তাদের নেয়া যাবেনা- দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন হাছান মাহমুদ।
সম্মেলনে বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার। দলের প্রয়াত নেতাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক আবু তাহের। এর আগে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –
এই বিভাগের আরো খবর