• শনিবার   ০৮ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৪ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
আজ শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন দেশে ৯০০ টন অক্সিজেন মজুদ আছে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী খানসামায় করোনায় কর্মহীন ৩ হাজার পরিবারকে সহযোগিতা বালু উত্তোলনের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুড়িগ্রামে পরিবহণ শ্রমিকরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান ঘরে তুলবেন গাইবান্ধায় কৃষকরা

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২১  

চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ঘরে তোলার লক্ষ্যে চরম ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-শ্রমিকরা। যেন দম ফেলানোর ফুরসত নেই তাদের।

সোমবার (৩ মে) দুপুরে গাইবান্ধার প্রত্যান্ত অঞ্চলে দেখা যায়, কৃষকের মাঠে ও বাড়ির উঠানে ধান কাটা-মাড়াইয়ের চিত্র। এসময় প্রখর রোদ আর অসহনীয় দাবদাহ উপক্ষে করে কোমর বেঁধে কাজ করছিলেন কৃষক-শ্রমিকরা। একই সঙ্গে বসে নেই গৃহবধূরাও। তারাও সোনার ফসল ঘরে তুলছে মনের আনন্দে।
  
জানা যায়, গত আমন মৌসুমে নদীবেষ্টিত গাইবান্ধায় বন্যায় নষ্ট হয়েছে ধান ক্ষেত। সেই সঙ্গে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে অন্যান্য ফসলাদি। রাক্ষুসি বন্যার এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছরে অধিক পরিমাণ জমিতে আবাদ করছে বোরো ধান। এসব ক্ষেতে দেখা দিয়েছে বাম্পার ফলন। ইতোমধ্যে দেশীয় জাতের ধান (চিকন) কাটতে শুরু করছে কৃষকরা। আর এ ধান ঘরে উঠানোর পরই কাটা হবে হাইব্রিড জাতের ধানগুলো। তবে মাঠে থাকা পাকা ধান নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। কারণ, প্রত্যেক দিনেই দেখা দেয় আবওহার বিরূপ আচরণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে কাঙ্খিত ধান ঘরে তুলতে পারলে হয়তো সেই বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন কৃষকরা।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, এ জেলায় বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ হেক্টর। সেটি ছাড়িয়ে অর্জন হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয় এক হাজার ৫৫ হেক্টর জমির ধান। অবশিষ্ট ক্ষেত থেকে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

কৃষক আহাম্মদ আলী জানান, চলতি বোরো মৌসুমে দুই একর জমিতে ধান আবাদ করেন। ফলনও হয়েছে ভালো। এরই মধ্যে ক্ষেত থেকে ধান কাটা শুরু করা হয়েছে। সম্প্রতি যদি কোন দুর্যোগ দেখা না দেয়, তাহলে সবগুলো ধান ঘরে তুলতে পারলে অনেকটাই লাভবান হওয়া সম্ভব।

ধান কাটা শ্রমিক মৃণাল কান্তি বলেন, করোনার লকডাউনে তেমন কোন কাজকর্ম ছিল না। এরই মধ্যে গৃহস্থালিরা ধান কাটতে শুরু করছে। এখন এ কাজটি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। 

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রাসারণ বিভাগের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, বোরো মৌসুমে কৃষকদের লাভবান করতে প্রণোদনা দেয়াসহ সার্বিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের খরচ কমানোর জন্য কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এ বছর ধান ফসল ঘরে তুলে কৃষকরা অনেকটাই লাভবান হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।