ব্রেকিং:
রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) পিসিআর ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ একেএম নুরুন্নবী লাইজু।
  • শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭

  • || ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

সর্বশেষ:
শোক দিবস উপলক্ষে চারটি বিশেষ ডিজাইনের ই-পোস্টার প্রকাশিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাতে আ`লীগের বিশেষ ওয়েবিনার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হলেন বিক্রম দোরাইস্বামী দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পেলে ছাড় দেয়া হবে না: এসপি বিপ্লব এখনো কোনো পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষা মন্ত্রণালয়
২৭৫

নীলফামারীর ডিমলায়

স্বপ্নের বাড়ী পেয়ে দুঃখি মায়ের মুখে হাসি

নীলফামারি বার্তা

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

দারিদ্র যখন দরজায় উঁকি মারে, মায়া মমতা স্নেহ ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। দুঃখি মায়ের মুখে হাঁসি ফোঁটানোর থাকে না কেহই। আর এসব দুঃখি মায়েদের মুখে হাঁসি ফোঁটানোর ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলছে পজেটিভ বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন। গ্রামাীণ জনগোষ্ঠির নিভৃতে পরে থাকা স্বম্বলহীন বাস্তুহারা ভূমিহীন সহায় মানুষের মুখে একটু হাঁসির ঝলক দেখতেই তাদের মাথা গোজার ঠাঁই করে দেয়ার অদম্য ইচ্ছায় দু:খি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পজেটিভ বাংলাদেশ।

ক্ষনিকের ক্ষনিকালয়ে যেন এসব অসহায় মানুষের স্বপ্নে দেখা নীড় এই“স্বপ্নের বাড়ী”। চাল নেই, চুলো নেই, নেই কোন আশ্রয়স্থল, নেই বিশ্রাম, এমনকি নেই তাদের একটু স্বস্থির নিশ্বাস ত্যাগের জায়গাটুকুও। জীবনের শেষ প্রান্তে উপনিত দু:খিনি মায়ের বুকে একটু সুখের ছোঁয়া দিতেই পজেটিভ বাংলাদেশের সদস্যদের আর্থিক সহযোগীতায় নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে দুই-চালা টিনের ঘর স্বপ্নের বাড়ী।

সেবাই ধর্ম, সেবাই আদর্শ শ্লোগানে এগিয়ে চলছে সংগঠনটির সদস্যরা। দেশের আঁনাচে কাঁনাচে খুঁজে ফিরছে তারা দু:খি মানুষের সন্ধানে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ডিমলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিন তিতপাড়া দয়াপাড়া গ্রামের মৃত আমির আলীর স্ত্রী আবিয়া বেওয়া (৭৫) এবং মৃত ইউসপ আলীর স্ত্রী খায়রুন বিবি (৯০)’র ভিটে মাটি জায়গা জমি না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে জীবনের পুরোটা সময় ধরে। স্বামীকে হারিয়েছেন তারা অনেক আগেই। অভাবের তাড়নায় পিছু ছেড়েছে ছেলে-মেয়েরাও। দিন এনে দিন খাওয়া এই দু:খিনি মায়ের যে খানে রাত সেখানেই কাত হয়ে দিন শেষে একটু জিড়িয়ে নেওয়া ছাড়া আর যেন কেজান উপায় থাকে না। জীবনের একেবাড়েই শেষ প্রান্তের শেষ বেলায় এসে তাদেরকে চোখে পড়ে পজেটিভ বাংলাদেশের সদস্য হিমেলের। তিনিই জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু গড়ে দিতে স্থানীয়দের সহযোগীতায় একটু জায়গা নিয়ে সেখানেই তৈরী করেন এই স্বপ্নের বাড়ী। স্বপ্নের বাড়ী পেয়ে দু:খি মায়ের মুখে যেন হাসি ফুঁটে ওঠেছে তাদের মলিন বেশেও।

গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে সরজমিনে দেখা মিলে তাদের স্বপ্নের বাড়ীতে আবিয়া বেওয়া ও খায়রুন বিবি’র। কথা হয় বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া অসহায় এই বৃদ্ধা মা খায়রুন বিবি’র সাথে। হাতে ক্যামেরা ছবি তুলতে দেখে জ্বলে টলমল চোখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন আমাদের দিকে।বুকফাটা নিশ্বাসটুকু ফেলে দিয়ে বলেন কায় বাহে তোমার হামার ছবি তুলিছেন। ছবি তুলি কি কইরবেন। হামার কাহো নাই বাহে। হামাক কাহো দেখে না। হিমেল হামক ঘর তুলি দিছে। সারা দিন ঘুরি ফিরে আসি এই ঘরত পরি থাকো। একই ভাবে জানান বৃদ্ধা আবিয়া বেওয়াও। নিজের জায়গা জমি না থাকায় তাকে স্থানীয় দুই প্রতিবেশী জমিতে স্বপ্নের বাড়ী তৈরী করে দেন পজেটিভ বাংলাদেশ। এসব স্বপ্নের বাড়ী পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী মহববত হোসেন, বিজয় টিভি প্রতিনিধি সাংবাদিক হামিদা বারী,পল্লী চিকিৎসক রাসেল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হোসেন আলী রনি পজেটিভ বাংলাদেশের সদস্য আতিক সরকার হিমেল, ডিমলা জেলা স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম প্রমূখ।

পজেটিভ বাংলাদেশ এর অন্যতম সদস্য ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এমবিএ ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এ বিএড প্রফেশনাল ট্রেনিং এ অধ্যায়নরত আতিক সরকার হিমেল একান্তে আলাপ চারিতায় জানান, আমরা সারা দেশের প্রায় আড়াই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী সেচ্ছায় সমন্বিত সমাজ সেবায় কৃষিবিদ জাকিরুল ইসলাম জাহিদ স্যারের পরিচালনায় নিজেরাই অর্থ দিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা দুর্ঘটনা করলিত বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসি। গরীব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকি। সমাজ কল্যাণ ও সেবামূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে থাকি। এছাড়াও আমরা পজেটিভ বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদেরকেও অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকি। নানামূখী সেবামুলক কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখি পজেটিভ বাংলাদেশের পক্ষে।

নীলফামারী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর