• বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ক্ষমতায়ন ছাড়া সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত হবে না: প্রধানমন্ত্রী অপপ্রচারকারীদের কনস্যুলার সেবা দেবে না কানাডার বাংলাদেশ মিশন ‘দেশের ফুটবল দলকে বিশ্বকাপের উপযোগী করতে কাজ চলছে’ ট্রেনের ধাক্কায় ইউএনও অফিসের নৈশপ্রহরীর মৃত্যু ‘পলিথিন প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’

ভালো দাম পেয়ে হাসি মুখে ফিরেছেন কৃষক 

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২০ মে ২০২০  

 ভালো দাম পেয়ে হাসি মুখে ফিরেছেন কৃষক। অনেকেই ধান বিক্রির টাকা দিয়ে মাছ-মাংস আর তরমুজের মতো মৌসুমি ফল কিনে বাড়ি ফিরেছেন। এ চিত্র উত্তরাঞ্চলের ধানের অন্যতম বড় মোকাম বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রনবাঘা হাটের।

ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারেরা বলছেন, এক সপ্তাহ আগে এই হাটে মিনিকেট ও কাটারিভোগ জাতের ধানের মণপ্রতি দাম ছিল যথাক্রমে ৮৪০ থেকে ৯০০ এবং ৭৪০ থেকে ৭৫০ টাকা। আর ব্রি-২৮ জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৬৫০ টাকা দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের ধানের দাম গড়ে ১০০ টাকা করে বেড়েছে। গত মৌসুমে কাটারিভোগ ও স্থানীয় জাতের মিনিকেট ধানের দাম ছিল গড়ে প্রতিমণ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। আর ব্রি-২৮ ধান কেনাবেচা হয়েছিল ৫২০ থেকে ৫৫০ টাকা মণ দরে।
কৃষকেরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বাজারমূল্য ও ফলন দুটোই বেশি। গত বছর বাজারমূল্য ও ফলন দুটোই কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে বিঘাপ্রতি গড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এবার ফলন ও দাম দুটোই ভাল পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা।

গত শুক্রবার সকালে এই হাটে মণপ্রতি মিনিকেট হিসেবে পরিচিত সরু ধান ৯৮০ থেকে ১০১০ টাকা দরে এবং কাটারিভোগ জাতের সরু ধান ৮৫০ থেকে ৮৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ব্রি-২৮ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা দরে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার এক লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। অন্যবার এপ্রিল মাসের শুরুতেই ধানকাটা-মাড়াই শুরু হতো। এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ধানকাটার শ্রমিক সংকটের কারণে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। কৃষকের খেত থেকে ধান কাটা মাড়াই এখন শেষ প্রায়। হাট-বাজারে বোরো ধানের কেনাবেচাও এখন শেষের দিকে। এ কারণে ধানের দাম মণপ্রতি ১০০ টাকা বাড়লেও খুব বেশি কৃষক লাভবান হবেন না। কারণ অধিকাংশ কৃষকের ঘরে ধান বিক্রি প্রায় শেষের দিকে।

কৃষকেরা বলছেন, নন্দীগ্রাম উপজেলায় এবার ভারতীয় মিনিকেট জাত, কাটারিভোগ, ব্রি ধান-২৮, ব্রি ধান-৬২, বীনা-৭, ব্রি ধান-৫৮ জাতের বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। গড়ে প্রতি বিঘায় এবার ২০ মণ ধান ফলন হয়েছে। গত মৌসুমে ধানের ফলন ছিল ১৫ থেকে ১৭ মণ।

নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার এ উপজেলায় বোরোর ফলন ভাল হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশ বোরো ধানকাটা ও মাড়াই শেষ হয়েছে। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক ভাল দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন।

রনবাঘা হাটে কেনাবেচা হওয়া ধান যায় কুষ্টিয়ার খাজানগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি থাকলেও এবার হাটে ধানের আমদানির পাশাপাশি ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও বেশি। গতকাল এই হাটে ১০ মণ ধান বিক্রি করতে এসেছিলেন উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের কৃষক সহির আলী। তিনি বলেন, '১২ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। এর মধ্যে বেশির ভাগ জমি অন্যের কাছ থেকে পত্তনী নেওয়া। বোরো চাষের জন্য জমি পত্তনী খরচ বিঘাপ্রতি ৭ হাজার টাকা। এর বাইরে হালচাষ থেকে শুরু করে সার, কীটনাশক, সেচ ও কাটামাড়াই পর্যন্ত বিঘায় বোরোতে খরচ গড়ে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। সেই হিসাবে বিঘায় খরচ ২০ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে বোরোর ফলন হয়েছে ২৫ মণ। ৯৮০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে হাতে পেয়েছি ২৪ হাজার ৫০০ টাকা। বিঘাপ্রতি লাভ হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।'

কাথম গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন সরদার বলেন, '৮ বিঘা নিজস্ব জমিতে মিনিকেট জাতের বোরো আবাদ করেছি। কাটামাড়াই পর্যন্ত বিঘায় খরচ ১৭ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ধানের ফলন হয়েছে ২২ মণ। বাজারে ৯৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে বিঘায় লাভ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা।'

রনবাঘা হাটের আড়ৎদার ও আরিফ ট্রেডার্সের হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রায় একমাস ধরে হাটে নতুন ধানের আমদানি হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে মৌসুমের শুরুর দিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসতে না পারায় ধানের দাম ছিল গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এখন পাইকারদের ভিড় বেড়েছে।

রনবাঘা হাটের আড়ৎদার মাহবুব হোসেন বলেন, অধিকাংশ কৃষকের ঘরে বোরো ধান এখন শেষের দিকে। হাটে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় শুধু যাদের ঘরে ধান আছে, তাঁরাই লাভবান হচ্ছেন।

বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ বলেন, এবার বোরোর বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারমূল্যও ভালো। ফলে কৃষক বোরো চাষ করে ভালো লাভ করছেন।