• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

– নীলফামারি বার্তা নিউজ ডেস্ক –

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৩  

২০০৮ সালের পর শান্তিপূর্ণ-গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যই বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এ যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদকপ্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। রবিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশে শান্তিপূর্ণ-গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে দেশের উন্নয়ন করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। আমরা আর অশান্তি, সংঘাত চাই না। আমরা সবার উন্নতি চাই।’

‘আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষের উন্নয়ন করেছে বলেই দারিদ্র্যর হার কমাতে পেরেছি। মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে পেরেছি। মানুষের আয়ুষ্কাল বাড়াতে পেরেছি। মানুষ আর ভিক্ষা করে চলবে না। নিজের মর্যাদা নিয়ে চলবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তিনি শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। শান্তির বাণী শুনিয়েছেন। কিন্তু তাকে জীবনটা দিতে হয়েছে।’

‘জাতির পিতার শান্তির নীতি মেনে চলি, মেনে চলতে চাই। বঙ্গবন্ধু ছাত্রজীবন থেকে নির্যাতিত মানুষের পাশে ছিলেন। সেই ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষের সময় ছাত্র শেখ মুজিব মানুষের পাশে ছিলেন।’

’৪৫ সালে দাঙ্গার সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সব সময় তিনি শান্তির পথে ছিলেন। শান্তির কথাই তিনি বলে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী উদ্ধৃত করেন, ‘‘জুলিও কুরি পদক গ্রহণের সময় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বিশ্বশান্তি আমার জীবন দর্শনের অন্যতম মূল নীতি। আমি সবসময় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে শান্তিকামী, মুক্তিকামী মানুষের পাশে ছিলাম। আমরা বিশ্বের সর্বত্র শান্তি স্থাপন করতে চাই। শান্তিকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই’।’’

‘শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বলেছিলেন, শেখ মুজিব শুধু বঙ্গবন্ধু নন, তিনি বিশ্ববন্ধু।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি সংবিধান উপহার দেন। এই সংবিধানে যেমন শান্তির কথা, তেমনি সেখানে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা স্পষ্ট করা হয়৷ তিনি সবসময় নিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাস করতেন।’

‘‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত। শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।’ তিনি শোষণমুক্ত পৃথিবী গড়তে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াবার আহবান জানিয়েছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই উন্নত সমৃদ্ধ হয়ে এই দেশ গড়ে উঠুক। আমি জানি, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, দেশের স্বাধীনতা চায়নি, প্রতিনিয়ত তাদের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন, জনগণই শক্তি, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমি সেই বিশ্বাসের বিশ্বাসী, আর সেই বিশ্বাস নিয়েই আমার পথচলা।’

‘বাংলাদেশ আজকে সারাবিশ্বে শান্তি রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে এক নম্বর দেশ হিসেবে শান্তি রক্ষা করে যাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশের মানুষ সব সময় শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নয়। মানুষের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বের সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে শান্তি পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, বিশ্বের শান্তির জন্য সর্বোচ্চ পদক হলো ‘জুলিও কুরি’ পদক। ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলিও কুরি পদক প্রদান করেন।

বঙ্গবন্ধু ছাড়া জুলিও কুরি পদকপ্রাপ্তির তালিকায় আছেন বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্বরা। তাদের মধ্যে আছেন ভারতের জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, কিউবার ফিদেল ক্যাস্ট্রো, চিলির সালভেদর আলেন্দে, ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত, ভিয়েতনামের হো চি মিন, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা, চিলির কবি পাবলো নেরুদা, যুক্তরাষ্ট্রের মার্টিন লুথার কিং।