• শনিবার   ০৮ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৪ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
আজ শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন দেশে ৯০০ টন অক্সিজেন মজুদ আছে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী খানসামায় করোনায় কর্মহীন ৩ হাজার পরিবারকে সহযোগিতা বালু উত্তোলনের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুড়িগ্রামে পরিবহণ শ্রমিকরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

৩২ বছর ধরে খবরের কাগজ বিক্রি করেন জলঢাকার আশরাফ 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২১  

জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে খবরের কাগজ বিক্রি করে চলছেন আশরাফ আলী (৬৩)।  তিনি ৩২ বছরের ধরে টানা রোদ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে জলঢাকার পাঠকদের মাঝে সংবাদপত্র বিক্রি করে যাচ্ছেন।

রংপুর থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কি: মি: পারি দিয়ে আসতে হয় তাকে। এতে ক্লান্ত নন তিনি। বর্তমানে করোনাকালীন সময়ে লকডাউন চলাকালে বাইসাইকেলে ১০০ কিলোমিটার পারি দিয়ে জলঢাকার মানুষের কাছে খবরের কাগজ পৌছে দিচ্ছেন। রংপুর বিভাগীয় শহরের আরাজি গুলাল গুদাই গ্রামে জন্মগ্রহণ তার। বাবা ছিলেন একজন  দিনমজুর।
অভাবের সংসারে ৩ ভাই ৪ বোনের সংসারে বাবাকে নিদারুণ কষ্ট করতে দেখছেন তিনি। বাবা আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পর এলোমেলো হয়ে যায় তাদের সংসার।

বড় ছেলে হিসেবে দায়িত্ব বর্তায় তার উপর। ১৯৮৯ সালে শুরু করেন সংবাদপত্র বিক্রির কাজ। এলাকা হিসেবে বেছে নেন জলঢাকাকে। দীর্ঘ সংবাদপত্র বিক্রির জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই পাড় করতে হয়েছে তাকে।
কখনো প্রচন্ড খরা রোদে কখনো বা ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পথে-প্রান্তরে পাঠকদের সংবাদপত্র পৌছে দেওয়াই যেন তার কাজ।

হরতাল, অসহযোগ আন্দোলনেও থেমে যাননি তিনি। রংপুর হতে জলঢাকায় এসে সংবাদপত্র মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছে দিয়েছিলেন সেসময়। খবরের কাগজ বিক্রি করে ৪ মেয়ে ১ ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন আশরাফ আলী। এরই মধ্যে ৩ মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন। ফারহানা নামের এক মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ছোট মেয়ে আমেনা এসএসসি পরীক্ষার্থী।

ছেলে হাসানুর করোনাকালীন কলেজ বন্ধ থাকায় সংসারের দেখভাল করেন। কথা হয় আশরাফ আলীর সাথে। তিনি জানান, দীর্ঘ ৩২ বছর যাবত জলঢাকার মানুষকে সংবাদপত্র দিয়ে আসছি। যৌবনকাল থেকে অদ্যাবধি জীবিকা হিসাবে এ পেশার সাথেই আছি। এতে করে অনেক সময় বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে। স্থানীয় হকারদের রক্তচক্ষু মাঝে মাঝে উপেক্ষা করে আসতে হয়েছে আমাকে। বাস বন্ধ থাকলে বাইসাইকেল যোগে ১০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয় আমাকে।

এতে আমার কোন ক্লান্তি নেই। যখন খবরের কাগজটি গ্রাহকের হাতে তুলে দেই তখন আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রংপুর থেকে জলঢাকায় আসার পথে ২ বার আমাকে ডাকাতদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। যতদিন বেঁচে আছি জলঢাকার মানুষের সংবাদপত্র দিয়ে সেবা করতে চাই।

এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও জলঢাকা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, আশরাফকে দীর্ঘদিন থেকে দেখছি সংবাদপত্র পাঠকদের দ্বারেদ্বারে পৌছে দিচ্ছেন।

প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টির দিনেও দেখেছি তাকে জলঢাকার অলিতে-গলিতে পাঠকদের সংবাদপত্র দিচ্ছেন। এ যেন এক নজিরবিহীন ঘটনা। কখনো থেমে যেতে দেখিনি তাকে।