• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৫ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

২৪ বছর পর ধরলা নদীতে নৌকা বাইচ দেখতে মানুষের ঢল

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

কুড়িগ্রাম সদরে ধরলা নদীতে দীর্ঘ ২৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ খেলা। নৌকা বাইচকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে ধরলার দুই তীরে। 

জেলা ও জেলার বাইরের শিশু-কিশোরসহ নানান বয়সের মানুষদের উপচে পড়া ভীড়ে নদীর দুই তীর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রিজের পূর্ব পাড়ে ধরলা নদীতে এ নৌকা বাইচের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় একটি মহিষ, দ্বিতীয় পুরস্কার একটি গরু ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ উপহার দেন আয়োজক কমিটি। 

সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছত্রপুর এলাকা থেকে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন ঝরু ব্যাপারি (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ। তিনি বলেন, আমার জীবনে আমি বহুবার নৌকা বাইচ দেখেছি। কুড়িগ্রামে নদীর সংখ্যা কমে যাবার কারণে এখন খেলাটি কম হয়। আজ যে নৌকা খেলা দেখলাম সেখানে এতো মানুষ হয়েছে, আমি জীবনে এত মানুষ দেখিনি। এতো মানুষের সমাগম দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছি। এরকম নৌকা খেলা প্রতি বছর হওয়ার দরকার।

ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছোট বড় মিলে ২২টি নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারির ঝাড় এলাকার ৭১ এর সৈনিক নামের নৌকাটি। ২য় স্থান অধিকার করেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার দুরন্ত পাখি নামের নৌকাটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদরের ধরলা ব্রিজ পূর্ব পাড় থেকে নৌকা বাইচের আয়োজন শুরু হয়। ১৫ দিন ব্যাপী এ খেলায় জেলা ও জেলার বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন নৌকা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের সাত ভাই এন্টারপ্রাইজ ও ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, দুরন্ত পাখি, ফুলবাড়ি উপজেলার বাংলা বাজার এন্টারপ্রাইজ, দশ বন্ধু, মামা ভাগ্নে, হলোখানা ইউনিয়নের দশের দোয়া ও একতা,গাজী সৈনিক, রৌমারী ও জামালপুর,ও গাইবান্দার তুফান তরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ৭১ এর সৈনিকসহ  অনান্য নৌকা।

নৌকা খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রামের একুশে পদক প্রাপ্ত ও বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী আবু সুফিয়ান পাভেল, কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ও যুবলীগ কর্মী মনিরুজ্জামান জনি শেখ প্রমুখ।

স্থানীয় আয়নাল হক নামের একজন বলেন, আমাদের ধরলা নদীতে নৌকা বাইচ হচ্ছে। জেলা এবং জেলার বাইরে থেকে হাজার হাজার লোকজন নৌকা খেলা দেখতে এসেছে। আমাদের এখানে নৌকা বাইচটি হওয়াতে আমি খুবই আনন্দিত। তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে এখানে। আমি চাই প্রতি বছর এই ধরলা নদীতে এরকম আয়োজন করা হোক।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা মাসুদ রানা নামের একজন বলেন, ধরলা নদীতে উৎসব মুখর পরিবেশে দীর্ঘ ২৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো নৌকা বাইচ। শহরে পাশে হওয়ার কারণে ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটে। খেলা দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছি। এরকম খেলা প্রতিবছর হওয়ার দরকার।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ভজু মিয়া বলেন, স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ধরলা নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আমি আসলে ভাবতেও পারছি না এই খেলায় এত মানুষের সমাগম হবে। এতো এতো মানুষের জনপ্রিয়তা পাবে। এ খেলাটিতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টানা ১১ দিন ধরে সার্বিক সহযোগিতা করেছি এবং সুষ্ঠুভাবে নৌকা বাইচ শেষ করে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছি। আশা করছি আগামী বছর আরও বড় পরিসরে নৌকা বাইচ খেলা উপহার দিতে পারব।