ব্রেকিং:
দেশে নতুন করে লকডাউনের কোন চিন্তা-ভাবনা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • সোমবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৮

  • || ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

সর্বশেষ:
অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ুন- প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে মৈত্রী দিবস পালন করবে ঢাকা-দিল্লি রংপুরে এখন মঙ্গা নেই, উন্নয়ন দৃশ্যমান: বাণিজ্যমন্ত্রী হাবিপ্রবিতে ইউনিটভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু ট্রাকচাপায় ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত

গাইবান্ধার বাজারগুলোতে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন শাক-সবজি

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২১  

গাইবান্ধা জেলার হাট-বাজারগুলো আসতে শুরু করেছে শীতকালীন শাক-সবজি। তবে চড়া দাম হওয়ায় এর স্বাদ নিতে এসে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। লাগামহীন ঊর্ধ্বমূখী দাম নিয়ে বিপাকে স্বল্প আয়ের মানুষেররা।

রোববার (৭ নভম্বর) গাইবান্ধার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায় শীতের সবজিগুলোর আকাশচুম্বী দাম। চড়া দামের কারণে ক্ষুব্ধ ক্রেতরা।

গাইবান্ধার কাঁচা বাজারগুলোতে বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, মূলা ২৫ টাকা, সিম ১২০ টাকা, বটবটি ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, তরই ৪০ টাকা, লাউ ২৫-৫০ টাকা(প্রতি পিস) ধনিয়া শাক ২০০ টাকা, মূলা শাক ৩০ টাকা, পালং শাক ৫০ টাকা, লাল শাক ২৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, সরিষা শাক ৩০ টাকা, লাপা শাক ৪০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

শুধু শাক-সবজি নয়, ভোজ্য তেল ও জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্য সব ধরণের জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। লাগামহীন ঊর্ধ্বমূখী দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত্ব পরিবারের মানুষেররা। প্রতিনিয়ত সবজি ও অন্যান্য পণ্যের দাম অতিরিক্ত বেড়ে চলায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো।

জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলার মানুষেরা করোনা পরিস্থিতির ধকল না সামলিয়ে উঠতেই বয়ে গেছে বন্যা-ঝড় ও খরা। এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানকার অধিকাংশ পরিবার। এসব দুর্যোগ থেকে এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি কেউই। যার কারণে চরম অর্থ সংকটে ভুগতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় পরিবারের মৌলিক চাহিদা পুরণে তাদের দিনদিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঋণের বোঝা। তারা এখন কীভাবে তারা ঘুরে দাঁড়াবে এমন চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে। সবমিলে যেন মরার উপর খাড়া ঘা হয়েছে তাদের।

গাইবান্ধার পুরাতন বাজারে সবজি কিনতে আসা মমিনুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে করোনাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে বেড়েছে শীতের শাক-সবজি ও অন্যান্য পণ্য সামগ্রীর দাম। এতে করে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ছে তার।

খুচরা বাজারে সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতোমধ্যে শীতকালীন সবজি আড়তে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু পাইকারি দাম অনেক বেশী। তাই খুচরা বাজারেও বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শাক-সবজির দাম চড়া হওয়ায় ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই তাদের সঙ্গে বাঁকবিতন্ডা বাঁধছে। এ নিয়ে সমস্যায় পড়েছি।

সবজি চাষি নুরুল ইসলাম জানান, শীতের জন্য আগাম সবজির আবাদ করছিলেন। কিছুদিন আগে ঝড়-বৃষ্টির কারণে সেই ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। তাই উৎপাদন কম হওয়ায় শাক-সবজির দাম বেড়েছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক বেলাল উদ্দিন জানান, চলতি রবি মৌসুমে (শীতকালীন) ৯ হাজার হেক্টর জমিতে শাক-সজির চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ৪ হাজার ৮ হেক্টর।

তিনি আরও বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলে এবং আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেলে শাক-সবজির দাম কমতে পারে। এতে করে কৃষকরাও লাভবান হবেন, ক্রেতা সাধারণও পাবেন স্বস্তি।