• শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৭ ১৪৩১

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

‘ক্যান্টনমেন্ট থেকে গঠন হওয়া দল তো আর গণতান্ত্রিক হয় না’

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৩  

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ক্যান্টনমেন্ট থেকে যে দল গঠন হয়, সে দল তো আর গণতান্ত্রিক দল হয় না। সে দল সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য কাজ করে না। তারা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য কাজ করে, আর তা হয়েছেও ঠিক।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অসহায়দের মাঝে সমাজসেবার সহায়তা চেক, কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ এবং ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুফলভোগী জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, আমরা এরশাদ, খালেদা জিয়া, হাওয়া ভবন, লুটপাট দেখেছি। দেখেছি কীভাবে অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে আমাদের মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে ২১ বার হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, গ্রেনেড ও বোমা হামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেনি। এ কারণে দেশ থেকে দারিদ্র্য চলে যায়নি বরং আরও খারাপ অবস্থা হয়। তখন মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নের তেমন সুযোগ তৈরি হয়নি।  

দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে ফিরে দীর্ঘ ১৫ বছর সংগ্রাম করে করেছেন। ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখন দেশ স্বাধীনতার চেতনায় ফিরে গেল। সেই চেতনা হলো অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ তৈরির চেতনা, যেখানে মানুষ সুখে-শান্তিতে ও নিরাপদে থাকবে এবং মর্যাদা নিয়ে বাস করবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা ১৯৯৬ সালে মানুষের ভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেন। তখন থেকে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া শুরু হয়। মাত্র কয়েকদিন আগে ৪০ হাজার মানুষকে ঘর করে দিলেন তিনি। পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল। এ পর্যন্ত চার লাখ মানুষকে ঘর দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আজ তাদের ঘর আছে এবং কর্মসংস্থানের জন্য নানা উদ্যোগের বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আজ কৃষককে বীজ ও সার দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির আমলে সার চাওয়া হলে ১৮ জন কৃষককে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়। বিদ্যুৎ চাইছে, পানি চাইছে গুলি করে মানুষ হত্যা করতে হবে কেন? শেখ হাসিনা বলেছেন, সারের পিছনে কৃষককে ছুটতে হবে না, সার কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে। শেখ হাসিনা সব কথা রাখেন। তিনি বলেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ করবেন, তা করেছেন। এখন আপনাদের সবার হাতে হাতে মোবাইল। আজ মানুষ না খেয়ে থাকে না, সবার পরনে কাপড় আছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে ৩০ প্রকারের ওষুধ পাওয়া যায়। এই বাংলাদেশ শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়ে তৈরি করছেন।

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চাই থোয়াইহলা চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, হাইমচর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী, হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হুমায়ুন প্রধানিয়া, হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব রশীদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।