• শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯

  • || ১৪ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
পঞ্চগড়ে পাঁচ হাজার গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা তিনমাস পর হারানো মোবাইল উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিল পুলিশ এসডিজি অর্জনে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: স্পিকার বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সৌদি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান পদ্মা সেতু চালুর পর দর্শনার্থীতে মুখর বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সভাস্থলে আসছেন মানুষ

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২২  

বছর, মাস, সপ্তাহ, দিন অপেক্ষার পালা শেষে পদ্মাসেতুর স্বপ্ন ছোঁয়ার মাহেন্দ্রক্ষণ আজ শনিবার। কিছুক্ষণ পরই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণের দিন এটি। এদিন সকাল ১০টায় মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বেলা ১২টায় মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে দলীয় জনসভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগমন উপলক্ষে ভোর থেকে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন আশপাশের এলাকার মানুষ। 

বিভিন্ন জেলা থেকে বাস-লঞ্চে করে সমাবেশস্থলে আসছেন মানুষ। এর ফলে মূল সড়কে বাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে, তেমনি পদ্মায়ও দেখা গেছে বিভিন্ন সাজে সাজানো লঞ্চ-নৌকা। এ কারণে অনেকেই ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের ওপর নির্ভর করছেন। এসব ভ্যান বিকল্প রাস্তা দিয়ে জনসভাস্থলে যাচ্ছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে আসছেন কেউ কেউ। মোটরবাইকে করে ছুটেছেন অনেকে। 

আশপাশের মানুষ আসছেন হেঁটে। একদল মানুষকে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জনসভার দিকে যেতে দেখা গেছে। 

দলীয় স্লোগান দিতে দিতে খুলনা, শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। হাসিমুখে বিজয়ের চিহ্ন দেখিয়ে সবাই সমাবেশস্থলে ঢুকছেন।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বাঁশ ডিঙিয়ে কাউকে সমাবেশস্থলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নির্দিষ্ট প্রবেশপথ দিয়ে চেকিং শেষে মানুষকে জনসভায় ঢুকতে দিচ্ছেন তারা। ওয়াচ টাওয়ারে রয়েছেন পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। সমগ্র এলাকা সিসিটিভির আওতায় রয়েছে।

পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে পদ্মাসেতুর দুই প্রান্তের এলাকাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। মাওয়া প্রান্তে ঢাকা থেকে যাওয়ার পথে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু থেকেই রাস্তার দুই ধার সাজানো হয়েছে। বড় বড় ব্যানার ও সাইনবোর্ড শোভা পাচ্ছে। আর ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের একেবারে শুরু থেকে মাওয়া ঘাট পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে ওয়াল এবং আশপাশের বড় বড় বেশ কিছু ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

মাওয়া প্রান্তে পদ্মাসেতুর একেবারে গোড়ায় স্থাপন করা হয়েছে একটি বড় মঞ্চ ও প্যান্ডেল। পুরো প্যান্ডেলটি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। র‌্যাবের মহাপরিচালক  সভাস্থলটিও পরিদর্শন করেছেন।

জাজিরা প্রান্তে মূল জনসভাস্থলটিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এখানে মূল যে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে সেটি করা হয়েছে পদ্মাসেতুর স্প্যানের আদলে। আজ শনিবার এ মঞ্চে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা দেবেন। এখানে দশ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিশাল সংখ্যক মানুষের আগমন উপলক্ষে পুরো সভাস্থল প্রস্তুত করা হয়েছে। সভাস্থলে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে মানুষকে বসতে দেওয়া হবে। এজন্য বাঁশ দিয়ে আলাদা করে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।

পদ্মাসেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। পদ্মাসেতু প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।