ব্রেকিং:
রংপুরে র‌্যাবের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু শতাধিক দুস্থকে রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা প্রদান পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে খাবারের গাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন’র খাদ্যসামগ্রী বিতরণ রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত
  • বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ১৯ ১৪২৬

  • || ০৮ শা'বান ১৪৪১

সর্বশেষ:
পহেলা বৈশাখ ও বৈসাবির সব ধরনের অনুষ্ঠান স্থগিত চিকিৎসকদের ফ্রি-তে ‘ক্র্যাক প্লাটুন পরিবহন সেবা’র যাত্রা শুরু দিনাজপুরে অসহায়দের বাড়িতে গিয়ে খাবার দিল ছাত্রলীগ নেতা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়িতেই করোনা পরিমাপ করার ওয়েবসাইট চালু করেছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ

হাবিপ্রবিকে সবুজ করে রাখেন যারা   

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২০  

তারা কেউ পরিচ্ছন্নতা কর্মী নয়। সবাই শিক্ষার্থী। একটি সংগঠন করেছেন। নাম ‘এইচএসটিইউ গ্রিন ক্যাম্পাস’। পড়ছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ক্যাম্পাস। এখন সবুজারণ্য এক ক্যাম্পাসে রূপ নিয়েছে হাবিপ্রবি। সবুজ-শ্যামল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা নিয়েই শিক্ষার্থীরা গড়ে তুলেছেন এই সংগঠন। এ ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন সংগঠনটির সদস্যরা। তাইতো নির্দিষ্ট পোশাক পরে সতর্কতার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। 


তাদের কারো হাতে থাকে কোদাল। কিংবা কেউ ঠেলে নিয়ে আসছেন ডাস্টবিন। কেউ আবার সেই অবর্জনা ডাস্টবিনে ফেলছেন। কেউবা আবার বাকি সদস্যদের সহায়তা করছেন। দূর থেকে তাদের কার্যক্রম দেখে অনেকেই ভাববেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। কিন্তু সদস্যরা এসবে মোটেও বিচলিত নয়। বরং নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন তারা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তারা বৃক্ষরোপন, পরিবেশ সচেতনতা ক্যাম্পেইন ও সবুজায়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

সংগঠনটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক বৃক্ষপ্রেমিক টিএমটি ইকবাল। তিনি তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে সদস্যদের উৎসাহ প্রদান করেন প্রতিনিয়ত। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচালনা ও ছাত্র নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসানুর রহমানসহ মোট ছয়জন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন।
সংগঠনটির লক্ষ্য নিয়ে বললেন টিএমটি ইকবাল। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখাই সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন একাডেমিক ভবন পরিষ্কার রাখা ও ক্যম্পাসকে সবুজায়ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন সংগঠনটির সদস্যরা। 

২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। যার মূল উদ্যোক্তা ও আহবায়ক ব্যবসায় অনুষদের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৮ব্যাচের শিক্ষার্থী এসএম কামাল। বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছেন ১৮ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি। 

তাদের কর্মসূচি:

বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রধান গেট সংলগ্ন স্থানে স্থানীয় কিছু দোকানদার অসচেতনভাবে বিভিন্ন ময়লা দিনের পর দিন ফেলে স্তূপ করেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছিলো। গতবছর সংগঠনটির সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনের নালাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরদারিতে পরিষ্কার করে। যে জায়গাটি বর্তমানে লেক কিংবা দুই ধারে ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা আছে প্রশাসনের। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন বড় আয়োজনে পরিবেশ সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে সংগঠনটি। 
সংগঠনটির প্রধান উদ্যোক্তা এসএম কামাল বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়, এই ক্যাম্পাস আমাদের। তাই একে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার। ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নিমিত্তে সবাইকে সচেতন করতে আমাদের যাত্রা শুরু। সবার প্রতি অনুরোধ, আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়লা পরিষ্কার করতে না পারি তবে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরিষ্কার করবো না।

এরইমধ্য সংগঠনটির এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাছ থেকে মিলেছে সহায়তার আশ্বাস। পাশাপাশি সংগঠনটির যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার কথা বলেছেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচারক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ। 

শিক্ষা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর