• শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯

  • || ১৪ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
পঞ্চগড়ে পাঁচ হাজার গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা তিনমাস পর হারানো মোবাইল উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিল পুলিশ এসডিজি অর্জনে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: স্পিকার বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সৌদি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান পদ্মা সেতু চালুর পর দর্শনার্থীতে মুখর বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ

আলো ছড়াচ্ছে বেলালের ‘সেলুন পাঠাগার’

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২২  

নীরবে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুরের যুবক বেলাল হোসেন। নিজ বাড়ির উঠানে পাঠাগার তৈরির পাশাপাশি গ্রামের সাতটি সেলুনে প্রতিষ্ঠা করেছেন সেলুন পাঠাগার। চুল কাটাতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে সেলুনে বসেই বই পড়ছে সব বয়সের মানুষ। 

বেলালের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বইপ্রেমীরা। বিনামূল্যে বই পড়তে পেরে খুশি এলাকাবাসী। এই উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলছেন জেলা প্রশাসক। সমাজসেবার মাধ্যমে উদ্যোক্তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে রসুলপুর ইউনিয়নের ছান্দিয়াপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এখানকার সাতটি সেলুনে রয়েছে বিনামূল্যে বই পড়ার ব্যবস্থা। যেখানে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে চুল কাটাতে আসে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে তারা সেলুনের ভেতরে বসে বই পড়ছেন। আবার কেউ সেলুন থেকে বই নিয়ে বেঞ্চে বসে পড়ছেন। বই পড়ার এমন মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দেখে পথচারীদের দৃষ্টি যায় সেলুনে। ক্রমান্বয়ে বইপ্রেমী মানুষদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘সেলুন পাঠাগার’।

সেলুনে বসে বই পড়তে থাকা নাইম নামে এক যুবক বলেন, এই সেলুনে চুল কাটাতে এসে বই পড়ে সময় কাটানো যায়, বিরক্তি লাগে না। এমন উদ্যোগ সত্যিই অনেক ভালো লাগে। সময়টা কাটানোর পাশাপাশি জ্ঞানও আহরণ করা যাচ্ছে।

পাশে থাকা সুমন নামে এক কিশোর বলে, সেলুনে অনেক সময় ভিড় থাকে। সেই সময়টা অতিক্রম করতে পারছি বই পড়ে। শুধু আমি না, বন্ধুদের সঙ্গে এখানে বিনামূল্যে বই পড়তে আসি।

রফিক নামে এক যুবক বলেন, সেলুনে এসেই সিরিয়াল পাওয়া যায় না। একটু অপেক্ষা করতেই হয় । এ সময়টুকু বাহিরে নষ্ট না করে আমরা বই পড়ি। এতে আমি জ্ঞান অর্জন করতে পারছি।

চুল কাটাতে আসা রেজাউল ইসলাম নামে এক শিক্ষক বলেন, সুলতানা রাজিয়া পাঠাগারের উদ্যোগে এই সেলুন পাঠাগার চালু হয়েছে। এখানে অনেক ছাত্র আসে বই পড়ার জন্য। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামাঞ্চলে খুব একটা চোখে পড়ে না। এমন উদ্যোগ উন্নত মানসিকতার সৃষ্টি করতে সহায়তা করবে।  মেধাবী জাতি গঠনে এমন উদ্যোগ সব জায়গায় নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি। কারণ অনেকে সেলুনে গান শুনে, টিভি দেখে সময় পার করছে।

সেলুন পাঠাগারের উদ্যোক্তা বেলাল হোসেন বলেন, পাঠাগার আসলে জ্ঞানের ভান্ডার। এক সময় জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে বই পড়ার জন্য যেতাম। একপর্যায়ে ২০১৬ সালে  পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতায় এলাকায় সুলতানা রাজিয়া নামে একটি পাঠাগার স্থাপন করি। পরে চিন্তা করলাম চুল কাটাতে গিয়ে অনেকেই সেলুনে বা বাহিরে অলস সময় পার করে। সেক্ষেত্রে যদি সেলুনে বই রাখা হয়, তাহলে মানুষ বই পড়ে সময় কাটাতে পারবে। এমন চিন্তা থেকে সেলুন পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করি। এ পর্যন্ত গ্রামের সাতটি সেলুনে বই রাখা হয়েছে। লোকজন এখন সেলুনে বসে বই পড়ে সময় পার করছে। এই দৃশ্য দেখতে সত্যিই ভালো লাগে।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান বলেন, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজসেবার মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করা হবে। পাঠাগারের অবকাঠামো আরও সুন্দর করতে এবং অধিকসংখ্যক বই ক্রয় করে অসংখ্য বইপ্রেমী মানুষের পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।