• বৃহস্পতিবার   ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৯ ১৪২৯

  • || ০৯ রজব ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে মুসলিমদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, আমরা সবাই বাঙালি: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আইএমএফের ঋণই প্রমাণ করে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত: অর্থমন্ত্রী করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ৩.৮% প্রসারিত হয়েছে শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করার মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

লালমনিরহাট মুক্ত দিবস আজ

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২২  

লালমনিরহাট পাক হানাদার মুক্ত দিবস আজ ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এ দিনে লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত হয়। লালমনিরহাট শহরকে পাক হানাদার মুক্ত করতে তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলেন ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের আক্রমণে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বিপর্যয়ের মুখে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পরাজয় নিশ্চিত জেনে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পাক হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও তাদের দোসররা দুটি স্পেশাল ট্রেনযোগে রংপুর ও সৈয়দপুরে পালিয়ে যায়। ফলে লালমনিরহাট জেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়।

এর আগের দিন ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লালমনিরহাট রেলওয়ে রিকশা স্ট্যান্ডে পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের যোগসাজশে গণহত্যা চালানো হয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, বুদ্ধিজীবীসহ ৩৭৩ জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। তাদের মরদেহ রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি গণকবর।

দিবসটি উপলক্ষে লালমনিরহাট শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলোকসজ্জা করা হয়েছে, নির্মাণ করা হয়েছে তোরণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লালমনিরহাট অঞ্চল ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অধীনে। দেশের অভ্যন্তরে থাকা একমাত্র ৬ নম্বর সেক্টরটি ছিল পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী হাসর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন এম খাদেমুল বাশার। তার দক্ষ নেতৃত্বে ও সাহসী পদক্ষেপেই লালমনিরহাটে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, স্বাধীনতার ৫১ বছর পেরিয়ে গেলেও গণকবর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবহেলা অযত্নে পড়ে আছে। আমরা চাই গণকবরগুলো সংস্কার করে সংরক্ষণ করা হোক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আকমল হোসেন বলেন, ‘মুক্তিবাহিনীরা লালমনিরহাট শহরের দিকে আসতে থাকে। রাতে আমরা তিনদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলি। আমাদের আক্রমণে পালাতে বাধ্য হয় তারা। ৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় লালমনিরহাট শত্রু মুক্ত করে শহরে প্রবেশ করি। রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখি কয়লার চুলায় রান্না করা ভাত, মাছ ডাল রেখে পাক সেনারা রংপুরে পালিয়ে যায়।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন কমে গেছে। দিনদিন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন কমে যাবে।’

লালমনিরহাট জেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট মুক্ত দিবস পালিত হবে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে আলোচনা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ বলেন, ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট মুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেবেন।