• শনিবার   ০৮ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৪ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
আজ শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন দেশে ৯০০ টন অক্সিজেন মজুদ আছে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী খানসামায় করোনায় কর্মহীন ৩ হাজার পরিবারকে সহযোগিতা বালু উত্তোলনের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুড়িগ্রামে পরিবহণ শ্রমিকরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

‘হেফাজতের সহিংস নেতা-কর্মীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে’

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২১  

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় জড়িত হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানিয়েছেন মতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রবীণ সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। আজ শনিবার সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।

এ সময় শেখ সেলিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত, এরা ইসলাম ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। নামে হেফাজতে ইসলাম হলেও তারা ইসলামবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠি এবং দেশ ও জনগণের শত্রু। এদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। দরকার হলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাদের বিচার করতে হবে।

২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় হেফাজত ইসলামের ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার দ্রুত বিচার দাবি করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি যেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে না পারে আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করি। বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর জন্য অনেক কিছু আমরা সহ্য করেছি। আর সহ্য করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ সেলিম বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম। ইসলাম ধ্বংস করে না। বরং সৃষ্টি করে। হেফাজতের নামে যারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তাদের মা নেই।

বাংলাদেশকে অস্বীকারকারীদের দেশে থাকার অধিকার নেই উল্লেখ করে ফজলুল করিম সেলিম বলেন, যারা বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। দেশের অর্জন ও স্বাধীনতার গৌরবকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, হেফাজতের জঙ্গিরা যেসব মাদরাসা থেকে রাস্তায় বের হয়ে মানুষ হত্যা করে এবং বাড়িঘর ও স্থাপনায় আক্রমণ করে পুড়িয়ে দেয়। সেইসব মাদরাসাও বন্ধ করে দিতে হবে।

সরকারী দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখনো স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি। তারা সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানকে কলঙ্কিত করতে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা চালিয়েছে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে তারা চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তাণ্ডব চালায়। তারা থানা আক্রমণ করেছে। পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। তারা ১০ জন পুলিশকে বোমা মেরে আহত করে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার প্রতি যাদের বিন্দুমাত্র বিশ্বাস রয়েছে, তারা এই জঘণ্য কাজ করতে পারে না। তাদের এই বাংলাদেশে থাকারও অধিকার নেই।

রাজধানীর শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের সমাবেশের কথা উল্লেখ করে শেখ সেলিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে বিভিন্ন স্থানে বিনা কারণে কী তাণ্ডব তারা করেছিল। সেদিন খালেদা জিয়া বিএনপিকে হেফাজতের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বায়তুল মোকাররমে মসজিদে আক্রমণ করে। কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণ করে।

সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার ছবি দেখিয়ে শেখ সেলিম বলেন, এই জঙ্গিরা তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ার ওপর উঠে পেছনে শত শত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং সরকারি স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তাণ্ডব চালিয়েছে। ছবি দেখে মনে হচ্ছে প্রাচীনকালের মতো কোনো যুদ্ধে যাচ্ছে। এটা পাকিস্তান নয়। সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের বাংলার মাটিতে স্থান নেই। সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি বন্ধ করার প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, কারা এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ করে? যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তারা স্বাধীনতার কর্মসূচি বন্ধ করতে পারে না। বিএনপি-জামাত-হেফাজত এরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বিএনপি ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধেও যাইনি। কারণ তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। বিএনপির সংসদ সদস্যদের বাপ-দাদারা একাত্তরে কোন দলে ছিলো তা জনসম্মুখে প্রকাশের আবান জানান তিনি।

নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁকে প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ২০১৪ সালের ১৭ জুন নরেন্দ্র মোদি নির্বাচিত হওয়ার পর খালেদা জিয়া তাঁকে অভিনন্দন জানান। বিএনপি অফিসে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ জুন নরেন্দ্র মোদি প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসেন। খালেদা জিয়া ৭ জুন সোনারগাঁও হোটেলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বিগলিত হাসি দিয়ে হ্যান্ডশেক করেন। এখন সেই মোদি খারাপ হয়ে গেলো। এর ভেতর কী, তা দেশবাসী জানতে চায়।