শনিবার   ১৬ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ১ ১৪২৬   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

১৫

সাকিবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আভাস দিলেন বিসিবি

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০১৯  

ক্রিকেটারদের আন্দোলন ধর্মঘটে বিগত কিছুদিনে বেশ বড় একটা ঝড় বয়ে গেছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। এই আন্দোলনের মাঝেই মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের সঙ্গে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তি করেন সাকিব। এর ফলে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে সাকিবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আভাস দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রিকেটার বোর্ডের চুক্তি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন না। সাকিব যে সময়ে গ্রামীনফোনের সঙ্গে চুক্তি করেছেন সে সময়ে বোর্ডের সঙ্গে সব ধরণের কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন। ফলে চুক্তির সময় হিসেবে সাকিব ভুল করেননি। কিন্তু চুক্তি করাকেই দোষ হিসেবে দেখছে বিসিবি। 

বিসিবি সভাপতি বেশ চটেছেন সাকিবের এই কাজে। তিনি বলেন, এই চুক্তি সে কোনোভাবেই করতে পারে না। কেন পারে না, আমাদের সঙ্গে করা চুক্তিতে সব লেখা আছে। লিখিতভাবে ওদের বলে দেয়া আছে। এর আগে রবি আমাদের টাইটেল স্পন্সর হলো। গ্রামীনফোন তো বিডই করল না। না করে এক-দুই কোটি দিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে ফেলল। এতে শেষ পর্যন্ত কী হলো? তিন বছরে বোর্ডের ৯০ কোটি টাকা লস হলো। খেলোয়াড় লাভবান হলো। কিন্তু বোর্ডের তো ১২টা বেজে গেল।

এছাড়া নাজমুল হাসান পাপন সাকিবের এ কাজকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বলেও উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে পাপন বলেন, এটি তো হতে পারে না। আমার জানা মতে মন্ত্রণালয় থেকেও ওদের বলা আছে যে না জানিয়ে টেলকোর সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না। আমাদের সঙ্গে চুক্তি তো আছেই। তারপরও আমাদের না জানিয়ে কী করে চুক্তি করে? টাইমিংটা দেখুন। খেলা বন্ধ করে চুক্তি! এগুলো তো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে বিসিবি। সাকিবকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হবে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র। বিসিবি বস জানিয়ে দিয়েছেন তারা লিগ্যাল অ্যাকশনে যাচ্ছেন। কোম্পানি ও খেলোয়াড় উভয়ের কাছেই ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে। পাপনের ভাষায়, আমরা কি ছেড়ে দেব নাকি? আমি বলে দিয়েছি, গ্রামীণফোনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাও। বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাও। এছাড়া বলেছি চিঠি পাঠাও সাকিবকেও। আমাদের ব্যাখ্যা চাই। সে আইন ভঙ্গ করে গেল কেন? এখন সে যদি দেখাতে পারে যে আইন ভঙ্গ করেনি, ওকে তো বলার সুযোগ দিতে হবে। আমাদের কাছে ব্যাপারটিকে মনে হয়েছে বোর্ডের কোনো নিয়ম-কানুন মানি না। এ রকম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবই।

সদ্য শেষ হওয়া আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা ছিল সাকিবের। ক্রিকেটারদের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাপারে বোর্ডের কঠোর হওয়া এখন অস্বাভাবিক নয়। চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে এবার বোর্ডের প্রথম চোখ থাকছে সাকিবের উপরেই। 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –